বন্দে মাতরম গাওয়া নিয়ে কর্ণাটক বিধানসভা ও বিধান পরিষদে সোমবার উত্তেজনা ছড়াল। বিধানসভার অধিবেশনের শুরুতে সরকারি ভাবে বাজানো রেকর্ডিংটি দুই স্তবকের পর বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বিজেপির বিধায়করা প্রতিবাদ জানিয়ে ‘বন্দে মাতরম’-এর বাকি অংশ নিজেরাই গাইতে শুরু করেন।
কর্ণাটক সরকার সম্প্রতি রাজ্যের সরকারি অনুষ্ঠানগুলিতে ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দুই স্তবক গাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা রাজ্যপাল উপস্থিত থাকা অনুষ্ঠানে সম্পূর্ণ গান পরিবেশনের কথা বলা হয়েছে। ৮ সেপ্টেম্বরের সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী এই ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে।
সোমবার থেকে কর্ণাটক বিধানসভায় তিন দিনের বিশেষ অধিবেশন শুরু হয়েছে। রাজ্যের ভয়াবহ খরা পরিস্থিতি এবং পশ্চিমঘাট নিয়ে কস্তুরীরঙ্গন কমিটির রিপোর্টের প্রভাব নিয়ে আলোচনার জন্য এই বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে।
অধিবেশনের শুরুতে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন করা হয়। কিন্তু দুই স্তবক শেষ হওয়ার পরই রেকর্ডিং বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ক্ষুব্ধ বিজেপি বিধায়করা স্লোগান দিতে শুরু করেন এবং সম্পূর্ণ ‘বন্দে মাতরম’ গান করেন। স্পিকার জি এস পাটিল এ সময় পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
পরে স্পিকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব গ্রহণের অনুমতি দেন। মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার প্রয়াত প্রাক্তন বিধায়ক আর বি শিরিয়ন্নাভারের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
বিধান পরিষদেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেখানে বিজেপির সদস্যরা ‘বন্দে মাতরম’-এর বাকি স্তবকগুলি গাইতে থাকেন। সেই সময় পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম আহমেদ প্রচলিত রীতি অনুযায়ী সংবিধানের প্রস্তাবনা পাঠ করছিলেন। বিজেপি সদস্যরা সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে প্রশ্ন তোলেন, কেন জাতীয় গানটি সম্পূর্ণ বাজানো বা গাওয়া হল না।
‘বন্দে মাতরম’-এর দুই স্তবক গাওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। কর্ণাটক সরকারের বক্তব্য, সরকারি অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে গানটির পরিবেশনে একতা, মর্যাদা এবং উপযুক্ত প্রোটোকল বজায় রাখতেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশনায় ‘বন্দে মাতরম’-এর ছয়টি স্তবক সম্পূর্ণভাবে পরিবেশনের কথা বলা হয়েছে, বিশেষ করে জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে গানটি পরিবেশিত হলে। ফলে কর্ণাটক সরকারের নির্দেশকে ঘিরে কেন্দ্র-রাজ্য মতপার্থক্যও প্রকাশ্যে এসেছে।
এই নির্দেশের বিরুদ্ধে কর্ণাটক হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলাও দায়ের হয়েছে। ফলে বিধানসভায় সোমবারের ঘটনা ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে চলমান রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এলো।
Karnataka
কর্ণাটক বিধানসভায় ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে হইচই, পুরো গান গাইলেন বিজেপি বিধায়করা
×
Comments :0