ভয়াবহ বন্যা ও ধসের দু’দিনের মধ্যেই ফের বিপদের আশঙ্কা নেপাল-তিব্বত সীমান্তে। নেপালের রাসুয়া জেলা প্রশাসন জানিয়েছেন, তিব্বতের গিরং সীমান্তবন্দরের উজানে তৈরি হওয়া একটি জলাধারের বাঁধ ভেঙে গিয়েছে। এর জেরে ফের হু হু করে জল নামার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় উদ্ধারকর্মী, নিরাপত্তারক্ষী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নেপাল পুলিশের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘তিব্বতের দিকে ফের একটি জলাধারের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নিয়োজিত সমস্ত নিরাপত্তাকর্মী, উদ্ধারকর্মী এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে এবং অবিলম্বে নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে বলা হচ্ছে।’
নতুন বিপদের আশঙ্কায় নেপালের রাসুয়া জেলায় উদ্ধারকাজ আগামী ৯০ মিনিটের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, এখনও প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিখোঁজ। তাদের মধ্যে কয়েকশো বিদেশিও রয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনীর আশঙ্কা, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন করে ভয়াবহ বন্যা আঘাত হানতে পারে।
রাসুয়া জেলার প্রশাসনিক আধিকারিক নরেন্দ্র পারিয়ার বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি নদীর জলস্তর বাড়ছে।’ পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকায় প্লাবিত এলাকায় হেলিকপ্টারে উদ্ধার অভিযানও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত পাহাড়ের উঁচু এলাকায় উঠে যেতে দেখা গিয়েছে।
এর আগে বুধবার তিব্বত-নেপাল সীমান্তে ভয়াবহ হড়পা বান ও কাদাধসের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। সেই বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত ৪৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বহু মানুষ নিখোঁজ। বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ জমে সীমান্তের কাছে একটি ‘বাধা হ্রদ’ বা barrier lake তৈরি হয়। সেই জলাধারই এখন নতুন করে বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চীন ও নেপাল দু’দেশের প্রশাসনই আগে থেকেই সতর্ক করেছিল, জমে থাকা জলাধারটি উপচে পড়লে ফের ভয়াবহ বন্যা হতে পারে। চীনের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, ধসের ফলে তৈরি হওয়া বিশাল ধ্বংসস্তূপের পিছনে জমে থাকা জল এখন উপচে উদ্ধারকারীদের দিকে এগোতে শুরু করেছে।
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় চীনও উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। তিব্বতে উদ্ধারকাজে থাকা সমস্ত দলকে আপাতত নিজেদের অবস্থানে অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। যে সমস্ত উদ্ধারকারী দল আগে দুর্গত এলাকায় পৌঁছেছিল, তাদের প্রায় এক কিলোমিটার পিছিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার তীব্র কাদাধস ও ধ্বংসস্তূপের স্রোত তিব্বতের গিরং সীমান্তকেন্দ্রে আছড়ে পড়ে। বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ নদীর স্বাভাবিক গতিপথ আটকে দেয়। এর ফলে সেখানে জল জমে একটি বিশাল বাধা হ্রদ তৈরি হয়।
বৃহস্পতিবার চীনা উদ্ধারকারী দলের তোলা আকাশপথের ছবিতে দেখা যায়, বাদামি রঙের বিপুল জল একটি অববাহিকায় জমে রয়েছে। সেই জল ইতিমধ্যেই আশপাশের গাছপালা ও ঝোপঝাড় ডুবিয়ে দিয়েছে। ধ্বংসস্তূপ ও পাথরের তৈরি প্রাকৃতিক বাঁধের উপর প্রবল চাপ তৈরি হয়েছে।
জলাধারটি ভেঙে গেলে নীচের দিকে নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় ফের আকস্মিক বন্যা নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা। একই সঙ্গে পাহাড় ধস ও তুষারধসের মতো একাধিক দ্বিতীয় পর্যায়ের বিপর্যয়ের আশঙ্কাও রয়েছে।
ফলে উদ্ধার ও ত্রাণকাজের বদলে আপাতত মানুষের প্রাণরক্ষা এবং নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নেওয়াকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে নেপাল ও চীন।
Nepal Flood
তিব্বতে ফের ভাঙল জলাধারের বাঁধ, নেপালে ফের বন্যার আশঙ্কা
×
Comments :0