Kumbh Rail Mismanagement

ভাঙা হচ্ছে কামরার কাচ, চরম বিশৃঙ্খলায় ক্ষোভের স্রোত, জানতেন না রেলমন্ত্রী?

জাতীয়

এক রেলযাত্রীর এক্স হ্যান্ডেল পোস্ট।

দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনের এসি কামরার কাচ ভাঙা হচ্ছে বাইরে থেকে। জায়গা না পেয়ে একদল একের পর এক ইটের আঘাত করছে জানালায়। মোবাইলে ‘বীরত্বের’ ছবি ধরে রাখছে। বিহারের মধুবনীতে এমন উন্মত্ততায় ভেঙে পড়ল জানালার কাচ। আর্তনাদ করছেন কামরার ভেতরের মহিলারা।
দেখেননি রেলমন্ত্রী?
ট্রেন কামরার মেঝেতে ঝাঁকে ঝাঁকে পুরুষ-মহিলা। পা ফেলার জায়গা নেই। শৌচের কাজে যাত্রীদের বেরনোর উপায় নেই। 
বিজেপি’র কারও চোখে পড়েনি?
স্টেশনে ট্রেন দাঁড়াতেই অগুনতি কালো মাথা উন্মত্তের মতো ছুটছে কামরার দরজার দিকে। ওই ভিড়ের জায়গা পাওয়ার আশা নেই ট্রেনে। একে অন্যকে পিছন থেকে ঠেলে কোনোমতে একটু পা রাখার জায়গা খুঁজছে। 
প্রধানমন্ত্রীর কানে এ খবর পৌঁছে দেওয়ার কেউ ছিল না?
অন্তত ৭ দিন আগে থেকে বিভিন্ন সোশাল মিডিয়ায় ভাসছে এমন ছবি আর আর ভিডিও। সংরক্ষিত কামরার যাত্রীরা ক্ষোভ জানিয়ে সোশাল মিডিয়ায় রেলমন্ত্রীকে ‘ট্যাগ’ করে দিচ্ছেন পোস্ট। 
হুঁশ ফেরেনি অশ্বিনী বৈষ্ণবের? প্রধানমন্ত্রীই বা করছিলেন কী? আর বিজেপি, কেবল ধর্মীয় উন্মাদনা তৈরি করে এক ভোট থেকে অন্য ভোট পার করার খেলায় ব্যস্ত, কোনও সতর্কবার্তা শোনা যায়নি দলের তরফ থেকে।
নয়াদিল্লি স্টেশনে মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে এমন প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে। জোরালো হচ্ছে ক্ষোভ। যাত্রীদের অনেকেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা শুনিয়ে বলছেন, বিভিন্ন কাজে যেতে গিয়ে নাস্তানাবুদ হতে হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তো ভিড়ের চাপে প্রাণ হাতে করে বেরতে হয়েছে।
নয়াদিল্লিতে শনিবার রাতে ভিড়ের চাপে ১৮ জনের মৃত্যু স্বীকার করেছে রেল। বেশিরভাগই শিশু আর মহিলা। ট্রেনের ঘোষণা ঘিরে বিভ্রান্তি ছড়ায়। খুব কম সময়ে হু-হু করে টিকিট বিক্রির অস্বাভাবিক হারেও সতর্ক হয়নি রেল। কুম্ভমেলা ঘিরে সরকারি স্তর থেকে হুজুগ তৈরির প্রয়াসকে ধর্মব্যবসায়ী রাজনীতির কৌশল বলেও চিহ্নিত করছেন বিভিন্ন অংশই। 
বস্তুত নয়াদিল্লির ঘটনাই এলাহাবাদ বা প্রয়াগরাজে এবারের কুম্ভমেলার একমাত্র বিপর্যয় নয়। বরং একের পর এক বিপর্যয় হয়েই চলেছে। একেবারে এলাহাবাদেই ২৯ জানুয়ারি ভিড়ের চাপে মৃত্যু হয়েছে বহু দর্শনরার্থীর। নিখোঁজ আরও বহু। তথ্য চাপার অভিযোগে বাতাস ভারী। দর্শনার্থীদের জন্য মাত্র একটি অস্থায়ী সেতু বরাদ্দ করে ভিভিআইপি-দের জন্য রাখা হয়েছিল ২৮টি পারাপারের সেতু। 
পরপর তিনবার কুম্ভমেলায় আগুন লাগার খবর প্রকাশিত হয়েছে সংবাদমাধ্যমে। এসবকেই ভুলিয়ে দিতে প্রধানমন্ত্রী নির্বিঘ্নে-নিশ্চিন্তে কুম্ভস্নান করে ব্যাপক প্রচারিত ইভেন্ট করেছেন কিছুদিনের মধ্যেই। 
সোশাল মিডিয়ায় রেল ঘিরে অসন্তোষ কেবল কুম্ভের পর্বেই সীমাবদ্ধ নয়। বহু ক্ষেত্রে অসহায় মানুষকে ট্রেন না পেয়ে উঠতে হচ্ছে সংরক্ষিত কামরায়। দীর্ঘ পথের যাত্রীদের সংরক্ষিত কামরার টিকিট কেটে নাকাল হতে হচ্ছে। যাত্রীদের এক অংশের সঙ্গে অন্য অংশের গোলমাল বেঁধে যাচ্ছে। গোট পর্বে স্রেফ উবে যাচ্ছে নজরদারি রাষ্ট্রের সুরক্ষাবাহিনী। কুম্ভে এই অব্যবস্থা চরম চেহারা নিয়েছে, সোশাল মিডিয়ায়, এই মর্মে, ক্ষোভের লাভা বইয়ে দিচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।

Comments :0

Login to leave a comment