প্রতিশ্রুতিই সার। শিলিগুড়িবাসীকে সার্বিক উন্নয়ন স্তব্ধতা থেকে মুক্তি দিতে কোন সঠিক দিশার উল্লেখ নেই বাজেটে। শুক্রবার দুপুরে শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশনের মেয়র ২০২৬—২০২৭ সালের ৬৩৮কোটি ৪২লক্ষ টাকার বাজেট প্রস্তাব পেশ করেছেন। ১০ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকার ঘাটতি বাজেট পেশ করা হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশনের ২০২৬—২০২৭ অর্থ বর্ষের বাজেটে। তৃণমূল বোর্ডের এই ঘাটতি বাজেট পেশ প্রবল সমালোচনা মুখে পড়েছে সিপিআই(এম) ও বিরোধী কাউন্সিলারদের।
মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও পৌর বোর্ডের পেশ করা বাজেটের মধ্যে বিস্তর ফারাক দেখা যাচ্ছে বাজেটে। মেয়রের পেশ করা বাজেটকে ‘শিলিগুড়ি কর্পোরেশনের নয়, রাজ্য সরকারের কয়েকটি প্রকল্পের ঘোষণা মাত্র’ বলে মন্তব্য করেছেন বামপন্থী কাউন্সিলার মুন্সী নুরুল ইসলাম। এদিনের বাজেট সভায় সিপিআই(এম)’র আরও তিনজন কাউন্সিলার জয় চক্রবর্তী, মৌসুমী হাজরা ও দীপ্ত কর্মকার উপস্থিত ছিলেন। যদিও মেয়রের দাবি পেশ করা বাজেট জনমুখী।
এদিন মুন্সি নুরুল ইসলাম বলেন, এটা কোন বাজেটই নয়। মুখ্যমন্ত্রীর পাঁচালি। কর্পোরেশনের বাজেটে শিলিগুড়ি শহরের কথা নেই। শহরে ১০ লক্ষ মানুষের বাস। ৪২ বর্গকিমি এলাকা নিয়ে এই শহর। শহরে প্রতিদিন বাইরে থেকে দুই আড়াই লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটে। সঠিক পরিকল্পনা করে শহরের পরিকল্পনা উন্নয়ন পরিষেবা উন্নত করা, নতুন চিন্তাভাবনা, পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোন কিছু বাজেটে নেই। অনেক প্রসঙ্গ বাজেটে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এই বাজেটের বেশীরভাগটা জুড়েই আছে রাজ্য সরকারের প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে। কর্পোরেশনের কোন প্রস্তাব পরিকল্পনা নেই। প্রতিবছরই বাজেটের নামে উন্নয়নের ফানুস ওড়ানো হয়ে থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বাজেট পেশ করা হচ্ছে। মানুষের কল্যানে এই বাজেট নয়। কিছু সংখ্যক গাছ লাগানো হলেই শিলিগুড়ির পরিবেশ রক্ষা করা হবে না। শিলিগুড়ি ক্রমশই বিষ চাদরে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। এর হাত থেকে বাঁচিয়ে শহরকে মানুষের বাসযোগ্য করার ক্ষেত্রে কোনরকম পরিকল্পনা নেই বাজেটে। পেশ করা বাজেটে পৌর কর্মচারীদের চার শতাংশ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম বলেন, কর্পোরেশনের কর্মচারিদের বেতন বৃদ্ধির নামে ঠকানো হয়েছে। বিগত বামফ্রন্ট সরকারের সময় সিদ্ধান্ত হয়েছিলো প্রতিবছর ১০ শতাংশ করে এদের বেতন বৃদ্ধি করা হবে। প্রথম ওরা বোর্ডে আসার পর ১০ শতাংশ বেতন বাড়ানো হলেও বিগত চার বছরে কোন বেতন বৃদ্ধি করা হয়নি। কিন্তু আপাতদৃষ্টিত তিনি প্রমান করতে চাইছেন তিনি কর্মচারিদের বন্ধু। পৌর কর্মচারিদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। এই বাজেট একটি দিশাহীন বাজেট। উন্নয়নের কোন লক্ষ্য নেই। আদৌও এই বাজেট বাস্তবায়িত হবে না। ফলে আজকে যে বাজেট পেশ করা হয়েছে তার কোন বাস্তব ভিত্তি নেই। যে সমস্ত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল সেই বিষয়গুলি নিয়ে কোন উল্লেখ নেই।
Siliguri Corporation
সার্বিক উন্নয়নের দিশা নেই শিলিগুড়ির পৌর কর্পোরেশনের বাজেটে
×
Comments :0