Banarhat

তিন প্রজন্মের বসবাস, মেলেনি পাট্টা, উলটে খাজনার বোঝা! আন্দোলনে গয়েরকাটার বাসিন্দারা

জেলা

তিন প্রজন্ম ধরে ভিটে আঁকড়ে বসবাস, অথচ আজও জোটেনি জমির নূন্যতম আইনি অধিকার। উল্টে অস্বাভাবিক হারে বাড়ানো হয়েছে লাইসেন্স ফি ও খাজনার বোঝা। জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের এই ‘তুঘলকি’ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ও পাট্টার দাবিতে আন্দোলনের পথে নেমেছেন বানারহাট ব্লকের গয়েরকাটার হাজার হাজার বাসিন্দা। ‘গয়েরকাটা উন্নয়ন সমিতি’-র ব্যানারে ইতিমধ্যেই জেলা শাসক ও জেলা পরিষদের কাছে গণদাবি জানানো হয়েছে। দাবি পূরণ না হলে আগামীতে বৃহত্তর সংগ্রামের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এলাকাবাসী।
জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন হাটগুলির মধ্যে গয়েরকাটা দ্বিতীয় বৃহত্তম। প্রায় ৭০-৭৫ বছর ধরে এই হাটের জমিতে লাইসেন্স নিয়ে বসবাস করছে বহু পরিবার। বাসিন্দাদের অভিযোগ, আগে ডেসিমাল প্রতি বাৎসরিক ২০ টাকা খাজনা দিতে হতো। কিন্তু ২০২৩ সাল থেকে কোনো আলোচনা ছাড়াই তা একলাফে ১০ গুণ বাড়িয়ে ২০০ টাকা করা হয়েছে। এই আকাশছোঁয়া ফি বৃদ্ধিতে নাভিশ্বাস উঠেছে প্রান্তিক মানুষের। স্থানীয় বাসিন্দা অপূর্ব বিশ্বাস জানান, তিন পুরুষ পার হলেও মেলেনি জমির বৈধ পাট্টা। ফলে অতি দরিদ্র পরিবারগুলি আপৎকালীন প্রয়োজনে কোনো ব্যাঙ্ক ঋণের সুবিধাও পায় না। ২০১৯ সালে আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদ যদি বাসিন্দাদের পাট্টা দিতে পারে, তবে জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদ কেন গড়িমসি করছে- সেই প্রশ্ন এখন গয়েরকাটার অলিতে-গলিতে।
তৃণমূল সরকারের এই দ্বিচারিতার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন এলাকার বিভিন্ন সংগঠন। উদ্বাস্তু সংগঠনের জেলা কমিটির সদস্য সঞ্জয় দাস কড়া ভাষায় বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেন, ‘‘তৃণমূল সরকার বড় বড় কথা বললেও বাস্তবের চিত্রটা ভয়ংকর। তিন প্রজন্ম বসবাসের পরও কেন আমাদের অধিকারহীন হয়ে থাকতে হবে? এই অস্বাভাবিক ফি বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। সরকার আমাদের ভূমিহীন করে রাখতে চাইছে। আমরা লড়াইয়ের ময়দান ছাড়ব না।’’

একই সুরে গয়েরকাটা উন্নয়ন সমিতির সদস্য বিশ্বজিৎ গাঙ্গুলী জানান, তাঁরা কোনো দাক্ষিণ্য নয়, বরং ন্যায্য অধিকার চাইছেন। পাশের জেলায় পাট্টা দেওয়া সম্ভব হলে জলপাইগুড়িতে কেন হবে না, তার স্পষ্ট জবাব চেয়েছে সমিতি। প্রবীণ শিক্ষক আশুতোষ দত্তের আক্ষেপ, আয়ের চেয়ে এখন খাজনার বোঝাই বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এলাকাবাসীর ক্ষোভের মূলে রয়েছে শাসক দলের লাগাতার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি। লোকসভা ও বিধানসভা উপ-নির্বাচনের সময় তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরা পাট্টা দেওয়ার ঝুড়ি ঝুড়ি আশ্বাস দিলেও ভোট মিটতেই তা হিমঘরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন, আর তার আগেই পুনরায় প্রবঞ্চনার শিকার হওয়ার আশঙ্কায় আন্দোলনের সুর চড়াচ্ছেন বাসিন্দারা।
আন্দোলনের তীব্রতা আঁচ করে জেলা পরিষদের সভাধিপতি কৃষ্ণা রায় বর্মন জানিয়েছেন, দাবিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে প্রশাসনের এই প্রথাগত ‘গদাই লস্করি চালে’ একেবারেই আশ্বস্ত নন গয়েরকাটার মানুষ। অধিকার বুঝে নিতে তাঁরা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকেও চিঠি পাঠিয়েছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত লড়াই জারি থাকবে বলে ঐক্যবদ্ধ শপথ নিয়েছেন গয়েরকাটাবাসী।

Comments :0

Login to leave a comment