জয়ন্ত সাহা: নাটাবাড়ি
বলরামপুরের প্রবাদ প্রতিম ভাওয়াইয়া সঙ্গীত শিল্লী আব্বাসউদ্দিনের ভাঙাচোরা বাড়িটাই জানান দিচ্ছে, ভালো নেই নাটাবাড়ির সমগ্র অঞ্চল। তৃণমূল- বিজেপি কেউই গানের পাখি আব্বাসউদ্দিনের বাড়ি সংরক্ষণের কোনও উদ্যোগ নেয়নি।
সিপিআই(এম) প্রার্থী আকীক হাসান রবিবার ভোট প্রচারে গিয়েছিলেন বলরামপুরে। এলাকা ঘুরে আকীক হাসান চলে যাবার পর এলাকার বাসিন্দা, রাজীব দাস বলেন, গতবার এখান থেকেই ভোটে জিতেছিলেন বিজেপি’র মিহির গোস্বামী। জিতেই তিনি উধাও হয়েছেন। এলাকার মানুষ আব্বাস সাহেবের গানেই বলেন, এমএলএ সাহেব তো,‘ও কী বন্ধু কাজল ভ্রমরা রে, কোন দিন আসিবেন বন্ধু কয়া যাও রে...এমএলএ সাহেবের জন্য তো এই গানটাই গাইতে হয় আমাদের। সেই তাঁরা জিতে গেলেন, উনি তো আর এলেন না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া সীমা বর্মণ, গৃহবধূ নমিতা রায়দের রাগ কিছু কম নয় তৃণমূলের ওপরেও। সীমা বর্মণ নিজেও একজন ভাওয়াইয়া সঙ্গীত শিল্পী। তিনি জানান, ভাওয়াইয়া গান উত্তরবঙ্গের মাটির গান। কিন্তু সাধারণ মানুষ বলছেন এই গানকে মানুষই বাঁচিয়ে রেখেছে। রাজ্য ভাওয়াইয়া উৎসবের বরাদ্দ রাজ্য সরকার ৪০ লক্ষ থেকে কমিয়ে ১০ লক্ষ করে দিয়েছে। এ তো বঞ্চনা।
পানিশালার জহির মিয়া বলেন, মিহির গোস্বামীর আগে এই কেন্দ্র থেকে ভোটে জিতে তৃণমূলের রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ক্যাবিনেট মন্ত্রী হয়েছিলেন। লোকে বলে তিনি আর তাঁর ছেলে মন্ত্রিত্বের সুবাদে ফুলে ফেঁপে উঠলেও নাটাবাড়ির আর উন্নয়ন হয়নি। এবারে তিনি টিকিট পাননি। যে টিকিট পেয়েছেন তিনি প্রচারে এলে জানতে চাইবো, আগের প্রতিশ্রুতিগুলির কি হবে?
ভোট প্রচারে বেরিয়ে সিপিআই(এম) প্রার্থী আকীক হাসান রবিবার বলেন, তৃণমূল -বিজেপি
দুই দলের দুই বিধায়কের কেউই নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে একটি কলেজ পর্যন্ত গড়তে পারেননি। মিহির গোস্বামী কলেজ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েই জয়ী হন। অভিযোগ তারপর কোনও উদ্যোগ নেননি। বিধানসভা কেন্দ্রে নেই দমকল কেন্দ্র। ভরসা করতে হয় তুফানগঞ্জ আর দিনহাটার ওপর। এলাকার মানুষের দাবি মেনে নাটাবাড়ি বিধানসভা এলাকায় কলেজ ও দমকল কেন্দ্র গড়ায় গুরুত্ব দেব আমরা। এখানে একটা হিমঘর খুব প্রয়োজন। হিমঘরের দাবি তুলেছেন এলাকার মানুষও। হিমঘর গড়তেও অগ্রাধিকার দেব আমরা।
নাটাবাড়ি এলাকার অনেক ভোটারদের ক্ষোভ রাজ আমলের বলরাম মন্দিরকে ঘিরেও। কালের গহ্বরে হারিয়ে যাচ্ছে মন্দির। কেন পুরাতত্ব বিভাগ এটির সংরক্ষণ করবে না সেই প্রশ্নও উঠছে। পাশাপাশি ইতিহাস বিজড়িত শালবাড়ি বনাঞ্চলকে ঘিরে পর্যটনের সম্ভাবনাও মার খেয়েছে কেবলমাত্র সরকারের উদ্যোগের অভাবে।
ব্যবসায়ী সুখেন পাল বলেন, এমএলএ এলাকার মানুষের দাবিকে গুরুত্ব দেননি। কোচবিহার-১ ব্লকের ৬ গ্রাম পঞ্চায়েত এবং তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের ১০ গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র। রবিবার চিলাখানা,মারুগঞ্জ, ছাটগুড়িয়াহাটিতে প্রচারে গিয়ে সিপিআই(এম) প্রার্থী আকীক হাসান বলেন, গত ১৫ বছরে এই বিধানসভা কেন্দ্রের উন্নয়ন থমকে গিয়েছে।
Comments :0