Mamata Banarjee

তৃণমূলের নাম-প্রতীক ফ্রিজ: জরুরি শুনানির আর্জি, মামলা তালিকাভুক্ত করতে রাজি সুপ্রিম কোর্ট

জাতীয় রাজ্য

তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মমতা ব্যানার্জি। সোমবার তার আবেদনের জরুরি শুনানির আর্জি গ্রহণ করে মামলাটি তালিকাভুক্ত করতে রাজি হয়েছে শীর্ষ আদালত।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে শুনানির জন্য উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘নোটিফিকেশন জারি করার মাঝপথেই প্রতীক ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে। কী হচ্ছে? আমরা জরুরি তালিকাভুক্তির আবেদন করছি।’
তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধের জেরে গত বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী নির্দেশে দলের ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ঘাসফুল প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের বক্তব্য, বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন চিহ্ন (সংরক্ষণ ও বরাদ্দ) সংক্রান্ত ১৯৬৮ সালের আদেশের আওতায় বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
এর পর শুক্রবার দুই গোষ্ঠীকে পৃথক নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করে কমিশন। মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে দেওয়া হয় ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ফুটবল প্লেয়ার প্রতীক। অন্যদিকে অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী পেয়েছে ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং খাম প্রতীক।
সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা আবেদনে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত ব্যানার্জিকে মামলার পক্ষ করা হয়েছে।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর কমিশনের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন মমতা ব্যানার্জি। দলের নাম ও প্রতীক হারানোর ঘটনাকে তিনি সন্তানের থেকে মায়ের বিচ্ছেদের যন্ত্রণার সঙ্গে তুলনা করেন এবং দিনটিকে দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের একটি কালো দিন বলে উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, কমিশনের অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাকে কোনও চূড়ান্ত সমাধান হিসেবে মেনে নেবেন না। রাজনৈতিক, গণতান্ত্রিক এবং আইনি সব পথেই দলের পুরনো পরিচয় ও ‘ঘাসফুল’ প্রতীক ফিরে পাওয়ার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর সেই বিদ্রোহ ক্রমে বিধানসভা ও পরে সংসদ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। জুন মাসে ৫৮ জন বিদ্রোহী বিধায়ক বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত ব্যানার্জিকে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত করেন। মমতা শিবিরের মনোনীত শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পরিবর্তে ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্পিকার স্বীকৃতি দেন। এর কয়েক দিন পর বিদ্রোহের আঁচ পৌঁছে যায় সংসদীয় দলেও। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ২০ জন লোকসভা সাংসদ এনসিপিআই-তে যোগ দিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি দেন। তারা বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-কে সমর্থন করে নিজেদের একটি পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানান। 
অন্যদিকে, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন। ভোটগণনা হবে ৯ অক্টোবর। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হওয়ার পর নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন। একইভাবে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর নওদা ও রেজিনগর দুই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেন।

Comments :0

Login to leave a comment