SFI leader Kranti vows to fight on

কলেজের জন্য বিহারের হাজতে ৪০ দিন! লড়াইয়ের ঘোষণা এসএফআই নেত্রী ক্রান্তির

জাতীয়

বিহারে এসএফআই রাজ্য সভাপতি ক্রান্তি কুমারীকে তাঁর সংগ্রামের জন্য সংবর্ধনা জানাচ্ছেন এসএফআই-এর সাধারণ সম্পাদক কমরেড সৃজন ভট্টাচার্য |

আন্দোলন করেছিলেন সরকারি কলেজ চেয়ে। তার জেরে একাধিক ছাত্রছাত্রীকে জেলে ভরেছে বিহারের বিজেপি সরকার। টানা ৪০ দিন জেলে থেকে জামিন পেয়েছেন বিহারে এসএফআই রাজ্য সভাপতি ক্রান্তি কুমারী। তিনি জানিয়েছেন, জেলে ভরে আন্দোলনকে দমিয়ে দেওয়া যাবে না।
বিহারের নালন্দা জেলার নগরনৌসা শহরে সরকারি ডিগ্রি কলেজ করার আবেদন করেছিলেন। সেই দাবি নিয়ে আন্দোলন করায় বিহার প্রশাসন ৪০ দিন জেলবন্দি করে রাখে এসএফআই বিহার রাজ্য সভাপতি ক্রান্তি কুমারী সহ এসএফআই কর্মীদের। 
জেলমুক্তির পর একটি ভিডিও বার্তায় ক্রান্তি কুমারী বলেন, 'নগরনৌসা ব্লক সদর দপ্তরে ডিগ্রি কলেজ খোলার দাবিতে ২০ মে  থেকে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। এই দাবিতে ৩০ মে আমরা রাস্তায় প্রতিবাদে নামি, প্রায় ৫ ঘন্টা রাস্তা অবরোধ করে রাখা হয়। ওখানকার এসডিএম অমিত প্যাটেলের তরফে দাবি পূরণের আশ্বাস পাওয়ার পরেই এসএফআই-র তরফে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। এরপর, কলেজের কাজ শুরু হলেও  ২-৩ দিনের মধ্যেই তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।" 
এই ঘটনা ওখানকার গ্রামবাসী ও এসএফআই কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। তিনি জানান, "১৮ জুন ফের এই দাবিকে সামনে রেখে রাস্তায় প্রতিবাদ জানান তারা। তখন প্রশাসনের তরফে গ্রামবাসী ও এসএফআই কর্মীদের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদীদের মতো ব্যবহার করা হয়। আন্দোলনকে স্তিমিত করা যাবে ভেবে, ৫  এসএফআই কর্মীকে শুরুতেই আটক করে প্রশাসন। তারপরেও আন্দোলনকারীরা রাস্তায় বিক্ষোভ দেখায়। ওই দিন বহু আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়। ৬৫ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়। সেইসঙ্গে, ৪৫ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। দু’টি আলাদা আলাদা থানায় আন্দোলনকারীদের রাখা হয়।" 
আন্দোলনকারীরা ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও তাদের ওপর ব্যাপক অত্যাচার চালায় পুলিশ। ক্রান্তি আরও বলেন, ‘‘পুলিশ আন্দোলনকারীদের জীবন বরবাদ করে দেওয়ারও হুমকি দেয়। প্রশাসনের তরফে গ্রামবাসীদের মারধরও করা হয়। এমনকি মহিলাদের ওপরও অত্যাচার নামিয়ে আনা হয়। এমনকি এসএফআই-র মহিলা কর্মীদের টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায় পুলিশ।" 
ক্রান্তি কুমারী এদিন ভিডিও বার্তায় জানান যে, কলেজ তৈরির দাবি সহ প্রশাসনের এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে এসএফআই লড়াই চালিয়ে যাবে। ৪০ দিন জেলে কাটানোর পর ২৭ জুলাই তাঁদের জামিন দেওয়া হয়। তিনি জেলে থাকার অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আন্দোলনকারীদের জেল হেফাজতে রাখা হলে জেলের মধ্যেও ব্যাপক অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। জেলের মধ্যেও কখনও চিকিৎসা, কখনও খাবারের জন্য আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যেতে হয়েছে। সেইসঙ্গে, মারার ভয় দেখিয়ে জেলের মধ্যে আমাদের দাবিয়ে রাখারও চেষ্টা করা হয়। 
অদম্য ক্রান্তি বলেছেন, ‘‘আমরা এসএফআই-এর তরফে ঠিক করেছি আমাদের যে দাবি ছিল জেল যাওয়ার পরেও আমরা আমাদের দাবি থেকে থামবো না। আমরা এই লড়াই চালিয়ে যাব। সেইসঙ্গে, ছাত্রদের ভবিষ্যত নিয়ে যেভাবে খেলা হয়েছে তার জন্য প্রশাসনের বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

Comments :0

Login to leave a comment