Floor Crossing

জনপ্রতিনিধি কেনা যায়, নাগরিকদের নয়

বিশেষ বিভাগ স্পটলাইট

বরেণ সরকার
রাম রাজত্বের রাজনীতিতে এখন রোজ ঘোড়া কেনা বেচার খবর মিলছে। ঢাক-ঢোল, কাড়া-নাকাড়া আর কাসর ঘণ্টার মাঝে দেশের বাজারে বিধায়ক, সাংসদ জনপ্রতিনিধিদের কেনা বেচা চলছে রোজ। এই প্রসঙ্গে ‘ঘোড়া কেনা বেচা’ শব্দ বন্ধ ব্যবহার করেছেন বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি মাধব জামদার। নাগরিকের উপর পুলিশি হেনস্তা সংক্রান্ত মামলায় বিচারপতি জামদার মহারাষ্ট্রের সাংসদ কেনা বেচার হুল্লোড় নিয়ে সম্প্রতি পরিহাসের ছলে ‘ঘোড়া কেনা’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য,‘এই দেখুন দু’দিন আগে রাজ্যে ১০ বছরের একটা শিশু দুর্ঘটনায় মারা গেল। কিন্তু বিধানসভায় কি নিয়ে আলোচনা হলো? একজন প্রিসাইডিং অফিসার কিভাবে নির্বাচিত হলেন এবং তিনি আবার কত সহজে অন্য দলে চলে গেলেন, এটা হলো বিধানসভার আলোচনার বিষয়!’ এই দল বদল নিয়ে তাঁর প্রশ্ন, ‘এসব কি হচ্ছে?’ পুলিশের হেনস্তার অভিযোগকারী নাগরিকের উদ্ধেশ্যে বিচারপতির সরস মন্তব্য, ‘আপনি এরকম সাংসদ বিধায়কদের মতো দল বদলে ফেলুন! এখন তো সারা মহারাষ্ট্রে ঘোড়া কেনা বেচা চলছে।’ কোনও অসুবিধা নেই একটা ওয়াশিং মেশিন তো আছেই। ওয়াশিং মেশিনে সাফ সুতরো হয়ে বেরিয়ে এলে পুলিশ আর তার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নিয়ে এফআইআর দায়ের করবে না বলে মন্তব্যে বুঝিয়ে দিলেন বিচারপতি।
ঘোড়া কেনা বেচার প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে বিচারপতি জামদারের এজলাসে মামলা সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করা প্রয়োজন। মহারাষ্ট্রে সোশালিস্ট ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্পাদক সইদ আহমেদ আবদুল ওয়াহিদের বিরুদ্ধে পুলিশের শাস্তি নিয়ে মামলা শুনছিলেন বিচারপতি। পুলিশের খাতায় ওয়াহিদের অপরাধ তিনি কেন্দ্রের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সংগঠিত করেছেন। তা নিয়ে নিজের উদ্যোগে তিনি বিক্ষোভ মিছিল সভা সংগঠিত করেন। তিনি কেন্দ্রের নাগরিকত্ব আইন এবং জ্ঞানব্যাপী মসজিদ বিতর্ক নিয়ে বিজেপি সরকারের সমালোচনা করেছেন। পুলিশ তা চরম অপরাধ বলে গণ্য করে তার বিরুদ্ধে পাঁচটি এফআইআর দায়ের করে। সেই এফআইআরের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁকে এক বছরের জন্য এলাকা ছাড়া হয়ে নির্বাসিত থাকার শাস্তি দেয়। একে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন ওয়াহিদ। 
