Ram Mandir Theft Case : Supreme Court

রাম মন্দিরে তহবিল আত্মসাৎ, দু’সপ্তাহের মধ্যে দিতে হবে তদন্ত রিপোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট

জাতীয়

অযোধ্যা রাম মন্দির ট্রাস্টের প্রাপ্ত অনুদান আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা আবেদনগুলির শুনানি করে সুপ্রিম কোর্ট সোমবার উত্তর প্রদেশ সরকারকে বিশেষ তদন্ত দলে (এসআইটি) একজন ফরেনসিক অডিটর অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। আদালত এসআইটি-কে তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে একটি রিপোর্টও দাখিল করতেও বলেছে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনের সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ রাম মন্দিরের অনুদান আত্মসাতের অভিযোগে সিবিআই তদন্ত এবং শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের আর্থিক লেনদেনের নিরীক্ষার দাবিতে দায়ের করা বেশ কয়েকটি আবেদনের শুনানি করে। তদন্ত কমিটিকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলে সুপ্রিম কোর্ট জানায় অনুদান চুরির মামলার তদন্ত তদারকি করবেন দেশের আদালত।  
সলিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান, উত্তর প্রদেশ সরকার লখনউয়ের ইন্সপেক্টর জেনারেল এস. কিরণের নেতৃত্বে চার সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল গঠিত হয়েছে। বেঞ্চের পরামর্শে আদালত তদন্তে একজন ফরেনসিক অডিটর অন্তর্ভুক্ত করতে সম্মত হয়। আবেদনকারীদের পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট দেবদত্ত কামাত যুক্তি দেন যে, রাম মন্দির নির্মাণের জন্য সারাদেশ থেকে প্রাপ্ত অনুদান নিরীক্ষা করা উচিত এবং দাতাদের জন্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ট্রাস্টের প্রাপ্ত তহবিলের বিবরণ জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত।  জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন যে, আদালতের মনোযোগ বর্তমানে একটি দ্রুত ও মানসম্মত তদন্ত নিশ্চিত করার দিকে রয়েছে। তিনি বলেন, এসআইটি-কে তার রিপোর্ট জমা দিতে হবে, যার পরে স্বচ্ছতা এবং অন্যান্য সংশোধনমূলক ব্যবস্থা বিবেচনা করা হবে। এই মামলায় বিভিন্ন আবেদনে সিবিআই তদন্ত, ট্রাস্টের আর্থিক নথিপত্রের ফরেনসিক অডিট, অনুদান ও ব্যয়ের জনসমক্ষে প্রকাশ এবং সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা আবেদনের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী দেবদত্ত কামাত বলেন, রাম মন্দির নির্মাণের জন্য সারা দেশ থেকে প্রাপ্ত অনুদানের রসিদগুলো এসআইটি-র পরীক্ষা করা উচিত। তিনি বলেন, ‘‘মানুষ ৫০০ বা ১,০০০ টাকা দান করেছেন। কিন্তু এমন খবর পাওয়া যাচ্ছে যে এই টাকা ট্রাস্টে পৌঁছায়নি। ট্রাস্ট যা কিছু পেয়েছে, তা একটি ওয়েবসাইটে প্রদর্শন করা উচিত, যাতে মানুষ জানতে পারে তাদের টাকা কোথায় যাচ্ছে।’’
উল্লেখ্য, অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণ নিয়ে খোদ নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে যে উন্মাদনা তৈরি করা হয় দেশে-বিদেশে তার জেরে হাজার হাজার কোটি টাকা দিয়েছেন মানুষ। আরএসএস ঘনিষ্ঠ বড় বড় শিল্পপতিরা যেমন দিয়েছেন, তেমনই চলচ্চিত্র জগতের ‘স্টার’রাও কোটি কোটি টাকা দিয়েছেন। কিন্তু সবথেকে বেশি অর্থ দিয়েছেন দেশের কোটি কোটি মানুষ। দান করেছেন বিপুল পরিমাণ সোনা-রুপো সহ মূল্যবান রত্নের অলঙ্কার, বাসনপত্র। মন্দির কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় ওই দিন পর্যন্ত ট্রাস্ট ৪৫৭৫ কোটি টাকা পেয়েছে দানে। বিগত পাঁচ বছর নয় মাসে মন্দির নির্মাণ, রামজন্মভূমি পরিসরের বিস্তার, জমি এবং বাড়ি কেনার জন্য ২৪৭৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। তখন ট্রাস্টের হাতে ২১০০ কোটি টাকা ছিল। ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে মন্দির উদ্বোধনের পর থেকে যে হাজার হাজার দর্শনার্থী প্রতিদিন এসেছেন মন্দিরে, তারাও দানপাত্রে যে অর্থ দিয়েছে সেটাও বিপুল পরিমাণ। তার আলাদা করে কোনও হিসাব দেওয়া হয়নি। এই অবস্থায় এখন ভক্তদের দানের বিপুল অর্থ লুটের অভিযোগে দায়ের করা আবেদনগুলির শুনানি করে সুপ্রিম কোর্ট।

Comments :0

Login to leave a comment