মানবিক ভাতা বৃদ্ধি সহ চার দফা দাবিকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রতিবন্ধী সম্মিলনী দার্জিলিঙ জেলা কমিটির পক্ষ থেকে মঙ্গলবার শিলিগুড়ি মহকুমা শাসকের মাধ্যমে জেলা শাসকের উদ্দেশ্যে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মানবিক ভাতা এক হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে অন্যান্য রাজ্যের মতো পাঁচ হাজার টাকা করা, এসআইআরে নাম বাদ যাওয়া বৈধ প্রতিবন্ধী ভাইবোন সহ পরিবারের সদস্যদের নাম দ্রুত নথিভুক্ত করা, অবিলম্বে ১০০দিনের কাজ প্রকল্পে প্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহন ও সরকারি গৃহ প্রকল্পে সংরক্ষনের প্রতিবন্ধীদের আইনানূগ সংরক্ষনের ব্যবস্থা করা, ইউডিআইডি কার্ড অনলাইনের আবেদনের জন্য সমস্ত গ্রামপঞ্চায়েত ভিত্তিক বিএসকে সেন্টারগুলিতে ইউডিআইডি কার্ড রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি।
গত ২০১৮সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রতিবন্ধী ভাই বোনেদের জন্য এক হাজার টাকা করে মানবিক ভাতা প্রদানের প্রকল্প গ্রহন করেছিলো। কিন্তু গত ছয় বছর ধরে প্রকল্পে প্রদেশ অর্থের পরিমান বৃদ্ধি করা হয়নি। কিন্তু রাজ্য সরকারি অন্যান্য প্রকল্প অন্নপূর্না ভান্ডার সহ অন্যান্য অনুদান অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিবন্ধী অধিকার আইন ২০১৬—র সেকশন ৩৮অনুয়ায়ী অতিমাত্রায় সাহায্য প্রয়োজন এমন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সরকার বিশেষভাবে আর্থিক সাহায্য প্রদানেও দায়বদ্ধ থাকবে। পাশাপাশি এছাড়াও প্রতিবন্ধী অধিকারর আইন ২০১৬—র সেকশন ২৪(ক) ধারা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ৫শতাংশ অর্থ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সংরক্ষিত তা প্রদান করার দাবিও জাননো হয়েছে। ক্রমবর্ধমান মূল্য বৃদ্ধির সময়ে বাজার মূল্যের সাথে সঙ্গতি রেখে তেলেঙ্গানা রাজ্য সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাসিক চার হাজার টাকা প্রদান করে। একইভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার মাসিক ছয় হাকার টাকা ভাতা প্রদান শুরু করেছে। পাশাপাশি দিল্লি, তামিলনাড়ু, হরিয়ানা, কর্নাটক, মনিপুর, গোয়া, রাজস্থান, গুজরাট সহ সিংহভাগ রাজ্যও দুই থেকে তিন হাজার টাকা মানবিক ভাতা প্রদান করা হয়।
সংগঠনের সাধারন সম্পাদক রামপ্রসাদ ভট্টাচার্য বলেন, নির্বাচনের আগে বর্তমান রাজ্য সরকারের প্রতিবন্ধীদের প্রতি প্রতিশ্রুতি ছিলো মানবিকভাতা এক হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করা হবে। বিজেপি সরকার গঠনের পর মানবিক ভাতা এক হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে মাত্র দেড় হাজার টাকা ঘোষনা করা হয়েছে। যদিও এখনও কেউ হাতে পাননি। মাঝে তিনমাস মানবিকভাতা বন্ধ ছিলো। রাজ্য জুড়ে আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এক হাজার টাকা দেওয়া শুরু হয়েছে। এসআইআরে প্রতিবন্ধী বহু ভাইবোনেদের নাম বাদ পড়েছে। প্রায় দেড় শতাধিক নাম বাদ পড়েছে। অনেকেরই সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের টাকা ঢোকেনি। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধীদের যে ঘর পাবার কথা সেই কাজ বর্তমান সরকার শুরু করেনি। ইউডিআইডি কার্ড করার ক্ষেত্রে অনলাইনে অ্যাপলিকেশন করতে হয়। সেক্ষেত্রে ক্যাফেতে গেলে ন্যূনতম ৫০থেকে ১০০টাকা দিতে হয়। প্রতিবন্ধী যে সমস্ত ভাইবোনেরা উপার্জনে অক্ষম তাদের পক্ষে এইভাবে অ্যাপলিকেশন করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। মহকুমা শাসকের অনুপস্থিতিতে এক্সিকিউটিভ অফিসারের হাতে স্মারকলিপি তুলে দিয়ে দাবি বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপি দেবার আগে শিলিগুড়ি মহানন্দা নদীর সেতুর নীচ থেকে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ভাই বোনদের নিয়ে মিছিল করে শিলিগুড়ি মহকুমা শাসকের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জেলা সভানেত্রী মনি থাপা, কাজল মিত্র, মহম্মদ তামিজ, মহম্মদ মিলাতু, বারনাড টোপ্পো, ভগবান লোহার, গীতা বর্মন, মরজিনা খাতুন সহ জেলার অন্যান্য নেতৃত্ব। প্রায় চার শতাধিক প্রতিবন্ধী ভাই বোন ও তাদের অভিভাবকেরা এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।
West Bengal State Disability Association
শিলিগুড়ির জেলা শাসকের উদ্দেশ্যে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রতিবন্ধী সম্মিলনীর স্মারকলিপি
×
Comments :0