জলপাইগুড়ি জেলার বানারহাট ব্লকের রেডব্যাঙ্ক চা বাগান থেকে চামুর্চি বাজার পর্যন্ত দীর্ঘ ৮ কিলোমিটার রাস্তা এখন কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটির বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক। দীর্ঘদিন ধরে কোনো সংস্কার না হওয়ায় পিচ-পাথর উঠে গিয়ে বড় বড় খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। আর তাতেই প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসনের উদাসীনতার বিরুদ্ধে এলাকার শ্রমিক ও সাধারণ বাসিন্দারা ক্ষোভে ফুঁসছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বেশ কয়েকটি চা বাগানের বুক চিরে চলে যাওয়া রাস্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে কয়েকশো ছোট-বড় গাড়ি, চা বাগানের লরি এবং নিত্যযাত্রীরা যাতায়াত করেন। চামুর্চি যাওয়ার এই বিকল্প রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে প্রায় প্রতিদিনই সাইকেল বা মোটরবাইক আরোহীরা উলটে গিয়ে আহত হচ্ছেন। বর্ষার মুখে এই খানাখন্দ গুলিতে জল জমলে পরিস্থিতি আরও মারাত্মক রূপ নেয় বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ক্ষুব্ধ পথচলতি ছোট গাড়ির চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন,রাস্তার এই দুরবস্থা নিয়ে এর আগে প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে দরবার করেও কোনো সুরাহা মেলেনি।এই পরিস্থিতিতে এলাকার ভুক্তভোগী মানুষের দাবি,নতুন ডবল ইঞ্জিনের সরকার এবং বিধায়ক যেন আর সময় নষ্ট না করে দ্রুত উদ্যোগী হন। জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন এই রাস্তাটি যাতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নতুন করে তৈরি করা হয়,সেই দাবিই তুলছেন চা বলয়ের সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় গাড়ি চালক রাজা ছেত্রী বলেন,‘‘এই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালানো মানেই নিজেদের জীবন বাজি রাখা।প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। শুধু প্রতিশ্রুতি মেলে, কাজ হয় না।’’
এলাকার এই জ্বলন্ত সমস্যা নিয়ে প্রশাসনের উদাসীনতার বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে সিপিআই(এম) নেতৃত্ব। বানারহাট এরিয়া কমিটির নেতৃত্ব অর্ধেন্দু রাহা বলেন, তৃণমূল পরিচালিত জেলা পরিষদ এবং কাটমানি সংস্কৃতির জেরেই আজ উত্তরবঙ্গের চা বলয়ের এই দুর্দশা। তার সাফ হুঁশিয়ারি— রাস্তা সংস্কারের দাবিতে এলাকার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও চা শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ করে অবিলম্বে বৃহত্তর আন্দোলনে নামা হবে। যদি দ্রুত জেলা পরিষদ ও স্থানীয় প্রশাসন রাস্তা মেরামতের কাজ শুরু না করে, তবে জেলা পরিষদ দপ্তরে ঘেরাও-বিক্ষোভের মতো জোরালো কর্মসূচি নেওয়া হবে।
অবশ্য এলাকার এই জ্বলন্ত সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিধায়ক পুনা ভেংগ্রা সমস্যা মেটানোর আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এলাকার ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের সাফ কথা, ‘‘আশ্বাস অনেক শুনেছি, এবার আমরা কাজ দেখতে চাই।’’ এখন দেখার, বিধায়কের এই আশ্বাসের পর সত্যিই রাস্তার ভোল বদলায়, নাকি রেডব্যাঙ্ক থেকে চামুর্চি বাজারের এই ৮ কিলোমিটার পথ আগের মতোই মরণফাঁদ হয়েই থেকে যায়।
Banarhat
রাস্তা খারাপ, ক্ষোভ বানারহাট এলাকার বাসিন্দাদের
×
Comments :0