Supreme Court

ছাত্রকে ৫ লক্ষ টাকার বন্ডের নোটিশ, গ্রেটার নয়ডার ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের

জাতীয়

দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক ছাত্রকে ৫ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ড দেওয়ার নোটিশ দেওয়ায় গ্রেটার নয়ডার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললো সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ জানতে চায়, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে কোনও ম্যাজিস্ট্রেট ওই ছাত্রের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ করতে পারেন।
এর আগে ৩৬ দিন ধরে চলা ওই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রদের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ না করার নির্দেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। সেই নির্দেশের পরও গৌতম বুদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র অক্ষত ত্রিপাঠীকে নোটিশ পাঠানো হয়। তাকে ৫ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ড এবং সমপরিমাণ অর্থের দু’টি জামিনদার বন্ড দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হয়েছিল। পরে পুলিশ ওই নোটিশ প্রত্যাহার করে নেয়।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ছাত্রদের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক বা জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অত্যন্ত স্পষ্ট ছিল। তার প্রশ্ন, সেই নির্দেশের পর কীভাবে কোনও ম্যাজিস্ট্রেট ছাত্রকে এমন নোটিশ দেওয়ার সাহস পেলেন। আদালত স্পষ্ট করে দেয়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কোনও ম্যাজিস্ট্রেট লঙ্ঘন করতে পারেন না।
বুধবার প্রবীণ আইনজীবী বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য মৌখিকভাবে বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন। তিনি জানান, পুলিশের রিপোর্টের ভিত্তিতেই নোটিশটি জারি করা হয়।
পুলিশের অভিযোগ ছিল, অক্ষত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মধ্যে ‘সরকারবিরোধী বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ছড়াচ্ছিলেন এবং উসকানি দিচ্ছিলেন’ এবং তাদের সিজেপি-র নেতৃত্বে আয়োজিত আন্দোলনে যোগ দিতে উৎসাহিত করছিলেন। তার কার্যকলাপের ফলে উত্তেজনা তৈরি হয়ে মারামারি বা বিবাদের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে এবং শান্তি ও জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও পুলিশ দাবি করে।
অন্যদিকে অক্ষত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার বক্তব্য, তিনি শান্তিপূর্ণভাবেই ওই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসেও যোগ দিচ্ছিলেন না বলে দাবি করেছেন তিনি।
বিষয়টি শুনে প্রধান বিচারপতি বলেন, আদালত এমন নোটিশ জারির ঘটনায় বিস্মিত। তিনি বলেন, দেশের তরুণদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই, কারণ এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আইনজীবীকে নোটিশ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য আদালতের নথিতে জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে গ্রেটার নয়ডা কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে বলে জানায় আদালত।
আইনজীবী বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য আদালতে বলেন, ছাত্রদের নিয়ে এই ধরনের পদক্ষেপ ‘ভারতের ছাত্রদের উপর একটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা’। নয়ডা ও উত্তরপ্রদেশের কর্তৃপক্ষ ছাত্রদের মধ্যে ‘ভয়ের পরিবেশ’ তৈরি করতে পারে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, নোটিশ প্রত্যাহার করে নিলেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘনের ঘটনা মুছে যায় না। তার বক্তব্য, আদালত অবমাননা একবার সংঘটিত হলে শুধু নোটিশ প্রত্যাহার করে তা খারিজ করা যায় না। তবে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি প্রশ্ন করেন, নোটিশ প্রত্যাহার হয়ে গেলে আদৌ কোনও আইনি পদক্ষেপের কারণ অবশিষ্ট থাকে কি না।
সিজেপি-র ওই আন্দোলন ঘিরে গত ২০ জুলাই দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের সংঘর্ষ হয়েছিল। সংসদের দিকে মিছিল এগোতে গেলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে।
নিট-এর অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ২০ জুন এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল। পরে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং সিজেপি-র অন্যান্য দাবির বেশ কিছু অংশ সরকার মেনে নেওয়ার পর আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়।
গত ৩১ আগস্ট দিল্লি পুলিশ সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছিল, ২০ জুলাইয়ের হিংসার ঘটনায় দায়ের হওয়া ১৩টি এফআইআর আর এগিয়ে নিয়ে যেতে তারা আগ্রহী নয়। দিল্লি সরকারও জানিয়েছিল, অপরাধমূলক মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আর কোনও আইনি পদক্ষেপ করা হবে না।
এখন গ্রেটার নয়ডার ছাত্রকে নোটিশ দেওয়ার ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment