এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই দেশে নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করেছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশের বৃষ্টির ঘাটতি ৩৮ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ শতাংশে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (আইএমডি)-র তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে মহারাষ্ট্র-সহ পশ্চিম ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রবল বর্ষণের জেরে এই উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
গত কয়েক দিনে মুম্বই, পুনে এবং মহারাষ্ট্রের একাধিক জেলায় রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত মুম্বইয়ের কোলাবা এলাকায় মোট ১,৩৮৩.৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৭৮.৪ শতাংশ বেশি। একই সময়ে সান্তাক্রুজে বৃষ্টির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১,৫৩০.২ মিলিমিটার, যা এই সময়ের গড় বৃষ্টিপাতের তুলনায় ৯৪.৪ শতাংশ বেশি।
শুধু মহারাষ্ট্র নয়, গত কয়েক দিনে গুজরাট, কোকাণ ও গোয়া থেকে শুরু করে মধ্যপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড এবং ওডিশাতেও মৌসুমি বৃষ্টি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই প্রভাবে ১ জুন থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত দেশের সামগ্রিক বৃষ্টির ঘাটতি নেমে এসেছে ১৫ শতাংশে।
আইএমডি-র তথ্য অনুযায়ী, ১ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ৩৮ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছিল। তবে গত এক সপ্তাহে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হয়ে ওঠায় সেই ঘাটতি ২৩ শতাংশ কমেছে।
উল্লেখ্য, চলতি মৌসুমে এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আবহাওয়াবিদদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সাধারণভাবে এল নিনো সক্রিয় থাকলে ভারতীয় মৌসুমি বৃষ্টিপাত দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক আবহাওয়া পরিস্থিতি সেই আশঙ্কাকে অনেকটাই প্রশমিত করেছে।
ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের প্রাক্তন আধিকারিক ও বিশিষ্ট আবহাওয়াবিদ কে. জে. রমেশের কথায়, এল নিনো থাকলেই যে পুরো মৌসুম জুড়ে বৃষ্টির উপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, এমন নয়। তার মতে, গত কয়েক দিনে আরব সাগর এবং নিরক্ষীয় ভারত মহাসাগরের জলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাষ্পীভবন বেড়েছে এবং ভারতীয় উপমহাদেশের দিকে প্রচুর আর্দ্রতা প্রবাহিত হয়েছে।
তিনি জানান, গত দশ দিনের মধ্যে একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে মধ্য ট্রপোস্ফিয়ারিক সাইক্লোন (এমটিসি) তৈরি হয়। একই সময়ে বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপও গড়ে ওঠে। এই দুই আবহাওয়া ব্যবস্থা পরস্পরকে শক্তি জুগিয়েছে, যার ফলে গুজরাট, গোয়া, মহারাষ্ট্র থেকে শুরু করে ওডিশা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় ভালো বৃষ্টিপাত হয়েছে।
কে. জে. রমেশের মতে, এই দুই আবহাওয়া ব্যবস্থা কার্যত এল নিনোর বিরূপ প্রভাবকে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় করে দেয়। তার ফলেই মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে দেশের বৃষ্টির ঘাটতি ২৩ শতাংশ কমে এসেছে, যা কৃষি, জলাধার এবং সামগ্রিক জলসম্পদের পক্ষে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Monsoon Season
এক সপ্তাহেই ৩৮% থেকে ১৫%-এ নেমে এল বৃষ্টির ঘাটতি, এল নিনোর আশঙ্কার মধ্যেই জোরালো দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
×
Comments :0