উৎসবের মরশুমের মুখে চিনির দাম বাড়ায় চাপে পড়ছে সাধারণ ভারতীয় পরিবার। মিষ্টি, পায়েস, নানা ধরনের ডেজার্ট ও উৎসবের ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরিতে এই সময়ে চিনির চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। তার মধ্যেই একদিকে দাম বৃদ্ধি, অন্যদিকে একসঙ্গে বেশি পরিমাণ চিনি কেনায় বিধিনিষেধ দুই দিক থেকে চাপের মুখে পড়েছেন ক্রেতারা।
চিনির জোগান ও দাম নিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে জানা গিয়েছে, দেশের একাধিক জনপ্রিয় কুইক-কমার্স প্ল্যাটফর্মে কিছু চিনির প্যাকেট কেনার ক্ষেত্রে পরিমাণ বেঁধে দেওয়া হয়েছে। জেপটো, ইনস্টামার্ট-এর মতো প্ল্যাটফর্মে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ কতগুলি প্যাকেট কিনতে পারবেন, তার সীমা রয়েছে।
জেপটোতে কিছু চিনির পণ্যের ক্ষেত্রে প্যাকেটের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি পণ্যের ক্ষেত্রে সীমিত জোগানের কথাও জানানো হচ্ছে। ব্লিঙ্কটি-এও কিছু চিনির প্যাকেট কেনার ক্ষেত্রে একই ধরনের সীমা দেখা যাচ্ছে। ইনস্টামার্টে Supreme Harvest Crystal Sugar-এর একটি তালিকায় প্রতি অর্ডারে সর্বোচ্চ দু’টি ১ কেজির প্যাকেট কেনার অনুমতি রয়েছে।
শুধু অনলাইনেই নয়, অফলাইন বাজারেও চিনির কেনাকাটায় সীমা আরোপের খবর মিলেছে। ডিমার্ট এবং রিলায়েন্সের মতো বড় খুচরো বিপণি সংস্থার কয়েকটি দোকানে একজন ক্রেতার জন্য প্রায় ২ থেকে ৩ কেজি পর্যন্ত চিনি কেনার সীমা রাখা হয়েছে।
ফলে অনলাইন কুইক-কমার্স প্ল্যাটফর্ম থেকে অর্ডার করা হোক বা সরাসরি সুপারমার্কেটে গিয়ে কেনা হোক দুই ক্ষেত্রেই বেশি পরিমাণ চিনি মজুত করার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ছেন ক্রেতারা।
উৎসবের মরশুমে চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনার পাশাপাশি দেশীয় বাজারে চিনির দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কম উৎপাদন, মজুতের চাপ এবং ইথানল উৎপাদনে চিনির ব্যবহার-সহ একাধিক কারণকে বাজারে দাম বৃদ্ধির জন্য দায়ী করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্র। কাঁচা চিনি আমদানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধার নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে আমদানিকারকদের আমদানি করা কাঁচা চিনি পরিশোধন করে দেশের বাজারে বিক্রি করার জন্য আরও সময় দেওয়া হয়েছে।
আগের নিয়ম অনুযায়ী, ২০ অগস্টের বিজ্ঞপ্তিতে ট্যারিফ-রেট কোটা (TRQ)-র আওতায় ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ১০ লক্ষ টন কাঁচা চিনি শুল্কমুক্ত আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। আমদানিকারকদের সেই কাঁচা চিনি সাদা বা পরিশোধিত চিনিতে রূপান্তর করে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে দেশের বাজারে বিক্রি করতে হত।
দেশীয় বাজারে চিনির জোগান বাড়াতেই শুল্কমুক্ত আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অতিরিক্ত ১০ লক্ষ টন কাঁচা চিনি বাজারে আনলে সরবরাহের চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মজুতদারি ও অতিরিক্ত জল্পনামূলক কেনাকাটা ঠেকাতেও সরকারি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তবে আমদানি করা চিনি বাজারে পৌঁছতে সময় লাগবে। তার আগে খুচরো বিক্রেতারা নিজেদের হাতে থাকা মজুত সামলাতে ক্রেতাপ্রতি কেনার পরিমাণ সীমিত করছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
সাধারণ পরিবারের নিয়মিত ব্যবহারের জন্য এক-দু’টি প্যাকেট চিনি কেনার ক্ষেত্রে এই সীমাবদ্ধতা খুব একটা প্রভাব ফেলবে না। কিন্তু উৎসবের জন্য মিষ্টি তৈরি করতে বেশি পরিমাণ চিনি প্রয়োজন এমন পরিবার কিংবা আগে থেকেই মজুত করতে চাওয়া ক্রেতাদের ক্ষেত্রে সমস্যাটি বেশি চোখে পড়বে।
উৎসবের মরশুম যত এগিয়ে আসবে, চিনির চাহিদা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহে অতিরিক্ত আমদানি করা চিনি কত দ্রুত বাজারে পৌঁছয় এবং সরকারি পদক্ষেপে সরবরাহ কতটা বাড়ে, তার উপরই অনেকটাই নির্ভর করবে দাম কমার সম্ভাবনা।
এই মুহূর্তে তাই সাধারণ ক্রেতার সামনে পরিস্থিতি বেশ অস্বস্তিকর—চিনির দাম বাড়ছে, চাহিদা বাড়ার মুখে, আবার বেশি দাম দিয়েও অনেক ক্ষেত্রে ইচ্ছেমতো চিনি কেনা যাচ্ছে না। উৎসবের মরশুমে এই চাপ কতটা কমানো যায়, এখন সেটাই দেখার।
Sugar Price
চিনির দাম চড়া, অনলাইনে-অফলাইনে কেনায় লাগাম
×
Comments :0