প্রথম দফা ভোটের পর প্রমোদ ভ্রমণে গঙ্গাবক্ষে নৌকাবিহার করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ফুরফুরে মেজাজ দেখিয়ে দ্বিতীয় দফার আগে এই বার্তা দিতে চেয়েছেন ১৫২ আসনের ভোটে বিজেপি ভালোই ফল করবে। তার পরেই নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দিয়ে মোদীর গ্যারান্টি’ হিসাবে ঘোষণা করলেন মহিলাদের বিরুদ্ধে এরাজ্যে ঘটে যাওয়া প্রতিটি অন্যায়ের ফাইল খুলবেন সরকার গড়লেই। কিন্তু উত্তর প্রদেশে ডাবল ইঞ্জিন থাকা সত্ত্বেও হাথরাস, উন্নাও-র ফাইল আজও কেন খোলা গেল না মোদী সেটা বলতে পারলেন না। তাঁর নিজের রাজ্য গুজরাটে ধর্ষক-খুনিদের জেল থেকে ছাড়িয়ে এনে মালা পরিয়ে বীরের সংবর্ধনা দিয়েছিল তাঁরই দলের নেতা-কর্মীরা। মোদী তাতে গর্বিত হয়েছিলেন না লজ্জিত হয়েছিলেন কখনও প্রকাশ করেননি। জম্মুতে এক কিশোরীকে মন্দিরে আটকে রেখে সাতদিন ধরে ধর্ষণ করেছিল পুরোহিত ও তার ছেলে। পরে পাথরে থেতলে খুন করা হয় মেয়েটিকে। ধর্ষক পুরোহিত পিতা-পুত্রকে পুলিশ ধরলে স্থানীয় বিজেপি বিধায়কের নেতৃত্বে মোদীর দল ধর্ষকদের মুক্তির দাবিতে মিছিল করেছিল। সেই ফাইল আজও খুলতে পারলেন না মোদী। আর যে অভয়ার বিচার পাইয়ে দেবার গ্যারান্টি মোদী পানিহাটিতে নির্বাচনী জনসভায় দিচ্ছেন এক বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রীর অধীনে সিবিআই তদন্ত না করে গায়ে হাওয়া লাগিয়ে বেড়াচ্ছিল সেই বিচার তিনি দেবেন ক্ষমতায় এলে। ক্ষমতায় এসে ছ’বছর সরকার চালানোর পরও ত্রিপুরায় কোনও ফাইল খোলেনি।
মোদী যখন গঙ্গায় নৌকাবিহার করছেন এবং বাংলায় ডাবল ইঞ্জিনের সরকার গড়ার জন্য গ্যারান্টির পর গ্যারান্টি দিয়ে চলেছেন তখন আর এক ডাবল ইঞ্জিনের রাজ্য মণিপুর জাতি দাঙ্গায় জ্বলছে। ক্ষমতা দখলে উদগ্র বাসনায় বিভাজনের রাজনীতিকে এতটাই ভয়াবহ করে তুলেছেন যে গত তিন বছর ধরে রাজ্যটি জ্বলছে। ৫০ হাজারের বেশি মানুষ ভিটে মাটি ছাড়া। প্রাণ গেছে শত শত মানুষের। তার মধ্যে শিশু-নারীর সংখ্যা উদ্বেগজনক। হাজার বাড়ি পুড়ে ছাই হয়েছে। মহিলাদের বিবস্ত্র করে জান্তব উল্লাসে রাস্তা ঘোরানো হচ্ছে। নরেন্দ্র মোদী নীরব। মণিপুরের নারীদের সম্মানে তাঁর মুখে কোনও কথা নেই। মণিপুরে ব্যর্থ অপদার্থ বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেই।
সেই মোদী বাংলায় ঘুরে ঘুরে মহিলাদের জন্য মায়া কান্না কাঁদছেন। রাজ্যে ২৯৪টি আসনে নিজেকে প্রার্থী ঘোষণা করে গ্যারান্টি দিচ্ছেন। জিতলে মন্ত্রিসভায় প্রথম বৈঠকে কি কি সিদ্ধান্ত হবে সেটাও বলছেন। গোটা দেশ ফেলে তিনি বাংলায় হত্যে দিয়েছেন। যেন তিনিই মুখ্যমন্ত্রী হবেন। অবশ্য শখ করে মোদীরা এতটা মরিয়া প্রচার করছেন না। এটা তাদের কাছে পরোক্ষে অস্তিত্বের সঙ্কটও। আগামী লোকসভায় ক্ষমতায় ফিরতে হলে বিরোধী কোনও রাজ্যে তাদের সরকার জরুরি। কেরালা, তামিলনাডুতে সেটা সম্ভব নয়। আছে শুধু বাংলা। গত লোকসভায় মোদীরা সরকারে এলেও এটা বিজেপি’র সংখ্যালঘু সরকার। অন্য দলের সমর্থনে সরকার চলছে। এক দশকে মোদীদের যাবতীয় নাটকবাজি, শয়তানি মানুষ ধরে ফেলেছেন। দেশে সামাজিক সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় বিভাজনের যে বিপজ্জনক পরিবেশ তৈরি হয়েছে তাতে সংহতি-ঐক্য-অখণ্ডতা বিপদের মুখে। গলাবাজি অনেক হলেও অর্থনীতি কিন্তু পশ্চাৎমুখী। অর্থনীতি কোনও ক্ষেত্রে সাফল্যের লেশ মাত্র নেই। বেকারি কমছে না। মূল্যবৃদ্ধি কমছে না। বিদেশি বিনিয়োগ আসছে না। দেশীয় বেসরকারি বিনিয়োগও নেই। রপ্তানি বাড়ছে না। বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে। মানুষের আয় বাড়ছে না কিন্তু ব্যয় বাড়ছে। ফলে পারিবারিক সঞ্চয় কমছে। সরকারি, বেসরকারি ঋণ বাড়ছে। এই মোদীদের আত্মরক্ষার একমাত্র উপায় জুমলাবাজি।
Jumla and Election
জুমলাই ভরসা
×
Comments :0