২০ জুলাই দিল্লিতে পড়ুয়াদের মিছিলের ওপর পুলিশি আক্রমণ নিয়ে লোকসভায় সরব হলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। নিশানা করলেন আরএসএসকেও। এদিন প্রশ্ন ফাঁস বিল নিয়ে বিতর্কে বলার সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে রাহুল বলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশেই পুলিশ সেদিন পড়ুয়াদের ওপর আক্রমণ করেছে। আজ উনি ভয়ে পেয়ে সংসদে আসেননি। রাহুল এই কথা বলার সাথে সাথেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। শাসক এবং বিরোধী সাংসদদের মধ্যে শুরু হয় বচসা। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু দাবি করেন, কোন প্রমান ছাড়াই বিরোধী দলনেতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেন।
আরএসএসকে নিশানা করে রাহুল বলেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান নয় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করছে আরএসএস। তাদের হাতে সব ক্ষমতা। পাঠমক্রমে সেই সব বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে যা আরএসএসের এজেন্ডা। আমাদের আসল শত্রু আরএসএস। যুক্তি বোধকে তারা শেষ করে দিতে চাইছে। দেশের যুব সমাজকে অন্ধ ভক্ত তৈরি করতে চাইছে আরএসএস।’
নিট কান্ডের বিরুদ্ধে দেশের পড়ুয়াদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি বলেন, এই আন্দোলন কোন হিংসা নয়, এই আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের যুব সমাজের মধ্যে থাকা ক্ষোভ, মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দেশজুড়ে ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনের প্রশংসাও করেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, এই আন্দোলন দেশের তরুণ প্রজন্মের মনের কথা তুলে ধরেছে। তাঁর দাবি, এটি কোনও হিংসা বা ঘৃণার প্রকাশ নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গণতান্ত্রিক অভিব্যক্তি। তিনি বলেন, সব রাজনৈতিক দলেরই এই বার্তাকে সম্মান জানানো উচিত।
নিজের বক্তব্যে একদল ছাত্রীর সঙ্গে হওয়া একটি কথোপকথনের প্রসঙ্গও তোলেন রাহুল। তাঁর দাবি, এক ছাত্রী তাঁকে বলেছিলেন, প্রকৃত ছাত্র সেই, যার মন ও হৃদয় উন্মুক্ত থাকে, যে স্বীকার করে যে সে সব কিছু জানে না এবং নতুন জ্ঞান গ্রহণে প্রস্তুত থাকে। বিনয়ই একজন শিক্ষার্থীর সবচেয়ে বড় গুণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এরপর তিনি বলেন, ওই ছাত্রী এমন এক শ্রেণির মানুষের কথাও বলেছিলেন, যারা মনে করেন তাঁরা সব জানেন, অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেন না এবং নিজেদের ধারণাকেই চূড়ান্ত সত্য বলে মনে করেন। এই প্রসঙ্গে রাহুল একটি শব্দ ব্যবহার করেন, যা স্পিকার অসংসদীয় বলে উল্লেখ করেন। সঙ্গে সঙ্গে বিজেপি সাংসদরা প্রতিবাদে সরব হন এবং সংসদে হইচই শুরু হয়।
রাহুল গান্ধী পরে স্পষ্ট করেন, তিনি ওই শব্দটি নিজের মন্তব্য হিসেবে নয়, বরং এক ছাত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেছিলেন। স্পিকার ওম বিড়লা জানান, অসংসদীয় শব্দগুলি কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হবে।
বিরোধী দলনেতার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ সময় লোকসভায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিজেপি ও কংগ্রেসের সাংসদদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার জেরে অধিবেশনে একাধিকবার হস্তক্ষেপ করতে হয় স্পিকারকে।
Rahul Gandhi
লোকসভায় রাহুলের নিশানায় অমিত শাহ ও আরএসএস, তুমুল হইচই সংসদে
×
Comments :0