এই মামলায় অভিযোগ খতিয়ে দেখেন বিচারপতি। পুলিশের কাছে তাঁর প্রথম প্রশ্ন ছিল, কি কারণে ওয়াহিদকে এক বছরের জন্য এলাকা ছাড়া করে নির্বাসিত থাকতে বলা হয়েছিল? এর পরে তার পর্যবেক্ষণ, কোন নাগরিক সরকারের বিরোধিতা করছেন বলে পুলিশ তাকে এলাকা ছাড়া করে নির্বাসিত করতে পারে না। তিনি পুলিশের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, ‘এটা কি হচ্ছে? দেশের সব নাগরিককে দেশের সরকারের ক্রীতদাস বানানো হয়েছে নাকি? তাঁরা কোনও প্রতিবাদ করতে পারবেন না। তারা কোনও আন্দোলন করতে পারবেন না। এসব কি হচ্ছে?’ আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি একই সঙ্গে বলেন, ‘এই দেখুন এতো প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে। এবার মানুষ যদি তার প্রতিবাদ করে তবে কি পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে দেবে? প্রতিবাদ সংগঠিত করা নাগরিকদের অধিকার।’
এরপর ওয়াহিদার মামলায় তার আন্দোলনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনে তিনি তো শুধু বিজেপি সরকার মুর্দাবাদ, অমিত শাহ মুর্দাবাদের মতো স্লোগান দিয়েছেন। একজন নাগরিক এরকম স্লোগান দিতে পারবেন না কেন? আর এই স্লোগান দেওয়ার জন্য কেন তাঁকে নির্বাসনে পাঠাবে পুলিশ?’ বিচারপতি পুলিশের ভুমিকা কী হওয়া উচিত পর্যবেক্ষণে তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পুলিশ মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর চাকর নয়। তারা নাগরিকের সেবক। মামলার পুলিশ অফিসাররা এই হেনস্তা করায় তাদের জরিমানা করার কথাও শুনিয়ে দেন বিচারপতি। তিনি ফের বলেন, সরকারের কোনও সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করার জন্য কাউকে পুলিশ নির্বাসনে পাঠাতে পারে না। কারণ নাগরিকের তার নিজের মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং পূর্ণ মর্যাদায় বেঁচে থাকার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। তা নাগরিকের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার। এই মামলায় বিচারপতি মহারাষ্ট্রে বিজেপি সরকারের দল বদলে ঘোড়া কেনাবেচার প্রসঙ্গ তুলেই কটাক্ষ করেছেন, ‘আপনি শাসক দলে যোগ দিন। একটা ওয়াশিং মেশিন তো আছেই।’ তিনি ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দেন, শাসক দলে যোগ দিলে ওয়াশিং মেশিনে বহাল আছে। সব সাফ। পুলিশ আর এফআইআর দায়ের করবে না।
এবারে ঘোড়া কেনা বেচার প্রসঙ্গে আসা যাক। সংসদে শেষ পর্যন্ত তৃণমূল দল ছাড়লো হয়তো ২২ জন  সাংসদ। মাঝে মধ্যেই দর কষাকষিতে সংখ্যা ওঠানামা করছে বলে সবটা হিসাব রাখা সম্ভব নাও হতে পারে। যাই হোক এবারে মহারাষ্ট্রের সাংসদ কেনা বেচা চলেছে। তৃণমূলের মতোই এবার দলছুট শিবসেনা (ইউবিটি) সাংসদের সংসদে সদস্যপদ রক্ষার গ্যারান্টি মিলবে। দলত্যাগ আইনের কোপে পড়তে হবে না তাঁদের। এভাবে ফয়সালা হয়েছে বিজেপি’র সাংসদ কেনাকাটা পর্ব।
