SIR Sujan Chakrabarty

কাগজ নেই বলে সেই মানুষটা ভোটার থাকবেন না! কমিশনকে ধিক্কার চক্রবর্তীর

রাজ্য

এসআইআর'র নামে নির্বাচন কমিশন যা করছে তা চূড়ান্তভাবে জনবিরোধী। কমিশনের উদ্দেশ্য হলো সর্বজনীন ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া, বেছে বেছে মানুষের একংশের ভোটের অধিকার বাতিল করা। 
মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমে একথা বলেছেন সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন 
চক্রবর্তী। এসআইআর প্রক্রিয়ার যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। 
চক্রবর্তী বলেন, বিহারে এসআইআর একরকম হবে, পশ্চিমবঙ্গে আরেকম, এর মানে কী? নতুন নতুন নিয়ম কেন? 
উল্লেখ্য, বিহারে এসআইআর প্রক্রিয়ায় কোথাও ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপান্সি‘ বা যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতি বলে কিছু ছিল না। পশ্চিমবঙ্গ সহ ১২ রাজ্যে এই প্রক্রিয়া শুরুর সময়েও এমন কোনও ঘোষণা ছিল না। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর ‘যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতি’- নাম করে এক কোটির বেশি মানুষকে শুনানিতে ডাকা হয়।
চক্রবর্তী এদিন প্রশ্ন তোলেন রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়েও। তিনি বলেন, কী করছিল এতদিন ধরে রাজ্য সরকার? এই শেষ বাজারে এখন মনে পড়েছে। কেন এসব চলছে? তিনি বলেন, একেবারে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে, এমন কি ২০০২-র তালিকায় নাম আছে যাঁদের তাঁদেরও খারিজ করার চেষ্টা করছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের দাপট, চোখরাঙানির এই মনোভাবে গোটা রাজ্যের মানুষকে নাকি চলতে হবে! মানুষের ভোটের অধিকার নাকি কেড়ে নেবে! মানুষ রাস্তায় নামছেন এবং নামবেন। তৃণমূল এবং বিজেপি এর ফল ভুগবে। 


তিনি আরও বলেন, তৃণমূল-বিজেপি’র চাপে চিঁড়েচ্যাপ্টা হচ্ছেন সাধারণ ভোটার, তাঁরা চূড়ান্ত হেনস্তার শিকার। চিঁড়েচ্যাপ্টা হচ্ছেন বিএলও'রা। তৃণমূল একরকম বলছে। আবার বিজেপি’র হয়ে নির্বাচন কমিশন আরেকরকম বলছে। কোথায় যাবেন বিএলও, ইআরও-রা ? তাঁরা রাজ্যের সরকারের কর্মচারী, অফিসার। রাজ্য সরকারের কথা না শুনলে তাঁদের বিপদ। আবার নির্বাচন কমিশনের কথা না শুনলেও তাঁদের বিপদ। ফলে, কেবল ভোটার না। বিপদে পড়ছে বিপন্ন হচ্ছে, হেনস্তা হচ্ছেন বিএলও এবং ঊর্ধ্বতন অফিসাররা। সিইও-কে পর্যন্ত জন্যে চাইতে হচ্ছে কোনটা হবে আর কোনটা হবে না। 
চক্রবর্তী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে ৭ এইআরও-কে সাসপেন্ড করলো নির্বাচন কমিশন। ব্যবস্থা নিতে বলল, এটার মধ্যে দিয়ে কার্যত পশ্চিমবাংলায় নির্বাচন কর্মীদের তাঁদেরকে ভয় দেখানো চেষ্টা হচ্ছে। এইআরও'রা তো বলছে, ২০০২ সালে নাম রয়েছে, তারপরও নির্বাচন কমিশনের কথায় নাম বাদ দিতে হবে কেন? নির্বাচন কমিশন এতরকম কাগজের তালিকা দিয়েছে কিন্তু তার মধ্যে জেনেবুঝে আধার কার্ডটাকে বাদ দিয়ে দিয়েছে। এমন এমন কাগজ দিয়েছে যা সবার কাছে থাকে না। কাগজ নেই বলে কি সেই মানুষ ভোটার থাকবেন না! 
চক্রবর্তী বলেন, নির্বাচন কমিশন দিনের পর দিন অসভ্যতা করছে। সেই অসভ্যতায় কেউ শামিল না হতে চাইলেই তাকে সাসপেন্ড করে দেবে? এত বড়ো সাহস! রাজ্যে এদিকে তৃণমূলের সরকার, ওদিকে কেন্দ্রে বিজেপি’র সরকার, দুইয়ে মিলে এমন জবরদস্তি চলছে যে মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে।

Comments :0

Login to leave a comment