জম্মু ও কাশ্মীরে টানাবৃষ্টি ও ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩-এ দাঁড়িয়েছে। উত্তরাখণ্ড এবং হিমাচল প্রদেশে প্রবল বৃষ্টিতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। ভারত আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) ২০ এবং ২১ জুলাই জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তর প্রদেশের কিছু অংশে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে। ২০ জুলাই উত্তরাখণ্ড, বিহার এবং আসাম-মেঘালয়েও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টিজনিত পৃথক ঘটনায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন মহিলা ও তাঁর দুই সন্তান রয়েছে। গত দুই দিনে জম্মু ও কাশ্মীর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩।
জম্মু-কাশ্মীরে বৃষ্টি ও ধসে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার জম্মুতে এক মহিলা ও তাঁর দুই সন্তানসহ অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরে বৃষ্টি ও ধসের কারণে দুই দিনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ হয়েছে বলে খবর। আধিকারিকদের বক্তব্য, এখনও সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন। একটানা ভারী বৃষ্টি বন্যা-বিধ্বস্ত পুঞ্চ ও রাজৌরি জেলায় উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। পুঞ্চ জেলার লোরানের উজানে ভূমিধসে একটি মাটির বাড়ি ধসে পড়ে এবং দুই শিশুসহ সাতজন ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবন্ত চাপা পড়েন। গ্রামবাসীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে সাতটি মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন। নিহতরা হলেন জাহিদা বেগম(৩৮), মনন রফিক(৬) আলিসা(৪), তানভীর আহমেদ ভাট(২৭), শামিম আখতার(৩৩), শবনম বানু (৩১) এবং মহম্মদ ইরফান(১৭)। তারা সবাই পুঞ্চ জেলার আরিগাম গ্রামের বাসিন্দা। ডোডা জেলার জম্মু-কিস্তওয়ার জাতীয় মহাসড়কে পাহাড় থেকে গড়িয়ে আসা পাথরের আঘাতে একটি যাত্রীবাহী বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় কুলবন্ত সিং ও মনীশ কুমার নামে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। আরও ছয়জন আহত হয়েছেন। আরও দুটি প্রাইভেট গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কাষ্টিগড় এলাকায় পাথর পড়ে শিব দেবী নামে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকালে রাজৌরি শহরের সালানি এলাকা থেকে আকস্মিক বন্যায় ভেসে যাওয়া বিকাশ আহমেদের মৃতদেহ নদী থেকে উদ্ধার হয়েছে। বৃষ্টি দস সংক্রান্ত কারণে পুঞ্চ জেলায় এখনও পর্যন্ত দশজনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৬ জন। রাজৌরি জেলায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে এবং জল শক্তি বিভাগের এক কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন। জম্মু-কাশ্মীরে বৃষ্টি ও ধসে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১১ জনের।
জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ সোমবার নিহতদের পরিবারকে এককালীন ৬ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, প্রিয়জন হারানোর যন্ত্রণা কোনো আর্থিক সহায়তা দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়।
Comments :0