HS CANDIDATE

বাবাকে হারানোর যন্ত্রনা বুকে নিয়েই পরীক্ষার হলে বীরভূমের আজিজা খাতুন

জেলা

ছবি-পরীক্ষা কেন্দ্রের পথে শোকাতুর আজিজা।

ঘরজুড়ে কান্নার রোল। স্বজনহারানোর আর্তনাদ ঘরময়। শোকে ঢাকা সেই ঘরের মেয়ের দু-চোখ বেয়ে অবিরত গড়িয়ে পড়েছে জল। শোকে পাথর হয়েও ইচ্ছাশক্তিকে বিসর্জন দেননি। বাবাকে চিরতরে হারানোর যন্ত্রনা বুকে নিয়েই পরীক্ষা দিয়েছেন আজিজা। ভোরে পাঁচটায় বাবার মৃত্যু সংবাদ এসেছে। দশটা পরীক্ষা হলে পৌছেছেন আজিজা।
বীরভূমের ইলামবাজার ব্লকের বাতিকার পঞ্চায়েতের ইক্ষুসারা গ্রামের মেয়ে আজিজা খাতুন। শুক্রবার ছিল উচ্চ মাধ্যমিকের ইংরাজী পরীক্ষা। কিন্তু তাঁর কয়েক ঘন্টা আগেই ভোর পাঁচটা নাগাদ আজিজার বাবা আজাদ শেখের মৃত্যু সংবাদ এসে পৌছায় বাড়িতে। গোটা পরিবারে নিমেষে ছেয়ে যায় শোকের ছায়া। প্রাণের প্রিয় বাবাকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হন মেয়ে আজিজা। তবে বাবার স্বপ্নকে সার্থক করারও জেদ রয়েছে আজিজার মনে। তাই বুকভাঙা যন্ত্রনা নিয়ে সে সিদ্ধান্ত নেয়, পরীক্ষা দেবেই। আজিজার বাবা শেখ আজাদ গত এক সপ্তাহ ধরে পায়ের যন্ত্রণায় ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রথমে তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। কিন্তু শুক্রবার ভোর পাঁচটা নাগাদ সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। একদিকে পিতৃবিয়োগের তীব্র যন্ত্রণা, অন্যদিকে বাবার স্বপ্নকে সার্থক করার লড়াই— এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আজিজা নিজেকে শক্ত করে নেন। রওনা দেন ইলামবাজারের চুনপলাশী উচ্চ বিদ্যালয়ের দিকে। অভেদানন্দ বিদ্যাপীঠের এই ছাত্রীর এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও অদম্য ইচ্ছাশক্তি প্রশংসা কুড়িয়েছে সকলের। কাকা মোজাম্মেল হক আজিজা কে সাথে করে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ে এসে জানিয়েছেন, ‘ভোরে ভাই মারা যাওয়ার পর আমরা সবাই দিশোহারা হয়ে পড়েছিলাম। আজিজা কে জিজ্ঞেস করেছিলাম পরীক্ষা দেবে কি না ? প্রথমে খুব ভেঙে পড়লেও শেষমেশ সে ঠিক করে পরীক্ষা দেবেই।’’  জলে ভেজা দু-চোখ ঝাপসা হয়েছে থেকে থেকেই, কিন্তু তাতে থামেনি আজিজার কলম। আজিজার লেখা শেষ হওয়ার অপেক্ষা করছিল তাঁর বাবার নিথর দেহ। পরীক্ষা শেষ হয়েছে। আজিজা বাড়ি ফিরেছে। শেষবারের জন্য আজিজা দেখেছেন তাঁর বাবাকে। অবশেষ হয়েছে শেষকৃত্য।

Comments :0

Login to leave a comment