মুক্তধারা
গল্প
মাটির টানে
রাহুল চট্টোপাধ্যায়
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৪র্থ বর্ষ
মাটি থেকে বৃষ্টি ভেজা একটা সোঁদা গন্ধ উঠছিল।এর নামই বোধহয় মাটির গন্ধ।এ গন্ধ সকলে চেনে না,চিনলেও বুঝতে পারে না। জাকির নীচু হয়ে তার জমির গন্ধ নেয়। বুকটা ভরে ওঠে। মনে পড়ে আব্বার কথা।আব্বা তাকে হাত ধরে আনতো।এমন আশ্বিনে আব্বা তাকে ধানের গন্ধ চেনাতো।আব্বা আজ নেই,কিন্ত মনে হয় সেই চেনা গন্ধে আব্বা মিশে আছে।
জমিটা নির্ভর করে জীবন জাকিরের।আর খুব একটা কিছু জানে না সে। চিন্তা হয়। চারিদিক থেকে খবর আসে বাইরে থেকে কারা এসে নাকি সব জমিজমা নিয়ে নেবে।কি সব তৈরি করবে। হয়তো টাকা দেবে। কিন্তু তাতে কি জীবন চলবে? তার ছেলেটা তো ছোট।জমিটা থাকলে বুকে বল থাকবে। নয়তো যদি কাজ না পায়। মাথা ভর্তি হয়ে থাকে চিন্তায়। তারপর একসময় সব ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে দেখতে থাকে দূরে। কেমন ভোরের সূর্যটা একরাশ আলো ছড়িয়ে দিয়েছে এ সীমানায়, তাদের জমি আর আকাশ মিলে গিয়েছে,সবুজ ধানগাছের সারি সুতোর মতো দেখা যাচ্ছে,ভোরের পাখিরা সব বসছে উড়ছে।মনটা হালকা লাগে জাকিরের। আল্লাহকে স্মরণ করে। মনে মনে বলে,'না! যা হবার হবে'
'কি রে জাকির? দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কি ভাবছিস? আর ভাবতে হবে না, রহমতুল্লার বললো যে জমি একদিন বর্গায় তোর আব্বা আমার আব্বু পেয়েছিল সে সব নাকি নতুন করে আইন করে নতুন নিয়মে বেঁধে দেবে', আব্দুল এসে বলে।
'রহমত কি করে জানলো?' জাকির একটু রেগেই বলে ওঠে।
'আর খবর? শহরে গেছিল ও, ওখানে শুনেছে,বললো সত্যি খবর'
মনটা আবার ভার হয়ে ওঠে জাকিরের। তবে বুকে বল নিয়ে বলে,' দোবো না জমি, লড়াই হবে। আমার আব্বা যেমন লড়াই করে জমি আমায় দিয়ে গেছে,আমিও তেমন লড়াই করে ছেলের জন্য রেখে যাব'
এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে জাকির হনহন করে চলে যায় জমির আল দিয়ে ঐ দিগন্তের দিকে।
Comments :0