হিন্দু, শিখ বা বৌদ্ধ ধর্ম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মে ধর্মান্তরিত কোনো ব্যক্তি আর তফসিলি জাতির (SC) মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না। শুক্রবার একটি রায়ে এমনটাই জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই ধরনের ব্যক্তিরা তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি আইনের অধীনে কোন আইনি সুরক্ষাও দাবি করতে পারবেন না। শুধুমাত্র হিন্দু, শিখ বা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরাই এসসি (SC) মর্যাদা পাওয়ার অধিকারী।
বিচারপতি পি কে মিশ্র এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার একটি বেঞ্চ অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে জানিয়েছে যে, খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়ে সক্রিয়ভাবে সেই ধর্ম পালনকারী কোন ব্যক্তি আর তফসিলি সম্প্রদায়ভুক্ত হিসেবে গণ্য হতে পারেন না। চিন্তাদা আনন্দ নামে এক যাজকের দায়ের করা আপিলের প্রেক্ষিতে এই রায় দেয় শীর্ষ আদালত।
আনন্দ অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের ২০২৫ সালের মে মাসের একটি রায়কে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন, যেখানে তিনি জাতিগত বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছিলেন।
রায় ঘোষণার সময় সুপ্রিম কোর্ট জানায়, ‘হিন্দু, শিখ বা বৌদ্ধ ছাড়া অন্য কোন ধর্ম পালনকারী কোন ব্যক্তি তফসিলি জাতির সদস্য হতে পারবেন না। অন্য কোন ধর্মে ধর্মান্তরিত হলে তফসিলি জাতির মর্যাদা হারাতে হবে।’
জানা গিয়েছে, আনন্দ তার গ্রামে নিয়মিত রবিবারের প্রার্থনা পরিচালনা করতেন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, আক্কালা রামিরেড্ডি নামে ওই গ্রামের বাসিন্দা এবং অন্যান্য কয়েকজন তাকে বারবার মারধর করেছে, তাকে ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দেয়। এরপরেই তিনি এসসি/এসটি (SC/ST) আইনের অধীনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্তরা যুক্তি দেয় যে আনন্দ খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছেন এবং সক্রিয়ভাবে একজন যাজক হিসেবে কাজ করছেন। সুতরাং, তফসিলি জাতিদের জন্য একচেটিয়া ভাবে উপলব্ধ আইনি সুরক্ষা পাওয়ার কোন অধিকার তার নেই।
তদন্ত শেষে চার্জশিট দাখিল হওয়ার পর, আনন্দ অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। কিন্তু বিচারপতি এন হরিনাথ এফআইআর বাতিল করে জানিয়ে দেন যে, খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণে অভিযোগকারী তার এসসি (SC) মর্যাদা হারিয়েছেন এবং সেই কারণে তিনি এসসি/এসটি আইনের অধীনে সুরক্ষা দাবি করতে পারেন না। হাইকোর্ট আরও পর্যবেক্ষণ করে যে, তার কাছে এসসি শংসাপত্র থাকলেও তা এই ক্ষেত্রে গ্রাহ্য হবে না, কারণ ধর্মান্তরিত হলে পূর্ববর্তী জাতিগত পরিচয় বাতিল হয়ে যায়।
এরপর আনন্দ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেও অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের রায়ই বহাল রাখে শীর্ষ আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ জানায়, ‘বর্তমান ক্ষেত্রে এমন কোন প্রমাণ নেই যে আবেদনকারী খ্রিস্টান ধর্ম থেকে তার মূল ধর্মে ফিরে এসেছেন বা মাদিকা সম্প্রদায়ে তাকে পুনরায় গ্রহণ করা হয়েছে। বরং তিনি যে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে খ্রিস্টান ধর্ম পালন করে আসছেন এবং যাজক হিসেবে কাজ করছেন, তা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত।’
আদালত আরও যুক্ত করে, ‘ঘটনার দিনও যে তিনি বাড়িতে প্রার্থনা সভা পরিচালনা করছিলেন, তা সর্বজনস্বীকৃত। এই সমস্ত তথ্য থেকে কোন সন্দেহ থাকে না যে ঘটনার দিন তিনি একজন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীই ছিলেন।’
Supreme Court
ধর্মান্তরিত হলে হারাবে তফসিলি জাতির মর্যাদা: সুপ্রিম কোর্ট
×
Comments :0