‘‘জ্যোতি বসু বুঝিয়েছিলেন বিজেপি সাধারণ কোন রাজনৈতিক দল নয় ভারতের সব থেকে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির ধারক ও বাহক। আজকের দিনে সে কথা ভুলে গেলে চলবে না।’’
বুধবার জ্যোতি বসু সমাজচর্চা ও গবেষণা কেন্দ্রে আলোচনাসভায় একথা বলেছেন প্রবীণ সিপিআই(এম) নেতা বিমান বসু। তিনি বলেন, বিকেন্দ্রীকরণের নীতির গুরুত্ব বুঝেছিলেন জ্যোতি বসু। কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক পুনর্বিন্যাসের বিষয়ে গোটা জাতীয় স্তরের কনক্লেভের আয়োজনও করেছিলেন তিনি।
এদিন নিউ টাউনে জ্যোতি বসু সমাজচর্চা গবেষণা কেন্দ্রে হয়েছে প্রয়াত জননেতার ১১৩ তম জন্মদিবসের অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা জানিয়েছেন রবীন দেব। আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন বিমান বসু। বক্তব্য রাখেন প্রবীণ সিপিআই(এম) নেতা সূর্য মিশ্র ও রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, অধ্যাপিকা সঞ্চিতা সান্যাল।
সূর্য মিশ্র বলেন, ‘‘এত কম কথায়, একটি-দু’টি বাক্যে কোনও বিষয়কে বলতে পারতেন। কারণ মানুষের কথা অত্যন্ত সহজভাবে বলতে পারতেন। উনি বলতেন বিজেপি একটা অসভ্য বর্বর দল। একথা বলার জন্য শিরদাঁড়া লাগে, সাহস লাগে। তখন যদিও বিজেপি দুর্বল এরাজ্যে। ফলে আজকে কী ভাষায় আমরা কথা বলব বোঝা দরকার। জ্যোতি বসু তৃণমূল সম্পর্কে বলতেন সবচেয়ে বড় অপরাধ বিজেপি-কে বাংলায় ডেকে আনা।’’
বক্তব্য রাখছেন সূর্য মিশ্র।
রাজ্য প্রসঙ্গে মিশ্র বলেন, ‘‘পরিস্থিতির কারণ অনুসন্ধান করতে হবে। হতাশ হওয়ার কোনও জায়গা নেই। জ্যোতি বসু কখনও ভেঙে পড়েননি। শিরদাঁড়া সোজা রেখে লড়াই করেছে। এই পরস্থিতির মোকাবিলা আমরাই করতে পারি। আরও বহু বহু মানুষকে জড়ো করেই সেই কাজ করতে হবে।’’
সঞ্চিতা সান্যাল বলেন, ‘‘১৯৩৫ সালে বিলেতে জ্যোতি বসুর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছিল কিন্তু সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে তার সংযোগ হয়েছে এদেশের মাটিতেই। পরবর্তীতে ১৯৪০ এর দশকে দেশে ফিরে সরাসরি কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত হন। জ্যোতি বাবু কঠিন রাজনৈতিক আলোচনাকে সহজে তুলে ধরতে পারতেন মানুষের কাছে। মানুষ তা গ্রহণও করতেন।’’
বক্তব্য রাখছেন সঞ্চিতা সান্যাল
তিনি আলোচনায় জ্যোতি বসু গবেষণা কেন্দ্রে আর্কাইভ এবং মিউজিয়াম গড়ার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন।
এদিন জ্যোতি বসু সমাজচর্চা ও গবেষণা কেন্দ্রে আর্কাইভ, গ্যালারি ও মিউজিয়ামের প্রথম পর্বের উদ্বোধন করেন অদ্যাপক শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, ‘‘আমাদের ইতিহাস মুছে দেওয়া হচ্ছে। ইতিহাসকে উচ্চারণ করার দায় আমাদের এসেছে। ইতিহাসের গভীরে গিয়ে পুনরাবিষ্কার করার অঙ্গীকার। জ্যোতি বসুকে স্মরণ করে এই কাজ আমরা করতে পারি। ’’
বক্তব্য রাখছেন শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়।
Comments :0