Bengladesh

অন্তবর্তী সরকারের ১৭ মাসে বাংলাদেশে রাজনৈতিক হিংসায় নিহত ১৯৫

আন্তর্জাতিক

মীর আফরোজ জামান: ঢাকা

বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের ১৭ মাস, ২০২৪’র সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত, বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক ছিল বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। 
এই সংগঠন বলছে, এই সময়ে রাজনৈতিক হিংসা, উন্মত্ত ভিড়ের তাণ্ডব, সাংবাদিক নির্যাতন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের বহু ঘটনা ঘটেছে।
‘জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী মানবাধিকার পরিস্থিতি ও প্রাক্-নির্বাচনী সহিংসতা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম। মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন বলেন, ‘মব ভায়োলেন্স এমন পর্যায়ে গিয়েছিল যে সরকারি বাহিনীগুলো এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারেনি। মব সন্ত্রাস করে বিভিন্ন অফিস আক্রমণ করা হয়েছে।’
এইচআরএসএসের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ মাসে দেশে ১ হাজার ৪১১টি রাজনৈতিক সহিংসতায় কমপক্ষে ১৯৫ জন নিহত ও ১১ হাজার ২১৯ জন আহত হয়েছেন। আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক প্রতিশোধ, সমাবেশ ও নির্বাচনকেন্দ্রিক সংঘাত, চাঁদাবাজি ও স্থাপনা দখল এসব ঘটনার প্রধান কারণ। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে বিএনপি। দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৭০৪টি ঘটনায় ১২১ জন নিহত এবং ৭ হাজার ১৩১ জন আহত হয়েছেন।
একই সময়ে হামলার ২৩৬টি ঘটনায় ১৫৬ জন নিহত ও ২৪৯ জন আহত হন। এ ছাড়া ৩০০-এর বেশি মানুষ গুলিবিদ্ধ হন এবং শতাধিক রাজনৈতিক কার্যালয় ও ১৩০টির বেশি বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যানবাহনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত, তিন মাসে, ১৫৫টি নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতায় ৭ জন নিহত ও ১ হাজার ৪০৩ জন আহত হয়েছেন। উল্লেখযোগ্য ঘটনার মধ্যে পল্টনে গুলিবিদ্ধ হয়ে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ছাড়া চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন এলাকায় মনোনয়ন–বিরোধে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। 
শুক্রবার ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে যাত্রার সময় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৭ মাসে মব ভায়োলেন্স ও গণপিটুনির ৪১৩টি ঘটনায় ২৫৯ জন নিহত ও ৩১৩ জন আহত হন। সাংবাদিকদের ওপর ৪২৭টি হামলায় ৬ জন নিহতসহ ৮৩৪ জন নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হন। এ সময়ে ৪৯টি মামলায় ২২২ জন সাংবাদিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।
সাইবার নিরাপত্তা আইন ও সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের আওতায় ৪১টি মামলায় ৬৯ জন অভিযুক্ত ও ৩৩ জন গ্রেপ্তার হন। অধিকাংশ মামলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্টকে কেন্দ্র করে হওয়ায় আইনের অপব্যবহারের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এইচআরএসএস।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ, হেফাজতে থাকা অবস্থায় ও নির্যাতনে ১৭ মাসে ৬০ জন নিহত হয়েছেন। কারাগারে মৃত্যু হয়েছে ১২৭ জন আসামীর। প্রাক্তন শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনসহ কয়েকজনের মৃত্যু ঘিরে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ তুলেছে তাঁদের পরিবার। 
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ৫৬টি হামলায় ১ জন নিহত ও ২৭ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৭টি মন্দির, ৬৩টি প্রতিমা ও ৬৫টি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
দেশজুড়ে শতাধিক মাজারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সীমান্তে ১১০টি ঘটনায় ৪৩ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ-বার্মা সীমান্তে হামলায় ৩ জন নিহত হন। একই সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২ হাজার ৬১৭ জন। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার ১ হাজার ১৬ জন এবং শিশু নির্যাতনের ঘটনায় ৪৭৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া শ্রমিক নির্যাতন ও দুর্ঘটনায় শত শত শ্রমিক নিহত ও আহত হয়েছেন।
এইচআরএসএস জানিয়েছে, দেশের ১৫টি জাতীয় দৈনিক ও নিজস্ব উপায়ে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment