EU Tax on Windfall Profit of Oil Companies

হরমুজ সঙ্কটে বিপুল মুনাফা, তেল বহুজাতিকের ওপর বাড়তি করের দাবি ইউরোপীয় ইউনিয়নে

আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধে বাড়তি বিপুল অঙ্কের মুনাফা করেছে বহুজাতিক বিভিন্ন তেল সংস্থা। অতিরিক্ত মুনাফার ওপর কর বসানোর দাবি তুলেছে ইউরোপের ছয় দেশ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৈঠকে এই বিষয়ে আলোচনার দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন পর্তুগাল, স্পেন, অস্ট্রিয়া, ইতালি, পোল্যান্ড ও জার্মানির অর্থমন্ত্রীরা। 
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েল গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল ইরানের ওপর। ইরানকে কাবু করতে পারেনি, কিন্তু, যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি ও সার পরিবহণে সঙ্কট তীব্র হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতিতেই তার প্রভাব পড়েছে। জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে বিশ্বের বিপুল অংশ। 
কিন্তু যুদ্ধের জেরে তেলের দাম বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে তেল সংস্থাগুলির অতিরিক্ত মুনাফা হয়েছে। 
তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ভারতীয় মুদ্রায় ৯,৫৭০ টাকার উপরে উঠেছে। বিশ্বের সমুদ্রপথে তেল ও এলএনজি বাণিজ্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে হয়।
গত মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯,৭৮১ টাকা পৌঁছেছিল। গোল্ডম্যান স্যাসের পূর্বাভাস, হরমুজ প্রণালিতে বাধা ২০২৭ সাল পর্যন্ত চললে চলতি বছরের শেষ ত্রৈমাসিকে তেলের দাম ব্যারেলে ১১, ৪৪৯ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। 
এদিকে পর্তুগাল, স্পেন, অস্ট্রিয়া, ইতালি, পোল্যান্ড ও জার্মানির অর্থমন্ত্রীরা এই পরিস্থিতিকে ‘কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সরবরাহ ধাক্কাগুলির অন্যতম’ বলে অভিহিত করেছেন। 
চলতি বছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সভাপতিত্ব করছে আয়ারল্যান্ড। আয়ারল্যান্ডের অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে ছয় দেশের অর্থমন্ত্রীরা বলেন, বিশ্বজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় মানুষের অসন্তোষ বাড়ছে। তাঁরা মনে করছেন, এই সংকট থেকে যারা লাভবান হচ্ছে, তাদের উচিত অতিরিক্ত মুনাফার ওপর বাড়তি হারে কর দেওয়া। 
জার্মানির নেতৃত্বে এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল, অতিরিক্ত মুনাফার উপর কর বসাতে গোটা ইইউ-জুড়ে একটি কাঠামো তৈরি করা। আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ইউরোপীয় ইউনিয়ন অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকের আলোচ্য সূচিতে বিষয়টি রাখার দাবি জানিয়েছে ছয় দেশ।
দারিদ্র্যবিরোধী বেসরকারি সংস্থাগুলির মঞ্চ অক্সফ্যামের হিসাব অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম, শেভরন, এনি, এক্সনমোবিল, শেল এবং টোটাল এনার্জিসের সম্মিলিত মুনাফা প্রায় ৪.৪৫ লক্ষ কোটি হয়েছে। বছরের শেষে এই মুনাফা ১৬.৩৩ লক্ষ কোটি টাকা পৌঁছতে পারে। 
ছয় দেশের বক্তব্য, মুনাফার স্বাভাবিক হার দশ শতাংশ। বাকি অংশের মুনাফায় অন্তত ৫০ শতাংশ ‘উইন্ডফল ট্যাক্স’ বসানো উচিত।
ইউরোপীয় ইউনিয়নে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সংকটের কারণে বিক্ষোভ হয়েছে একাধিক দেশে।  ২০২২ সালের গোড়ায় ইউক্রেন সংঘাতের পর রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ ধাপে ধাপে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত এই সংকটকে আরও বাড়িয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের গোড়ায় ইইউ-র অপরিশোধিত তেল আমদানির ২৭ শতাংশ এবং গ্যাসের চাহিদার ৪৫ শতাংশ পূরণ করত রাশিয়া। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস গত মাসে স্বীকার করেন, রুশ জ্বালানি আমদানি বন্ধ হওয়ার প্রভাব দেশের বর্তমান জ্বালানি সমস্যায় পড়েছে। তবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বার্লিনের অবস্থান পরিবর্তন করতে তিনি অস্বীকার করেন।
এদিকে রুশ এলএনজি আমদানি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নতুন রেকর্ড গড়েছে। ব্রাসেলস ভবিষ্যতে রুশ এলএনজি আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ করার লক্ষ্য ঘোষণা করলেও আমদানি বেড়েই চলেছে। আগস্টের গোড়ার দিকে ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে বেলজিয়াম তার এলএনজি চাহিদার পুরোটা রুশ সরবরাহের মাধ্যমে মিটিয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment