শিশু ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী মালতি রাভা রায়ের জেলায় ডিম, সবজি আর জ্বালানীর বকেয়া না মেটানোয় অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টারের হেঁসেল বন্ধের মুখে!
চার মাস ধরে শীতলখুচি ব্লকের ৩০০'র বেশি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মী ও সহায়িকারা শিশু ও মায়েদের পুষ্টির জন্য বরাদ্দ ডিম ও সবজির বকেয়া টাকা পাচ্ছেন না! আর জ্বালানীর বকেয়া টাকা মিলছে না ৮ মাস ধরে! তবুও নির্বিকার সিডিপিও!
নিরুপায় কর্মী ও সহায়িকারা ব্লকের সুসংহত শিশু বিকাশ কেন্দ্রের গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখালেও সমস্যার সুরাহা হয় নি।
সব মিলিয়ে পুজোর আগে শীতলখুচি ব্লকের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের হেঁসেল যে কোনদিন বন্ধ হয়ে যাবার মুখে।
শীতলখুচি ব্লকের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির বেশ কিছু ক্ষেত্রে কর্মী নিয়োগ না হওয়ায় একজন কর্মীকে দুটো সেন্টার চালাতে হয় একই ভাতাতে। তাদের মাথার ওপর দেনার চাপ আরো বেশি।
নিয়ম অনুযায়ী অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টারের কর্মীদের প্রতি মাসের ডিম সবজি আর জ্বালানী নিজেদের কিনে নিয়ে সেন্টারের হেঁসেল চালাতে হয়। পরের মাসে ব্লক অফিসে বিল জমা দিয়ে টাকা তুলে নিতে হয়। এবারে চার মাসের ডিম আর সবজির বিল সঙ্গে আট মাসের জ্বালানীর বিল দিতে না পারায় বাকিতে যারা সামগ্রী দেয় তারা আর ডিম সবজি জ্বালানী সাপ্লাই দিতে চাইছে না।
শীতলখুচির আল্পনা দাস দুটো সেন্টারের কর্মী। চার মাসে দুই সেন্টারের ডিম আর সবজির বকেয়া হয়েছে প্রায় এক লক্ষ টাকা! এতপর আছে ৮ মাসের জ্বালানীর বকেয়া। এত টাকা সরকার মিটিয়ে না দিলে কি করে হেঁসেল চলবে কি করে বুঝে উঠতে পারছেন না।
গোসাইরহাটের বারো ঘরিয়া সেন্টারে ২০০'র বেশি মা ও শিশু। মাসে ডিম আর সবজির জন্য লাগে ২০ হাজার টাকা। চার মাসে বকেয়া পড়েছে ৮০ হাজার টাকা। কি ভাবে চলবে সেন্টারের হেঁসেল। বুঝতে পারছেন না সেন্টারের কর্মী, সহায়িকা।
একই অবস্থা ছোট শালবাড়ির শিয়ালখোড়া, পেটলানেপড়া নগর নেপড়ার সেন্টার গুলিরও। এখানকার সেন্টারগুলিতেও মা-শিশুর সংখ্যা বেশি। ফলে বকেয়ার পরিমানও বেশি।
প্রিতীলতা বর্মন, জয়ন্তী রায়, কল্পনা সাহার মত কর্মীরা বকেয়ার দাবিতে অফিসে তালা মেরে বিক্ষোভ দেখালেও সমস্যার সুরাহা হয় নি।
শীতলখুচি ব্লকের সিডিপিও জয়ব্রত কুন্ডু মাথাভাঙা-এবং মাথাভাঙা-২ ব্লকেরও দায়িত্বে রয়েছেন। তিনিও সপ্তাহে দুদিনের বেশি শীতলখুচির ব্লক অফিসে সময় দিতে পারেন না।
ফলে প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলে বিডিওকেই অঙ্গনওয়াড়ির মত গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের হাল ধরতে হয়।
কেন মাসের পর মাস মিলছে না ডিম, সবজি আর জ্বালানীর বকেয়া? বরাদ্দ আসছে না? এই প্রশ্নের উত্তর সরাসরি মেলে নি। শীতলখুচির সিডিপিও অফিস সূত্রে জানা গেছে সমস্যা মেটানোর জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে।
বুধবার অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টারের কর্মী আলপনা দাস, রূপা সিংহ, স্বপ্না বর্মনেরা বলেন, বকেয়া না মেটালে সেন্টারের পুষ্টি হেঁসেল চালানো অসম্ভব।
Sitalkuchi
বন্ধের মুখে শীতলখুচি ব্লকের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের হেঁসেল
ফাইল ছবি
×
Comments :0