Assembly 2026 Uttar Dumdum

উত্তর দমদম: জলযন্ত্রণা থেকে এসআইআর, উদ্বাস্তু এলাকায় প্রচার দীপ্সিতার

রাজ্য জেলা বাংলা বাঁচানোর ভোট

জনতার মাঝে চলে যাচ্ছেন অনায়াসে। বিরাটিতে প্রচারে দীপ্সিতা ধর। ছবি ও ভিডিও: প্রিতম ঘোষ

অরিজিৎ মণ্ডল: বিরাটি

খলিসাকোটা ও ফরিদপুর। ওপার বাংলার এক টুকরো যেন এই তল্লাটে। 
দেশভাগের সময়েই বহু মানুষ এপারে চলে এসেছিলেন। এই এলাকায় উদ্বাস্তু পরিবার বহু। ওপারে নিজেদের এলাকার নামেই এপারের এক টুকরো নাম রেখে ছিলেন সেই ছিন্নমূল মানুষ। তেমনই এই খলিসাপোতা বা ফরিদপুর।
উত্তর দমদম বিধানসভার এই এলাকা উত্তর দমদম পৌরসভার মধ্যে। রবিবার এখানেই বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই(এম) প্রার্থী দীপ্সিতা ধর প্রচারে ঘুরলেন বাড়ি বাড়ি। 
উত্তর দম পৌরসভা এলাকায় একদিকে যেমন উদ্বাস্তু কলোনি রয়েছে, আরেকদিকে রয়েছে সংখ্যালঘু মানুষের বসবাসও। 
এই এলাকা ভৌগলিকভাবে ছুঁয়েছে বিমানবন্দরকে, পাশ দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছে যশোর রোড। আবার দিল্লি রোডও এই বিধানসভার ওপর দিয়ে গিয়েছে। স্থানীয় অর্থনীতি এবং জনজীবনে তার প্রভাব আছে। 


এদিন বিরাটি স্টেশন সংলগ্ন খলিসাকোটা এলাকায় প্রচার করেন দীপ্সিতা। উত্তর দমদম পৌরসভার এই ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে পাকা পরিকল্পিত নিকাশি ব্যবস্থাই নেই, জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বর্ষার জলে ভেসে যায় এলাকা। আর বর্ষার আগে রাস্তা কোনওরকমে ঠিক করা হয়। ভোটে প্রতিশ্রুতি থাকে প্রতিবারই পোক্ত রাস্তা হবে। ভোট চলে যায়, ভেসে যায় প্রতিশ্রুতি। 
এলাকায় রয়েছে পরিস্রুত পানীয় জলের সমস্যা। নলবাহিত জলে প্রচুর আয়রন। ক্ষোভ জানিয়ে বলছেন স্থানীয় অনেকেই। 
প্রচারে দেখা গিয়েছে মহিলারা  বেরিয়ে আসছেন ঘর থেকে। প্রবীণ মহিলা নাতি-নাতনি নিয়ে আসছেন। আবার সেই সঙ্গে ছিলেন কমবয়সীরাও। প্রচার ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য চোখ এড়ানোর নয়। 
এই এলাকায় ১০টি বুথে মহিলারা সংখ্যায় বেশি। তার মধ্যে দু’টি বুথে সিপিআই(এম) এগিয়ে ছিল লোকসভা ভোটে। 
এই এলাকায় প্রতিটি বাড়ির আলাদা নম্বর নেই। পৌরসভা ব্যবস্থা করেনি। রয়েছে যথেষ্ট ক্ষোভ।
প্রচারের মাঝেই দেখা গেল পাশাপাশি দু’টি গলিতে রয়েছে ‘ব্লিঙ্কিট‘ ও ‘জেপটো’-র হাব। সেখানে গিগ শ্রমিকদের সঙ্গেও কথা বললেন দীপ্সিতা। তাঁরা দীপ্সিতাকে জানালেন যে রবিবারও অন্তত আট ঘন্টা কাজ করতে হয়। তবে বাড়তি কিছু ইনটেনসিভ মেলে। দীপ্সিতা তাঁদের জানালেন যে বিধানসভার ভেতরে গিগ শ্রমিকদের কথাও পৌঁছে দিতে চায় বামপন্থীরা। 
স্থানীয় সিপিআই(এম) নেতা দেবায়ন ব্যানার্জি, বীরেশ চৌধুরী ও এসএফআই জেলা সম্পাদক আকাশ কর ছিলেন প্রচারে। ছিলেন সিপিআই(এম) নেতৃবৃন্দ। বড় সংখ্যায় ছিলেন কর্মীরা। 


দেবায়ন ব্যানার্জি জানালেন, পৌর হাসপাতালের অবস্থা ভয়ঙ্কর। নেই চিকিৎসা পরিকাঠামো। গোটা বিধানসভায় জল জমে। বহু বাড়ির ভেতর দু-তিন মাস জল থাকে বহু বাড়ির ভেতর। গত বছর এই উত্তর দমদম পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে একটি বাড়িতে জলে ডুবে মারা যায় এক শিশু। 
বিরাটি রেল স্টেশনে হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে সরব সিপিআই(এম)। দাবি তুলেছে সাবওয়ে করার। না হলে প্রতিদিন দুর্ঘটনার মুখে পড়তে হচ্ছে পথচলতি মানুষকে।
দীপ্সিতা বলেন, ‘‘উদ্বাস্তু কলোনির মানুষকে বোকা বানিয়েছে বিজেপি। সিএএ করে নাগরিকত্ব দেওয়ার কোনও পরিকল্পনাই নেই। উলটে হেনস্তা করা হচ্ছে। আবার শেষ পাঁচ বছরে এই কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক এবং মন্ত্রীও স্থানীয় মানুষের যন্ত্রণা তুলে ধরেননি বিধানসভায়। বিজেপি-কে সরিয়ে তৃণমূলকে হারিয়ে মানুষের কথা তুলে ধরাই হবে আমাদের কাজ। সে কারণেই সমর্থন চাইছি ভোটে।’’ 
এসআইআর এই কেন্দ্রের আলোচনার অন্যতম বিষয়। দীপ্সিতা নিজেও বলেছেন, ‘‘প্রচারে বেরিয়ে এসআইআর হেনস্তার কথা মানুষ তুলে ধরছেন। অনেক বৈধ ভোটারের নাম পরিকল্পিতভাবে বাদ গিয়েছে। এসআইআর’র বিরুদ্ধে বামপন্থীরাই লড়াই করছে। সেই লড়াই চলবে।’’

Comments :0

Login to leave a comment