বিজেপি’র পশ্চিমবঙ্গের অপরেশন লোটাস এবং মহারাষ্ট্রের অপারেশন টাইগার মডেলে খুব একটা অমিল দেখা যাবে না। জানা যাচ্ছে, অপরেশন টাইগারে শিবসেনা (ইউবিটি) সাংসদ কিনতে মাথাপিছু দেওয়া হচ্ছে ৫০ কোটি টাকা। অগ্রিম দেওয়া হয়েছে ১৫ কোটি টাকা। সাংসদ কেনায় দেদার টাকা ঢালছে বিজেপি। শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা সঞ্জয় রাউত বুধবার এই অভিযোগ করেছেন। দিল্লিতে তড়িঘড়ি ডাকা দলের সংসদীয় দলের বৈঠক ছিল। সেই বৈঠকে শিবসেনা (ইউবিটি) দলের ৯ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে মাত্র ৩ জন উপস্থিত থাকলেও ৬ জন ছিলেন না। জানা গিয়েছে, বৈঠকে অনুপস্থিত ৬ জন সাংসদ তাঁদের দল ছাড়ার কথা জানিয়ে অধ্যক্ষকে চিঠি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁরা জানিয়েছেন, বিজেপি জোটে থাকা একনাথ শিণ্ডের শিবসেনায় তাঁরা যোগ দিচ্ছেন। এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ সাংসদ তাঁদের দল ছেড়ে অজানা এনসিপিআই দলে যোগ দেওয়ার কথা অধ্যক্ষকে জানিয়েছেন। 
বিজেপি’র শিবসেনা (ইউবিটি) সাংসদ কেনার খবর আগাম ফাঁস হয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি। দলের ৬ সাংসদ কিনতে অনুমানিক বিজেপি ৩০০ কোটি টাকা ঢেলেছে বলে জানাচ্ছেন রাউত। মহারাষ্ট্রে ক্ষমতায় আসতে বিজেপি একদফায় শিবসেনার বিধায়ক কিনে দল ভেঙেছে। তাই বৈঠকে সব সাংসদদের ডাকা হয়েছিল। ছিলেন অরবিন্দ সামন্ত, অনিল দেশাই এবং রাজাভাউ ওয়াজে। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন রাজ্যসভার দলের সাংসদ সঞ্জয় রাউত। যোগ দেননি নাগেশ অস্তিকর, সঞ্জয় দেশমুখ, সঞ্জয় দিনা পাতিল, সঞ্জয় যাদব, ওমপ্রকাশ রাজেনিবালকর, ভাউ সাহেব ওয়াক চৌরে। তাদের ভালো দামে বিক্রি হওয়ার খবর পাকা বলে জানিয়েছেন সঞ্জয় রাউত।
বিভিন্ন রাজ্যে ক্ষমতায় আসতে বিধায়ক কেনা বিজেপি’র পুরানো কৌশল। মহারাষ্ট্রে শিবসেনা দলের বিধায়ক কিনে সেই দল এক দফা ভেঙেছে। চার বছর আগে শিবসেনার বিধায়কদের কিনে নিয়ে উদ্ধব থ্যাকারের জোট সরকার ফেলে দিয়ে বিজেপি জোট সরকার গঠন করে। শিবসেনা ভেঙে দু’টুকরো হয়ে যায়। একনাথ শিণ্ডের শিবসেনা বিধায়করা বিজেপি জোটে যোগ দেন। বিধানসভা ভোটে বিজেপি’র বিরুদ্ধে লড়াই করে জয়ী হয়েছিলেন শিবসেনার ৫৮ বিধায়ক। তাঁদের মধ্যে ৩৭ জন বিধায়ককে বিজেপি কিনে নেয়। পরে সেই কেনা বিধায়ক নিয়ে রাজ্যে জোট সরকার গঠন করে বিজেপি। 
এবারে বিজেপি সংসদে বিল পাশ করাতে সাংসদ কেনায় নেমেছে। রাউত বিজেপি’র দল ভাঙানোর অভিজ্ঞতা স্মরণ করে বলেন, রাজ্যে বিভিন্ন মিডিয়ায় তাঁদের দলের সাংসদ কেনার রফা হয়েছে বলে খবর প্রচার হচ্ছে। তিনি সাংসদ পিছু ৫০ কোটি টাকা কেনার রফা হয়েছে বলে জানিয়ে দেন। সংবিধানের ১০ তফসিলে দলত্যাগী সাংসদের সদস্যপদ রক্ষায় পৃথক রাজনৈতিক দলে সদস্যপদ দেওয়ার যে আইনি বাধ্যতা রয়েছে কেনা সাংসদদের সদস্যপদ রক্ষায় তাকে এবারে ঢাল করছে বিজেপি। তাই কিনে নেওয়া সাংসদদের এবারে নতুন দলের সদস্যপদ নিতে দেখা যাচ্ছে। তাই তৃণমূল দলত্যাগী বিক্রি হওয়া সাংসদরা যোগ দিয়েছেন অজানা এনসিপিআই দলে এবং কিনে নেওয়া ৬ শিবসেনা সাংসদ যোগ দিচ্ছেন বিজেপি’র শরিক একনাথ শিণ্ডের শিবসেনা দলে। 
এদিকে বিজেপি’র এই ঢালাও সাংসদ কেনার তীব্র সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ। তিনি বলেছেন, সংসদে আসন পুনর্বিন্যাস বিল পাশে সংবিধান সংশোধনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। মোদীকে অমিত শাহ আশ্বাস দিয়েছিলেন সংখ্যা মিলে যাবে, কিন্তু মেলেনি সংখ্যা। এই বিল গত ১৭ এপ্রিল সংসদে আনা হলেও পাশ হয়নি। ৫৪২ আসনের সংসদে বিল পাশে ৩৬২ সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন ছিল। কিন্তু জোগাড় হয়েছিল মাত্র ২৯৮ সাংসদের সমর্থন। এই বিল ফের সংসদে পাশ করাতে এখন তাই সংখ্যা জোগাড়ে বিরোধী সাংসদ কেনার উদ্যোগ নিয়েছেন অমিত শাহ। রমেশ জানান, শাহ বিল পরাস্ত হওয়ার সেই অপমান ভুলতে পারছেন না। তাই এবারে দেদার সাংসদ কেনায় নেমে পড়েছেন। সব দল ভাঙাতে নেমে পড়েছে বিজেপি। তাদের এনডিএ জোটের এখন আসল নাম হয়েছে, ন্যাশনাল ডিফেকটর অ্যালায়েন্স বা জাতীয় দলত্যাগী জোট। রমেশ বলেন, যতই সাংসদ কেনার উদ্যোগ নিন শাহ, দুই- তৃতীয়াংশ জোগাড় হবে না। 
আবার সমাজবাদী পার্টির সাংসদের কেনার উদ্যোগও নিয়েছে বিজেপি। উত্তর প্রদেশে বিজেপি’র যোগী সরকারের মন্ত্রী ওমপ্রকাশ রাজভর সমাজবাদী পার্টির দল ভাঙছে বলে দাবি করেছেন। রাজ্যের উপ মুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য আরও স্পষ্ট করে বলেছেন, আমার কাছে খবর, সমাজবাদী পার্টির ২৫-২৬ জন সাংসদ দল ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দিচ্ছেন। তবে সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব পরিষ্কার জানিয়েছেন, দল ছাড়ার খবর পুরোটাই মিথ্যা। 
ক্ষমতা দখলে বিধায়ক ও সাংসদ কেনা বেচা বিজেপি’র অনেক পুরানো অভ্যেস। যদিও এই দলবদলে সরকার বদলের প্রক্রিয়া প্রথম দেখা যায় উত্তর প্রদেশে ১৯৬৭ সালে ১ এপ্রিল। সেই সময় কংগ্রেস দলে ছেড়ে বিরোধী দলে যোগ দিয়ে উত্তর প্রদেশে অকংগ্রেসী সরকার গঠন করেন চরণ সিং। সেই সরকার চলে চার বছর। এর পরে হরিয়ানায় দল বদলের সরকার গঠনে ইতিহাস তৈরি করেছে। আয়া রাম গয়া রাম সরকারের কথা উঠে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল সরকার তৈরি হওয়ার পরে মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে বিরোধী দল ভাঙিয়ে নেওয়ার বহু অভিযোগ রয়েছে। উপনির্বাচনে জেতা বিধানসভার একমাত্র কংগ্রেস বিধায়ককেও তারা দল পরিবর্তন করিয়েছিল। মুকুল রায় বিজেপি নাকি তৃণমূলের