জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ৯ অক্টোবর গোটা দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে এসএপআই এবং ডিওয়ািএফআই। ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তরমন্তরে ছাত্র- যুবদের ব্যাপকভাবে সমবেত হওয়ার ডাক দিয়েছেন দুই সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। শনিবার দিল্লি প্রেস ক্লাবে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে এসএফআই ও ডিওয়াইএফআই এই কর্মসূচি জানিয়েছে। এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে ডিওয়াইএফআই সর্বভারতীয় সভাপতি এ এ রহিম, সম্পাদক হিমগ্নরাজ ভট্টাচার্য, এসএফআই'র সর্বভারতীয় সভাপতি আদর্শ এম সাজি, সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য, যুগ্ম সম্পাদক ঐশী ঘোষ উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি ডিওয়াইএফআই কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য জি সি থমাস, সহ বিকাশ ঝা ও উপস্থিত ছিলেন।
ওই সাংবাদিক সম্মেলন থেকে গত ২ অক্টোবর জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে বিরোধীদের বিক্ষোভে পুলিশের ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সংগঠন দুটি। গতকালের ওই বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে পুলিশ এসএফআই ও ডিওয়াইএফআই'র ১২০০ জন কর্মীকে আটক করে , যদিও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে, পুলিশ এতটাই ভয় পেয়েছিলো যে হরিয়ানার কর্মী-সমর্থকদের আগের দিন রাতেই আটক করে পুলিশ। পাশাপাশি, গুজরাটের কর্মীরা দিল্লি পৌঁছাতেই তাঁদেরও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই ঘটনার ও নিন্দা জানিয়েছে সংগঠন দুটি।
এই বিষয়ে হিমগ্নরাজ ভট্টাচার্য বলেন, " দিল্লি পুলিশ বলেছিলো একটাও মাছি গলতে দেব না, দিল্লি পুলিশের সেই কথাকে উপেক্ষা করেই আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছি। বাঁধা দিয়ে আমাদের আটকানো যাবে না। সব ধরণের গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করব। তাদের সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন চালাবো। সেইসঙ্গে, ৭ ও ৮ তারিখ আমরা কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে জ্ঞানেশ কুমারের ভোটচুরির বিরুদ্ধে প্রচার করব। ৯ তারিখের দেশ জুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলবে। সেইসঙ্গে, ১০ তারিখ সিজেপি'র 'যন্তর মন্তর ২.০' কর্মসুচিকে সংহতি জানিয়ে এসএফআই ও ডিওয়াইএফআই সেখানে উপস্থিত থাকবে।"
তিনি আরও বলেন, " জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের পাশাপাশি ভোট চুরির সঙ্গী হিসাবে আগে থেকেই যাঁরা জ্ঞানেশ কুমারকে বিচার ব্যাবস্থার আওতা থেকে সুরক্ষিত করার চেষ্টা করেছিল তাঁদেরও খুঁজে বার করতে হবে। এমনকি যারা এই কাজ করার নির্দেশ দিয়েছিলো তাঁদেরও বিচার ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি, ভোটারদের সুবিধার্থে সব রাজ্যে চালু করতে হবে ৬ নং ফর্ম।"
এদিনের সাংবাদিক সম্মেলন থেকে মতাদর্শগতভাবে এক নয় এমন সব ধরনের রাজনৈতিক, গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল সংগঠন এবং সব অংশের মানুষকে এই আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি, এসআইআর পর্বে বাদ যাওয়া সমস্ত ভোটারদের এই আন্দোলনে সামিল করা হবে বলে এদিন জানিয়েছে সংগঠন দুটি।
এই বিষয়ে হিমগ্নরাজ ভট্টাচার্য বলেন, " আমরা আগেই বিভিন্ন জায়গায় এসআইআর নিয়ে ক্যাম্প করেছিলাম। এসআইআর পর্বে বাদ পড়েছিলেন বহু সংখ্যালঘু, মহিলা ও শ্রমজীবী মানুষ তাদের সহায়তা করা হয়েছে। তাদেরকে আমরা চিহ্নিত করে এই আন্দোলনে শামিল করব।"
Comments :0