নতুন মরসুম শুরুর আগেই কলকাতার ময়দানে শুরু হয়ে গেছে উন্মাদনা। দলবদলের বাজার এখনও জমজমাট, কিন্তু তার আগেই সবচেয়ে বড় চমক এসেছে ডাগআউটে। শহরের দুই প্রধান—মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ও ইস্টবেঙ্গল—দুই ক্লাবই নতুন কোচের ওপর ভরসা রেখে শুরু করতে চলেছে নতুন অভিযান। একদিকে মোহনবাগানের দায়িত্ব নিতে চলেছেন গ্রিসের পানাজিওতিস দিলম্পেরিস (পানোস), অন্যদিকে বহু পরিচিত মুখ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস ফিরছেন ইস্টবেঙ্গলের ডাগআউটে।
মোহনবাগানের সিদ্ধান্ত অনেককেই অবাক করেছে। গত কয়েক মৌসুমে স্প্যানিশ কোচদের ওপর নির্ভর করলেও এবার সেই ধারা ভেঙে গ্রিক কোচ পানোসের ওপর আস্থা রেখেছে সবুজ-মেরুন শিবির। পাঞ্জাব এফসির হয়ে সীমিত সম্পদ নিয়েও যে সংগঠিত ও লড়াকু দল তিনি গড়ে তুলেছিলেন, সেটিই তাকে দেশের অন্যতম আলোচিত কোচে পরিণত করেছে। সেই সাফল্যের পুরস্কার হিসেবেই এবার দেশের অন্যতম বড় ক্লাবের দায়িত্ব।
মোহনবাগানের সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। সমর্থকদের প্রত্যাশা সবসময়ই ট্রফি। শুধু ভালো ফুটবল খেললেই হবে না, জিততে হবে আইএসএল, সুপার কাপ এবং এশিয়ার মঞ্চেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। পানোসের কৌশলগত শৃঙ্খলা, রক্ষণ সংগঠনের দক্ষতা এবং দলগত ফুটবলের দর্শন এই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার।
অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গলের ডাগআউটে ফিরছেন ভারতীয় ফুটবলের অত্যন্ত পরিচিত নাম আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। ভারতীয় ফুটবলে তার সাফল্যের তালিকা দীর্ঘ। কলকাতার ফুটবল সংস্কৃতি, ডার্বির চাপ এবং ভারতীয় খেলোয়াড়দের মানসিকতা—সবকিছুর সঙ্গেই তিনি পরিচিত। সেই অভিজ্ঞতাকেই এবার কাজে লাগাতে চাইছে লাল-হলুদ শিবির।
হাবাসের প্রত্যাবর্তনের মধ্যে রয়েছে বাড়তি আবেগও। একসময় মোহনবাগানকে সাফল্যের শিখরে তোলা এই স্প্যানিশ কোচ এবার প্রতিপক্ষের ডাগআউটে। ফলে আগামী কলকাতা ডার্বি শুধু দুই দলের লড়াই হবে না, দুই নতুন কোচের কৌশলগত দ্বৈরথও হয়ে উঠবে অন্যতম আকর্ষণ।
দুই ক্লাবের দর্শন অবশ্য ভিন্ন। মোহনবাগান ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে অপেক্ষাকৃত নতুন মুখকে বেছে নিয়েছে। অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গল ভরসা রেখেছে অভিজ্ঞতার ওপর। ফলে নতুন মরসুমে কোন কৌশল সফল হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
ইতোমধ্যেই সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয়েছে আলোচনা। সামাজিক মাধ্যমে চলছে দুই কোচের অতীত সাফল্য, খেলার ধরন এবং সম্ভাব্য দলগঠন নিয়ে তুমুল বিতর্ক। বিশেষ করে বিদেশি ফুটবলার নির্বাচন, তরুণদের সুযোগ দেওয়া এবং ডার্বির প্রস্তুতি—এসব বিষয়েই নজর থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের।
নতুন মরসুম শুরু হতে এখনও কিছুটা সময় বাকি। তবে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, কলকাতার ফুটবলের উত্তাপ এবার আরও বাড়বে। কারণ ডাগআউটের এই দুই পরিবর্তন শুধু কোচ বদলের গল্প নয়; এটি দুই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের নতুন স্বপ্ন, নতুন দর্শন এবং নতুন সাফল্যের সন্ধানে যাত্রার সূচনা।
এখন অপেক্ষা শুধু মাঠের লড়াইয়ের। কারণ শেষ পর্যন্ত ময়দানে কোচদের বিচার হয় একটাই মাপকাঠিতে—ফলাফল। আর সেই ফলাফলের জন্যই নতুন মরসুমে আবারও মুখোমুখি হবে কলকাতার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী, দুই নতুন সেনাপতির নেতৃত্বে।
Comments :0