People's Democracy

পিপলস ডেমোক্র্যাসি’র সম্পাদকীয়: স্বচ্ছ এবং জবাবদিহি চাওয়ার ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি

জাতীয়

 আরও বেশি স্বচ্ছ এবং জবাবদিহি চাওয়া যাবে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে সিপিআই(এম)-র কেন্দ্রীয় কমিটির মুখপত্র পিপল’স ডেমোক্র্যাসি’র সম্পাদকীয়তে। গত ১৯ আগস্ট প্রকাশিত এই পত্রিকায় সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, এমন ব্যবস্থাই হবে দেশের  হবে আমাদের গণতন্ত্রের প্রাণশক্তি এবং সাংবিধানিক কাঠামো রক্ষার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
সংসদের বাদল অধিবেশনের শেষের হওয়ার মুখে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংবাদমাধ্যমের সামনে হতাশার সঙ্গে প্রশ্ন তুলে বলেছিলেন, ‘লোকসভায় গিয়ে লাভটাই বা কী?’ গত ২০ জুলাই যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন ওপর দিল্লি পুলিশের বর্বরোচিত আক্রমণে অমিত শাহ’র ভূমিকা নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তুলেছিলেন বিরোধীরা। এই প্রশ্নে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে রাজি ছিলেন না শাহ। এর জেরে সংসদের উভয় কক্ষে বিরোধীদের তুমুল বিক্ষোভে বাদল অধিবেভেশন কার্যত ভণ্ডুল হয়ে গিয়েছিল। এই প্রেক্ষিতেই সেদিন শাহর গলায় হতাশার সুর শোনা গিয়েছিল। একথা উল্লেখ করে পিপল’স ডেমোক্র্যাসি’র সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে,  ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের মুখে দিল্লি পুলিশ যে নৃশংসতা দেখিয়েছে, তা ছিল নজিরবিহীন। নির্বিচারে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়া, এমনকি কাঁটা লাগানো লাঠি ব্যবহার করে ভয়াবহ লাঠি চালনো, পরিচয়পত্রহীন সাদা পোশাকের পুলিশ কর্মীদের মোতায়েনের কথাও এখানে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে  মহিলাদের গোপন অংশেও আঘাত করা হয়েছে, এমনকি পেলেট গান ব্যবহার করেছে পুলিশ। কোনও কৌশলই তারা বাদ দেয়নি। আন্দোলনকারীদের পরিচয় শনাক্ত করা এবং তাঁদের ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করার জন্য এক ধরনের ইলেকট্রনিক নজরদারি ব্যবস্থা। যা, অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে এই সম্পাদকীয়তে। দিল্লিতে পুলিশের হাতে ছাত্রদের যে ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে, তার জন্য কে দায়ী, লোকসভায় এসে সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সাংবিধানিক দায় অমিত শাহ’র ছিল। কারণ লোকসভাই তাঁকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে আসার সুযোগ করে দিয়েছে। ফলে প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে,  কথার মারপ্যাঁচে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার সুযোগ তাঁর ছিল না। একই সভাবে শাহ ২০২৫ সালে পহেলগামে মর্মান্তিক হামলা চালাতে কীভাবে সন্ত্রাসবাদীরা সেখানে ঢুকে পড়েছিল, সেই প্রশ্নের একইভাবে দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। ওই প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা।
এখানে উল্লেখ করা হয়েছে, এই ধরনের প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা অমিত শাহ’র মধ্যে এখন যেন একটি ধারাবাহিকতায় পরিণত হয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতি এখন বদলে গিয়েছে। যে জবাবদিহি তাঁকে করতেই হবে, তা থেকে আর মুখ ফেরানোর সুযোগ নেই শাহ’র। সরকার এখন কার্যত উভয় সঙ্কটে পড়েছে। বাব দিলে রাজনৈতিক বিপদ, আর নীরব থাকলে জবাবদিহির দাবিকে আরও শক্তিশালী করার ঝুঁকি রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীত্ব থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে বাধ্য হওয়াই প্রমাণ করে যে জবাবদিহির প্রশ্নকে আর অনন্তকাল এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। একথা উল্লেখ করে এই সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, আশা দেখা দিবেছে। যা এক ঝলক নির্মল বাতাসের মতো, ভয় ক্রমশ পিছিয়ে যাচ্ছে এবং মানুষ সম্মিলিত সাহস নিয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে ক্রমশ এগিয়ে আসছে। শুধু প্রশাসনিক ক্ষেত্রেই নয়, বিচারব্যবস্থাকেও এখন জনমতের চাপ অনুভব করতে হচ্ছে। নালসার ছাত্রদের আন্দোলনের কথাও এখানে উল্লেখ করা হয়েছে।পাশপাশি সফটওয়্যার ও অ্যালগরিদম ব্যবহারের মাধ্যমে অত্যন্ত অস্বচ্ছ পদ্ধতিতে ভোটার তালিকা থেকে প্রকৃত ভোটারদের বাদ দেওয়ার কথাও এখানে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রেও জবাবদিহির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার, ভোট দেওয়ার অধিকার, এভাবে ইচ্ছেমতো খর্ব করা যায় না। নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং সরকারের পাশাপাশি বিচারব্যবস্থার কাছ থেকেও জবাবদিহি দাবি করার যে নতুন পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, সেখানে নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহির দাবিও আরও জোরালোভাবে উঠছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সার্টিফিকেট থাকুক বা না থাকুক,  এই দাবি থেমে থাকবে না।

Comments :0

Login to leave a comment