তিব্বত সীমান্তের দিক থেকে নেমে আসা ভয়াবহ হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপাল। ভোতে কোশি নদীর জলস্রোতে নুওয়াকোট ও ধাদিং-সহ দেশের উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এখনও পর্যন্ত অন্তত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন বহু মানুষ।
নেপাল নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপাল পুলিশের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অবিনারায়ণ কাফলে জানিয়েছেন, নুওয়াকোট ও ধাদিং জেলা থেকে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৮টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রসুয়া জেলায় অন্তত ২৬ জন নেপাল পুলিশকর্মী এখনও নিখোঁজ বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্তারা। পাশাপাশি, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীরও ৭ জন সদস্যের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নেপাল সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী মোতায়েন করেছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব তৈরির কাজ চলছে বলে সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে।
বুধবার নেপালের উত্তরাঞ্চলের একাধিক জেলায় প্রবল বন্যার জেরে রাস্তাঘাট ও বিদ্যুৎ পরিকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাহাড়ি নদীগুলিতে জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বহু এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
বন্যার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে নেপালের বিদ্যুৎ পরিকাঠামোয়। নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (NEA) জানিয়েছে, অন্তত ছ’টি গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামোর মধ্যে রয়েছে রসুয়াগাড়ি, চিলিমে, ত্রিশূলী-৩এ, ত্রিশূলী-৩বি হাব ২২০ কেভি সাবস্টেশন, ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং দেবীঘাট জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিদ্যুৎ বণ্টন পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বন্যার জেরে নেপালের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, পাহাড়ি উপত্যকার মধ্যে দিয়ে প্রবল বেগে কাদামিশ্রিত জল নেমে আসছে।
নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অবিনারায়ণ কাফলে সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বন্যার ভয়াবহতা দেখে বহু জনবসতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং উদ্ধারকাজে সমস্ত শক্তি লাগানো হচ্ছে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। জাতীয় বিপর্যয় ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে উদ্ধার ও ত্রাণ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় শাহ জানিয়েছেন, চিকিৎসক দল, স্কাউট এবং রেড ক্রসের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।
প্রতি বছর জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষার সময়ে নেপাল-সহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং আরও তীব্র হয়ে উঠছে। নেপালের সাম্প্রতিক বিপর্যয় সেই আশঙ্কাকেই আরও জোরালো করেছে।
Nepal Flood
নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান, মৃত অন্তত ৮, নিখোঁজ বহু
×
Comments :0