Uttar Pradesh

উজ্জয়িনীর শাহী মসজিদ ভাঙাকে ঘিরে উত্তেজনা, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

জাতীয়

সড়ক সম্প্রসারণের জন্য উজ্জয়িনীর শাহী মসজিদের একটি অংশ ভেঙে ফেলার প্রস্তাবকে ঘিরে সোমবার উত্তেজনা ছড়াল এলাকায়। মসজিদ চত্বরে জড়ো হওয়া বিপুল সংখ্যক মানুষের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। ঘটনাস্থলের একাধিক ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, জনতাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে র্যাশপিড অ্যাকশন ফোর্স।
উজ্জয়ন শহরে ২০২৮ সালের সিংহস্থ মেলার আগে ব্যাপক পরিকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ চলছে। সেই পরিকল্পনারই অংশ হিসেবে শহরের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা চওড়া করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোট ২৭২টি নির্মাণ কাঠামো ভেঙে ফেলার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই প্রকল্পের আওতায় শাহী মসজিদেরও একটি অংশ ভেঙে ফেলার প্রস্তাব রয়েছে। স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের দাবি, মসজিদটি কয়েক শতাব্দী পুরনো ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি। কিছু ঐতিহাসিক বিবরণে এর নির্মাণকাল আনুমানিক ১৩৯০ সালের কাছাকাছি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত ভাঙার অংশের মধ্যে রয়েছে নামাজের জায়গার একটি অংশ, একটি মিনার এবং মসজিদ-সংলগ্ন কয়েকটি কাঠামো।
মসজিদ ভাঙার নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে আবেদন করা হয়েছিল। ইন্দোরের মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট উজ্জয়ন পুরসভার নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করা আবেদন খারিজ করে দেয়। সিংহস্থ মেলার আগে বিপুল মানুষের সমাগম এবং যান চলাচলের প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করে জনস্বার্থের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়। এই মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত আরও একটি শুনানি সোমবার ইন্দোর হাই কোর্টে হওয়ার কথা ছিল।
এদিকে শাহী মসজিদ কমপ্লেক্সের একটি অংশ ভাঙার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন কংগ্রেস সাংসদ ইমরান প্রতাপগড়ি। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, রাস্তা সম্প্রসারণের নামে মসজিদ ভাঙার ক্ষেত্রে আরও সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন।
প্রতাপগড়ির বক্তব্য, ‘রাস্তা সম্প্রসারণের অজুহাতে উজ্জয়িনী শাহী মসজিদ ভাঙার প্রশাসনিক প্রচেষ্টা আরও সংবেদনশীল হওয়া উচিত। উন্নয়ন ও অগ্রগতির নামে ৬০০ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ভেঙে দেওয়া কোনওভাবেই স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না। বিষয়টি যখন আদালতে বিচারাধীন, তখন বারবার মসজিদ ঘিরে প্রশাসনের এই তৎপরতা কী বার্তা দিতে চাইছে?’
তিনি আরও বলেন, উজ্জয়িনী হাজার হাজার তরুণ এই ইস্যুতে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তার আবেদন, সাধারণ মানুষের আবেগ ও অনুভূতিকে সম্মান করে রাস্তা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয় জমি অন্য দিক থেকে অধিগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা হোক।
অন্যদিকে উজ্জয়িনী পুরসভার চেয়ারপার্সন কালাবতী যাদব জানিয়েছেন, ২০২৮ সালের সিংহস্থ মেলাকে সামনে রেখে শহরে ব্যাপক পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। প্রতি ১২ বছর অন্তর শিপ্রা নদীর তীরে আয়োজিত এই ধর্মীয় সমাবেশে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম হয়।
কালাবতী যাদবের কথায়, ‘২০২৮ সালে উজ্জয়িনীতে সিংহস্থ মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আধ্যাত্মিক সমাবেশ, যা প্রতি ১২ বছর অন্তর শিপ্রা নদীর তীরে অনুষ্ঠিত হয়। মেলাকে কেন্দ্র করে প্রায় ২৯ কিলোমিটার নতুন ঘাট নির্মাণ, ডাইভারশন প্রকল্প, বাঁধ এবং অন্যান্য পরিকাঠামোগত কাজ চলছে। লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগমের কথা মাথায় রেখে রাস্তা সম্প্রসারণ জরুরি হয়ে পড়েছে।’
রাস্তা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা এবং ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থাপনা রক্ষার দাবিকে ঘিরে উজ্জয়িনীতে পরিস্থিতি আপাতত উত্তপ্ত। সোমবারের সংঘর্ষের পর এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment