eye donetion

পিছিয়ে নেওয়া হচ্ছে রাজ্যকে: মায়ের চক্ষুদানে গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে সেলিম

রাজ্য

বুধবার আমির চাঁদ শেখ ও তাঁর পরিবারের মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ সভা কলকাতার মৌলালিতে।

প্রতিক্রিয়ার শক্তি বাড়ছে রাজ্যে। রাজ্যকে পিছিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সেজন্যই মৃত্যুর পর মায়ের চোখ দান করায় পরিবার সহ জেলে যেতে হয়েছে বিজ্ঞানকর্মীকে। 
কৃষ্ণনগরে বিজ্ঞানকর্মী ও পরিবেশ কর্মী আমির চাঁদ শেখের জেল প্রসঙ্গে এই মন্তব্য করেছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পুলিশের ভূমিকায় প্রতিবাদ জানানো হয়। গত বৃহস্পতিবার পরিবারসহ জামিন হয়েছে আমির চাঁদ শেখের।
এদিন কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলনে সেলিম বলেন, বামপন্থীরা বরাবর রক্তদান, চক্ষুদান বা দেহদানকে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করেছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু এবং বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মতো বহু বামপন্থীনেতা কর্মীর দেহ দান করা হয়েছে। বিজ্ঞানমনস্কতা বাড়ানোর পাশাপাশি তার প্রয়োজনও আছে। তিনি বলেন, বিজ্ঞানমনস্কতা প্রসারের বদলে কুসংস্কারকে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।
উল্লেযখ্য, গত সোমবার পুলিশ জেলে নেয় আমির চাঁদ এবং তাঁর পরিবারকে। মায়ের চোখ দান করার পর স্থানীয় একাংশ বিক্ষোভ দেখায়, দেহাংশ পাচারের অভিযোগ তোলে। বিজ্ঞানকর্মীরা বলেছেন, মৌলবাদী চিন্তায় আচ্ছন্ন একাংশের উসকানিতে হয় বিক্ষোভ। কিন্তু পুলিশ পরিবারকে রক্ষা করার নামে তুলে নিয়ে গারদে ঢোকায়। অথচ ময়নাতদন্তেই বেরিয়ে যায় দেহাংশ পাচার হয়নি। মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ কর্নিয়া গ্রহণও করেছে।
এদিন কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলনে সেলিমের সঙ্গে ছিলেন সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। তাঁকে দেখিয়ে সেলিম বলেন, বেবি যখন ডিওয়াইএফআই সভাপতি এবং আমি সম্পাদক, তখন থেকেই মরণোত্তর চক্ষুদান জনপ্রিয় করার কাজ করেছে এই যুব সংগঠন। বামপন্থীরা সর্বদা একাজ করেছে। জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের দেহদান হয়েছে। রাজ্যটাকে কিভাবে পিছিয়ে নেওয়া হচ্ছে বোঝাচ্ছে এই ঘটনা।
সেলিম বলেন, আন্দোলনের জেরে সংসদে স্বেচ্ছায় অঙ্গ দানের বৈধতা সংক্রান্ত আইন হয়েছে। কতটা অপদার্থ পুলিশ প্রশাসন এবং পুলিশ মন্ত্রী, যে আইন ভেঙে চক্ষুদান করেছে যে পরিবার তাঁদেরই গ্রেপ্তার করেছে। তিনি বলেন, কুসংস্কারকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আমাদের রাজ্যে একাজ করা হচ্ছে। যারা প্রগতিশীলতার পক্ষে থেকে মমতা ব্যানার্জির দলকে সমর্থন করেন তাঁদের দেখা দরকার কিভাবে প্রতিক্রিয়াশীল মনোভাব বাড়ছে। এই পুলিশকে কান ধরে ওঠবোস করাতে হয়। 
সেলিম বলেন, মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর নামে হোর্ডিং হয়। রক্তদান, দেহদান নিয়ে ক’টা হোর্ডিং হয়?
উল্লেখ্য, কৃষ্ণনগরের ঘটনায় রাস্তায় নামে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ, গণদর্পণ সহ বিভিন্ন সংগঠন প্রতিবাদ সংগঠিত করে। প্রচারও করে।

Comments :0

Login to leave a comment