TMC Corruption

সঙ্গীসহ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত উদয়ন গুহ’র বিচার চাইছেন উত্তরবঙ্গের মানুষ

রাজ্য জেলা

জয়ন্ত সাহা: মাথাভাঙ্গা
প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ’র আমলে হওয়া প্রায় ৩০০ কোটি টাকার কাজ নিয়েই এখন সন্দেহ দানা বাঁধছে জনমনে! এ যেন "যত কান্ড উত্তরকণ্যা"য়! পুরনো ফাইল খুলতেই মন্ত্রী থেকে আমলা, ঠিকাদার সবাই একে একে চলে আসছে আতসকাঁচের নিচে! মন্ত্রীত্ব যাবার পর  উত্তরকন্যার অন্দরেই আলোচনা হচ্ছে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির মাঝেই  নিঃশব্দে উন্নয়নের টাকা লুট হয়েছে! উদয়ন গুহ’র  খাসতালুক দিনহাটায় গড়ে তুলেছিলেন নিজস্ব থ্রেট বাহিনী! এই "থ্রেট বাহিনী"র কেউ ছিল লোক দেখানো ব্যবসায়ী, কেউ বা দলের নেতা। এদের সকলের অবস্থা দশ বছর আগেও ছিল ‘নুন আনতে পান্তা ফুরনো’ গোছের। এখন তাদের গাড়ি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, জমি স-ব হয়েছে। পৌরসভার ভুয়ো প্ল্যান কান্ডে থ্রেট বাহিনীর সদস্য পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান গৌরীশংকর মাহেশ্বরী ও পৌরকর্মী মৌমিতা ভট্টাচার্য এখন জেল হেপাজতে রয়েছেন। আরও দুজন "থ্রেট বাহিনীর" নেতা হলেন ডালিয়া চক্রবর্তী(লোকে আড়ালে তাকে বেকার ডালিয়া বলে), আরেকজন হলেন প্রিয়াংকর রায়! দুজনেই এখন পলাতক। ডালিয়া চক্রবর্তী হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক কমিটির সভানেত্রী আর দিনহাটা-১ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধক্ষ্য। এনার আরও বড় পরিচয় হল প্রাক্তন মন্ত্রীর ‘ছায়াসঙ্গী’! এই তিন পদেই কিস্তি মাত করেছিলেন ‘বেকার ডালিয়া চক্রবর্তী’! ইনি শুধু মন্ত্রীর ছায়াসঙ্গীই ছিলেন না তার মাথার ওপর ছিল দাপুটে তৃণমূল নেতা দিনহাটা-২ ব্লক তৃণমূল সভাপতি দীপক কুমার ভট্টাচার্যের হাত! আবাস যোজনা থেকে রাস্তার কাজ, নিকাশি ব্যবস্থা থেকে বিদ্যুতায়ন সব কাজেই ‘কাটমানি’ ছাড়া কাজের উপায় ছিল না।আর তাতেই নিগমনগর এলাকার মাছবাজারে কাছে কিনেছেন কয়েক লক্ষ টাকার জমি। অভিযোগ দিনহাটা জুড়ে জমি কেনাবেচা হত এনার ইঙ্গিতেই। নিজের বাড়ি সংস্কারের কাজেও ব্যয় করেছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। মন্ত্রী উদয়ন গুহ’র ছায়া সঙ্গীর দাপট এতটাই ছিল যে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিও চলতেন এই কর্মাধ্যক্ষের অঙুলি হেলনে! ভোটের ফল প্রকাশের রাতেই উদয়ন গুহ এম্বুলেন্সে চেপে দিনহাটা ছাড়ার পর ইনিও এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন গোপন ডেরায়। কাটমানির টাকায় কেনা জমি বাড়ি সব পড়ে আছে দুর্নীতির নীরব সাক্ষী হয়ে। উদয়ন গুহ’র ‘থ্রেট বাহিনীর’ আরেক মুখ হল প্রিয়াংকর রায়! ইনি ‘কাটমানি’ আর জমি দখল স্পেশালিস্ট হিসেবেই এলাকায় যথেষ্ট নাম করেছিলেন গত ১৫ বছরে। এর আর্থিক ভাবে ফুলে ফেঁপে ওঠার কাহিনীও বেশ রোমাঞ্চকর! রকেটের গতিতে উত্থান শুরু হয় ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটে পুঁটিমারি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের পঞ্চায়েত ভোটে দাঁড়িয়ে। জিতেই উপপ্রধান। আর ৬ মাসের মধ্যেই দামি গাড়ি আর পেল্লাই বাড়ির মালিক হয়ে যান। এলাকার বাসিন্দা নিত্যানন্দ বর্মন বলেন,‘‘ও তো পঞ্চায়েত হবার আগে ঠিক মত খেতেও পেত না। উপপ্রধান হতেই বদলে গেল জীবনযাত্রা। ভোটের আগে বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকতো দামি গাড়ি,দামি কয়েকটা বাইক।’’ কি করে এলো এত টাকা? পুঁটিমারী-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা সত্যেন বর্মন বলেন, ‘‘গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় জমি কেনা বেচা সবেতেই প্রিয়াংকরকে কাটমানি দিতে হত। বাড়ি করলে বালি পাথর ওই সাপ্লাই দেবে। এটাই নিয়ম হয়ে গেয়েছিল। আর আবাস যোজনা থেকে সব প্রকল্পের কাটমানিই উদয়ন গুহ’র নাম করে ইনিই আদায় করতেন। এছাড়াও গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার হাট-বাজারের জমিতে দোকান করতে ‘নজরানা’ দিতে হত মন্ত্রীর ‘‘ছায়াসঙ্গীকে!’’ এলাকার বাসিন্দাদের মুখেই শোনা যায় চালসাতে রিসর্ট ব্যবসা আছে প্রিয়াংকর রায়ের! সাথে অংশিদার আছেন দিনহাটা শহরের আরেক নেতা। ভোটের ফল প্রকাশের আগে পর্যন্ত উদয়ন গুহ-র ‘থ্রেট বাহিনী’র ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না। এবারে প্রাক্তন তৃণমূল মন্ত্রী সহ তার থ্রেট বাহিনীর সঙ্গীদের দুর্নীতির বিচার চাইছেন সাধারণ মানুষ। আসলে সরকার বদলে যেতেই সিন্দুক ভেঙে বেরিয়ে আসছে প্রাক্তন মন্ত্রী উদয়ন গুহ ও তার ছায়া সঙ্গীদের দুর্নীতির হরেক কিসসা! উদয়ন গুহ মন্ত্রী হয়ে নিজে যেমন দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন তেমনি তার ছায়াসঙ্গীরা দেদার লুট চালিয়েছে। উদয়ন গুহ-র "থ্রেট বাহিনীর" সদস্যদের নামে প্রতিদিন সমাজমাধ্যমে পোষ্টের বণ্যা বইছে। প্রত্যেকের চাওয়া একটাই তদন্ত চাই,শাস্তি চাই। সেটিং করে কেউ যেন রেহাই না পায়।

Comments :0

Login to leave a comment