নদীয়ার নাকাশীপাড়ার দাপুটে কংগ্রেস নেতা আনিসুর রহমান এবং তাঁর পুত্র আবু সুফিয়ান খুনের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। (দেখুন: নদীয়ায় কংগ্রেস নেতা ও তাঁর ছেলেকে গুলি করে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ)
অভিযুক্ত ফতেমা বিবি, সাহেব আলী ও মিঠু শেখকে রবিবার কৃষ্ণনগর আদালতে পেশ করে পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে আসামিদের দশ দিনের পুলিশ হেপাজতের আবেদন জানানো হয়।
এদিন বিচারক এসসিজেএম অশোক হালদার উভয় পক্ষের সওয়াল শুনে ন'দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
গতকাল, শনিবার, ১৫ আগস্টের সন্ধ্যায় নিজের চারচাকা গাড়ি করে ছেলেকে নিয়ে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন এই কংগ্রেস নেতা। পথ মধ্যে নাগাদি রেলগেট এলাকায় অতর্কিতেই তাঁদেরকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়িই গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। শুধু গুলি করেই ক্ষান্ত হয়নি। মৃত্যু নিশ্চিত করতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়েছে দুজনকেই। রক্তাক্ত জখম অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় বেথুয়াডহরি হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তাররা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ময়না তদন্তের জন্য মরদেহকে কৃষ্ণনগর জেলা শক্তিনগর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানেই ময়নাতদন্ত হয়।
হত্যাকাণ্ড ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সংবাদ মাধ্যমের কর্মীদের সামনে আদালতে ঘটনার মূল মাথা নাকাশি পাড়ার হরনগর এলাকার তৃণমুল দুষ্কৃতী জুব্বার শেখের নাম বলতে শোনা যায়। যদিও একাধিক অপরাধমূলক কাজের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে, বর্তমানে সে জেল হেফাজতে রয়েছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে ফতেমা বিবি জুব্বার শেখের স্ত্রী স্থানীয় হরনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত প্রধান। অপর অভিযুক্ত সাহেব আলী কৃষ্ণনগর আদালতে দীর্ঘদিন ল ক্লার্ক হিসেবে পেশায় নিয়োজিত।
ঘটনার পর প্রদেশ কংগ্রেস রাজ্য সভাপতি শুভঙ্কর সরকার সহ রাজ্য ও জেলার কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ হাসপাতালে আসেন। কংগ্রেস কর্মীরা দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখান। ঘটনায় অভিযুক্ত সকল আসামিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের জোরালো দাবি তোলেন তারা।
পুলিশের অভিযুক্ত সকলকেই গ্রেপ্তার করার জন্য জোরালো তল্লাশিতে নেমেছে বলে জানা গিয়েছে।
Three Held in Congress Leader, Son Murder at Nadia
নাকাশিপাড়ায় পুত্রসহ কংগ্রেস নেতাকে হত্যায় ধৃতদের ৯ দিন হেপাজত
×
Comments :0