Dharmendra Pradhan

মনোভাব বদলায়নি

সম্পাদকীয় বিভাগ

গুঁতোয় বেড়াল গাছে ওঠে, এমনি এমনি ওঠে না। ধর্মেন্দ্র প্রধানও দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় দায় নিয়ে পদত্যাগ করেননি। দেশের ছাত্র-যুব সমাজের আন্দোলনের চাপে এবং সেই আন্দোলনে গোটা দেশের জাগ্রত জনতার সমর্থন ও সহমর্মিতার আবহে মোদী-শাহরা বাধ্য হয়েছেন ধর্মেন্দ্রকে সরিয়ে দিতে। যন্তর মন্তরে ৩৬ দিন ধরে নবযৌবনের যে শাসকবিরোধী ঢেউ উঠেছিল এবং সারা দেশে আছডে পড়েছিল তার কাছে রাজনৈতিকভাবে পরাজিত মোদী-শাহরা। হাজারো ছলাকলা, ষড়যন্ত্র, ভয়-ভীতি-হুমকিতেও যখন অদম্য ছাত্র-যুবদের ঠেকানো সম্ভব হচ্ছিল না তখন নতি স্বীকারই একমাত্র বিকল্প হয়ে ওঠে।
মোদী সরকার তথা ধর্মেন্দ্র প্রধান এই ইস্যূতে নৈতিক দায় গ্রহণ করেননি, করলে পদত্যাগের পর দলীয়ভাবে ধর্মেন্দ্রকে মহান বানানোর চেষ্টা করা হতো না। তেমনি পদত্যাগের আগে সরকারই তাঁকে পদ থে‍‌কে সরিয়ে দিত। পদত্যাগের পর থেকে লাগাতার বিজেপি এই বার্তাই প্রচার করেছে যে দেশের স্বার্থে ও দলের বৃহত্তর স্বার্থে তিনি নিজেকে যূপকাষ্ঠে সঁপে দিয়েছেন। অর্থাৎ নিট পরীক্ষা ও শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ছাত্র-যুবরা যে গুরুতর অভিযোগ এনে ধর্মেন্দ্রর পদত্যাগ দাবি করেছিল সেটা সরকার ও শাসক দল মান্যতা দেয়নি। যদি অভিযোগের ন্যায্যতা স্বীকার করতো তাহলে ধর্মেন্দ্রকে দায়বদ্ধ করে পদ থেকে সরিয়ে দিত। ধর্মেন্দ্রর গুণকীর্তনে ব্যস্ত হয়ে পড়তো না। অর্থাৎ যে ইস্যুকে ঘিরে গোটা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম উদ্বিগ্ন, হতাশ, দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত সরকার তাকে গ্রাহ্যই করেনি। তাই পরিস্থিতির চাপে, আরও বড় আকারের বিপদ থে‍‌কে সরকারকে রক্ষা করতে আপাতত একটা সম‍‌ঝোতায় এসেছে মাত্র।
দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের আলোচনায় সরকার স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল মন্ত্রী পদত্যাগ করবে এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সমস্ত এফআইআর প্রত্যাহার হবে। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে মন্ত্রী পদত্যাগ করলেও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার হয়নি বা ধৃতরা ছাড়া পায়নি। এমনকি নতুন করে পুলিশ অভিযুক্তদের ধরার জন্য তৎপর। তাছাড়া অন্যান্য রাজ্য যেমন, বিহার, গুজরাট, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, আসামে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ বর্বর হামলা চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছে। সিজেপি’র দাবি সর্বত্র সব আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কড়া এফআইআর প্রত্যাহার করতে হবে।
আসলে মোদী-শাহরা নিট পরীক্ষার চূড়ান্ত অব্যবস্থা এবং শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হওয়া নিয়েই মোটেই অনুতপ্ত নন। তারা এমনটাই চেয়েছেন। তাই যা হয়েছে সেটাকেই জোরালোভাবে বজায় রাখতে চান। সরকার বা শিক্ষা মন্ত্রীকে তারা দায়বদ্ধতার উর্ধ্বে রাখতে চান। উলটে এর বিরুদ্ধে যারা কথা বলবে, আন্দোলন করবে তাদের উচিত শিক্ষা দিতে বদ্ধপরিকর। তাই প্রতিশ্রুতি দিয়েও এফআইআর প্রত্যাহার হচ্ছে না। সুপ্রিম কোর্ট বারবার প্রতিবাদের, মিছিলের, বিক্ষোভের অধিকার আছে বললেও সরকার সেটা আটকাতে চায়। পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে অত্যাচার চালায়।
মনে রাখতে হবে ধর্মেন্দ্র প্রধান শিক্ষা মন্ত্রক ছেড়েছেন, মন্ত্রিত্ব ছাড়েননি। মোদীরা চাইছেন কায়দা করে তাকে অন্য মন্ত্রকের দায়িত্ব দিতে। বিক্ষোভের উত্তাপ কমলেই ধর্মেন্দ্রর পুনর্বাসন হয়ে যাবে। অর্থাৎ মোদী সরকার তাদের অপদার্থতা স্বীকার করেনি। তারা তাদের অবস্থানেই থাকবেন বুঝিয়ে দিয়েছে। অতএব দেশের নব যৌবনকে সতর্ক থাকতে হবে। যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ প্রত্যাহার হয়েছে বলে আন্দোলন শেষ হয়নি। সতর্ক প্রহরীর মতো নজর রাখতে হবে সরকারের প্রতিটি কাজে। বেচাল হলেই ফের রাস্তায় নামতে হবে।
 

Comments :0

Login to leave a comment