বিধায়ক তা নিয়ে বহু চর্চা চলেছে। সেই সব ইতিহাসকে এবারে হার মানিয়ে রামরাজ্যের হাটে বাজারে বিজেপি’র বিধায়ক, সাংসদ কেনা বেচার দেদার কারবার চলছে।। ১২ বছর আগে ২০১৬ সালে অরুণাচলে বিধায়ক কেনায় রেকর্ড করে বিজেপি। রাজ্যের ৪৩ জন কংগ্রেস বিধায়কদের মদ্যে ৪৩ জনকে কিনে নিয়ে নিজেদের সরকার গড়েছিল বিজেপি। এরপর মণিপুর ও গোয়াতে বিধায়ক কেনার একই ঘটনা ঘটিয়েছে বিজেপি। 
করোনার সময়ে মধ্য প্রদেশে দেখা গেল বিধায়ক কেনার ঘটনা। ২৩০ আসনের মধ্য প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ১১৪ আসন পেয়ে সরকার গঠন করে। তাদের সমর্থন জানায় ৪ নির্দল বিধায়ক এবং একজন সমাজবাদী পার্টির বিধায়ক। সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা কংগ্রেস সরকারের ২২ জন কংগ্রেস বিধায়ক কিনে নিয়ে সরকার ফেলে দিয়ে বিজেপি নিজেদের সরকার গঠন করে। 
এদিকে সাংসদ কেনা বেচা করে যে লক্ষ্যের দিকে বিজেপি এগচ্ছে তা হলো লোকসভায় সংবিধান সংশোধনে দুই তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন জোটানো। তৃণমূল এবং শিবসেনা (ইউবিটি) সাংসদ কেনার পরও এখনও সংখ্যায় পিছিয়ে আছে বিজেপি। ইতিমধ্যে বিরোধী দল আপের ১০ জন সাংসদের মধ্যে ৭জন সাংসদ কিনে নেওয়া হয়েছে। বিক্রি হয়ে যাওয়া সাংসদেরা সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়েছেন তারা সংসদীয় দলের দুই তৃথীয়াংশের বেশি সাংসদ বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। তাই তাদের সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে না। রাজ্যসভায় কেনাকাটা করে বিজেপি’র ১৫২জন সাংসদের সমর্থন রয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য দরকার মাত্র ৮ সাংসদ। পশ্চিমবঙ্গের তিন আসনে নির্বাচন হলে তা বিজেপি’র মিলবে। ফলে অনেকটাই এগিয়ে যাবে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গে যে প্রধান বিরোধী দল তা যে বিজেপি’র তৈরি বিরোধী দল তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। রাজ্যে বিরোধী দল তৃণমুলের বিধায়ক কেনার কাজ সহজেই করেছে বিজেপি। নানা অপরাধের অভিযোগ ঝুলে থাকা তৃণমূল বিধায়করা সহজেই চাপের কাছে নতি স্বীকারও করেছেন।
এই পরিপ্রেক্ষিতেই বোম্বে হাইকোর্টের বিচারপতির পর্যবেক্ষণ আবার স্মরণ করা যেতে পারে। তিনি শাসকের  উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘নাগরিকরা কি সরকারের ক্রীতদাস?  তারা সরকারের হুকুমে চলবে?’ মহারাষ্ট্র হোক বা পশ্চিমবঙ্গ অথবা দেশের যে কোনো প্রান্তেই বিক্রি হওয়া বিধায়ক সাংসদরা ক্রীতদাসের মতো বিক্রি হয়ে যেতেই পারেন। কিন্তু মানুষ ক্রীতদাস হবে না, তাদের কেনাও যাবে না। তাঁরা অন্যায়ের প্রতিবাদেই থাকবেন।

Comments :0

Login to leave a comment