কৃষি দপ্তরে কর্মী সংকটের কথা মেনে নিলেও রাজ্যের কৃষি মন্ত্রী দুধ কুমার মন্ডল বুধবার কোচবিহারে নতুন করে কৃষি দপ্তরে কোন কর্মী নিয়োগের আশ্বাস দিতে পারলেন না!
উল্লেখ্য কৃষি মন্ত্রী মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবার পর বুধবার কোচবিহারে জেলার সব কৃষি আধিকারিকদের নিয়ে একটি বৈঠক করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। সেখানেই সাংবাদিকেরা বলেন, জেলায় কৃষককে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে হোয়াটসএপে! কারণ কোচবিহার জেলার ১২ টি ব্লকে কৃষি প্রযুক্তি সহায়কের আকাল চলছে এখন। গত ১৫ বছরে তৃণমূলের শাসনে কৃষি দপ্তরে কৃষি প্রযুক্তি সহায়ক বা কেপিএস নিয়োগ হয় নি। মাঠে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিতে বামফ্রন্ট সরকার ব্লকে ব্লকে কেপিএস নিয়োগ করেছিল। তাদের সিংহভাগ কর্মী অবসর নিয়েছেন।
অবস্থা এমন জায়গায় গিয়েছে যে জেলার প্রায় আড়াই লক্ষ হেক্টর জমিতে যে কৃষকেরা চাষ করেন তাদের মাঠে গিয়ে হাতে- কলমে বোঝানোর জন্য এই মুহুর্তে কেপিএস রয়েছেন মাত্র ১৩ জন! অথচ মোট কেপিএস পদের সংখ্যা ২৮৮। জেলার অনেক ব্লকেই একজন কেপিএসও নেই।
ফলে আধিকারিকদের হোয়াটসঅ্যাপে ছবি দেখে রোগ নির্নয় করে টিপস দেওয়া ছাড়া উপায় নেই আধিকারিকদের! বিকল্প হিসেবে কৃষকদের সাথে যোগাযোগ করতে তাদের সচেতন করতে শিবির করা হচ্ছে। কৃষি আধিকারিরা স্বীকার করছেন মাঠ পর্যবেক্ষণ করে আর ছবি দেখে মতামত দেওয়ার মধ্যে যথেষ্ট ফারাক রয়েছে। এক প্রকার বাধ্য হয়েই আধিকারিকেরা কৃষককে হোয়াটসঅ্যাপে ছবি দেখে টিপস দিচ্ছেন।
এদিন সাংবাদিকদের অন্য প্রশ্নের উত্তরে কৃষি মন্ত্রী বলেন, জেলায় কর্মী কম রয়েছে। দপ্তরের মহকুমা দপ্তর আরও একটি বাড়িয়ে ৫ টি করার পরিকল্পনা রয়েছে কৃষি দপ্তরের। ন্যাচারাল ফার্মিং ও অর্গানিক ফার্মিং জন্য বিনিয়োগকারীদের আনার কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগীতা চাওয়া হয়েছে। সারের সংকট,কালোবাজারি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, রবি মরসুমের চাষের জন্য সারের ঘাটতি নেই। তবে ডিস্ট্রিবিউশনের সমস্যা আছে। এদিন তিনি জেলায় বিকল্প চাষের কোন পরিকল্পনা আপাতত নেই বলে জানিয়েছেন।
Cooch Behar
কৃষি দপ্তরে কর্মী সঙ্কট! কোচবিহারে নিয়োগের আশ্বাস দিতে পারলেন না কৃষিমন্ত্রী
×
Comments :0