নিউ আলিপুরে নেতাজীর মূর্তির হাত ভেঙেছিল দুষ্কৃতারা,এবারে মাথাভাঙা শহরে। মহকুমা শাসকের বাংলোর সামনের রাস্তার বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের মূর্তির চশমা উধাও হয়েছে।
পরপর মূর্তি ভাঙা, মূর্তি উধাও চলতে থাকায় স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন দুষ্কৃতীরাই সরিয়েছে কাজী নজরুল ইসলামের মূর্তির চশমাটি।
মাথাভাঙা কালচারাল সোসাইটি ২০২৫’র ২৫ শে মে মহকুমা শাসকের বাংলোর সামনের রাস্তায় কবিগুরু রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর এবং বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের আবক্ষ মূর্তি স্থাপন করেছিল। প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবসে ‘ট্রি কেয়ার‘ নামে একটি সংস্থা সেখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে। দুই কবির আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদানও করে।
‘ট্রি কেয়ার’ সংস্থার সহ সম্পাদক প্রদ্যুৎ সাহা বলেন,এবারেও আমরা স্বাধীনতা দিবসের সকালে পতাকা উত্তোলনের আগে দুই কবির আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদানের সময় লক্ষ্য করি বিদ্রোহী কবির আবক্ষ মূর্তির চশমাটি উধাও হয়েছে।এই ঘটনায় আমরা স্তম্ভিত।বিদ্রোহী কবির আবক্ষ মূর্তির ওপর এই হামলা সবার অলক্ষ্যে যারা করেছে তাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন।
মাথাভাঙা কালচারাল সোসাইটির সদস্য সাংবাদিক সন্দীপ বর্মন বলেন, সোমবার পুলিসের দ্বারস্থ হবো। ওই রাস্তায় সিসিটিভিও রয়েছে। পুলিশের কাছে আমরা দাবি করবো সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দুষ্কৃতীকে চিহ্নিত করা হোক।
মাথাভাঙা কলেজের অধ্যক্ষ ও বিশিষ্ট কবি-প্রবন্ধিক দেবাশিস দত্ত বলেন,কাজী নজরুল ইসলাম সারা পৃথিবীর বিদ্রোহী বকিদের অন্যতম। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কাছে কবির কবিতা ছিল অনুপ্রেরণা। কাজী নজরুল ইসলাম এদেশের সর্বহারা মানুষের আপনজন। যে বা যারা এই অপকর্ম করেছে তারা দেশের ইতিহাস,সংস্কৃতির ওপরে আঘাত করেছে।
বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী হিরন্ময় দাস বলেন, কবি আমাদের প্রাণের মধ্যে আছেন। তার মূর্তির ক্ষতি করে তাঁর সৃষ্টি,আদর্শকে ধ্বংস করা সম্ভব নয়। এই ঘটনা ভবিষতে যেন আর না ঘটে সেটা প্রশাসনের পাশাপাশি আমাদেরও লক্ষ্য রাখতে হবে।
Mathabhanga Najrul Islam
কবি নজরুলে আবক্ষ মূর্তি থেকে উধাও চশমা!
এই মূর্তি থেকেই চশমা তুলে নেওয়ার অভিযোগ মাথাভাঙায়।
×
Comments :0