বয়সটা সবে ১৮ ছুঁয়েছিল। চোখে ছিল রঙিন স্বপ্ন আর পরিবারের মুখে আরও একটু চওড়া হাসি ফোটানোর জেদ। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর জেদ অকালেই স্তব্ধ হয়ে গেল মুম্বাইয়ের এক নির্মীয়মান বহুতলের নিচে। রবিবার যখন অ্যাম্বুলেন্সে করে কফিনবন্দী দেহটা গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধান পাড়া বিমল হাটে পৌঁছাল, তখন গোটা গ্রাম যেন বাকরুদ্ধ।
বানারহাট ব্লকের সাকোয়াঝোরা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা বিবেক রায় মাস কয়েক আগেই পাড়ি দিয়েছিলেন মায়ানগরী মুম্বাইয়ে। বাড়িতে বাবা, মা আর একটি ছোট বোন। পরিবার যে খুব অভাবী ছিল তা নয়, কিন্তু বর্তমান সময়ের চাকচিক্য আর দ্রুত সচ্ছলতা পাওয়ার আশায় পড়াশোনা ছেড়ে শ্রমিকের কাজ বেছে নিয়েছিল বিবেক। গত সপ্তাহে সেখানে একটি বহুতল আবাসন নির্মাণের কাজ চলাকালীন ওপর থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। শনিবার মৃত্যুর খবর আসতেই শোকের ছায়া নামে এলাকায়। রবিবার দেহ ফিরতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিজনরা।
বিবেকের এই অকাল মৃত্যু ফের একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল এ রাজ্যের কর্মসংস্থানের কঙ্কালসার চেহারাটা। উত্তরবঙ্গের চা বলয় থেকে শুরু করে সমতল—প্রতিটি গ্রাম থেকেই দলে দলে যুবক কাজের সন্ধানে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন। কেউ নির্মাণ শ্রমিক, কেউ বা নিরাপত্তারক্ষী। বিনিময়ে ঘরে ফিরছে কফিনবন্দী নিথর দেহ।
গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দাদের প্রশ্ন, "আর কত প্রাণ এভাবে অকালে চলে যাবে? কেন এ রাজ্যের যুবকদের রুটি-রুজির টানে ঘর ছাড়তে হবে?"
সামনেই নির্বাচন। রাজনৈতিক দলগুলো আবারও দুয়ারে আসবে ভোট চাইতে। কিন্তু বিমল হাটের বাসিন্দারা এবার আর চটকদার প্রচার বা মিথ্যে প্রতিশ্রুতিতে ভুলতে নারাজ। বিবেকের মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের বিপর্যয় নয়, বরং তা বাংলার যুবসমাজের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের এক জলজ্যান্ত দলিল হয়ে রইল।
Migrant Worker Dies
ভিন রাজ্যে গয়ে মৃত্যু বানারহাটের পরিযায়ী শ্রমিকের
×
Comments :0