Rivers Erosion In North Bengal

ফুঁসছে উত্তরবঙ্গের নদীগুলো, ভাঙনে ঘুম উড়েছে বাসিন্দাদের

জেলা

জয়ন্ত সাহা: কোচবিহার
কোচবিহারের সুটুঙা নদীর ভাঙনে ঘুম উড়েছে চ্যাংরাবান্ধার। জেলার বানেশ্বরের সিদ্ধেশ্বরী গ্রামের দিকে গতিপথ বদলে এগিয়ে আসছে "বউটি", নদী! ভারী বৃষ্টিতে শুধু কোচবিহার নয় উত্তরবঙ্গের বেশিরভাগ নদীই ফুঁসছে। দেখা দিয়েছে ভাঙন। শুধু উত্তরবঙ্গের জেলা গুলিতে সেচ দপ্তর ১৯ টি জায়গায় নদী ভাঙনকে চিহ্নিত করেছে। এরমধ্যে সুটুঙ্গা বা বউটির মত ছোট নদী গুলির ভাঙ্গন চিহ্নিত হয় নি। সেচ দপ্তরের হিসেব অনুযায়ী তাদের চিহ্নিত এলাকায় ইতিমধ্যে  ক্ষয়ক্ষতির আনুমানিক পরিমান ১১-১২ কোটি টাকা! পূর্নাঙ্গ ক্ষতির পরিমান কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে কেউ জানে না।
রাজ্যের নতুন সরকার ক্ষমতার আসার পর বন্যা প্রতিরোধে জরুরী বৈঠক হয়েছিল। সূত্রের খবর তার ভিত্তিতেই জরুরী রিপোর্ট গেছে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ে।রিপোর্ট গেছে সেচ দপ্তরেও। সেচ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে চিহ্নিত ১৯ টি জায়গায় আপৎকালীন পরিস্থিতিতে বালি ভর্তি বস্তা ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। নদী ভাঙন প্রতিরোধে বালি- পাথর-তারজালি মজুত করছে সেচ দপ্তর। নদীর জল কমলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ পুরোদমে শুরু হবে।


সূত্রের খবর মুখ্যমন্ত্রীর সভিবালয়ে যে রিপোর্ট গেছে তাতে কোচবিহারের মাথাভাঙার ইন্দ্রেরকুটিতে মানসাই নদীর ভাঙন, শিতলখুচির বারোমাসিয়া এলাকায় রত্নাই নদী, নাকারজান এলাকার গিরিধারি নদীর ভাঙনের পাশাপাশি আলিপুরদুয়ারের ফেরসাবাড়িতে রায়ডাক-২ নদী, ফলিমারিতে সংকোশ নদীর ভাঙ্গনের উল্লেখ আছে।এছাড়াও শিলিগুড়ির বালাসন, ডুডুলং ছাড়াও বেশ কিছু জায়গার উল্লেখ রয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলার ডায়না, তিস্তা, জলঢাকার ভাঙনের উল্লেখ রয়েছে।
চালু হয়েছে ফ্লাড কন্ট্রোল রুম। চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। চালু রাখবে সেচ দপ্তর। এদিকে সুটুঙার ভাঙনে আতঙ্কিত মেখলিগঞ্জের চৌরঙ্গী এলাকা। পশ্চিমপাড়া থেকে চৌরঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছন থেকে সেনপাড়া পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভাঙন চলছে। ইতিমধ্যে চা-বাগানের বেশকিছু জমি, চাষের জমি, শশ্মান ঘাট নিশ্চিহ্ন হয়েছে। গ্রামীণ সড়কপথের পাশ দিয়ে বইছে নদী।
ক্ষুদ্র চা বাগানের মালিক রঞ্জিত বৈরাগীর আক্ষেপ, "কয়েক বিঘা বাগানের জমি ইতিমধ্যে গেছে নদীর পেটে।এবারে সেচ দপ্তর এগিয়ে না এলে বাগানের সবটাই নদী গিলে খাবে। এলাকার বাসিন্দা জ্যোতিষ সেনও চাইছেন সেচ দপ্তর ব্যবস্থা নিক। তাঁর সবজি, ধানের জমি গিলেছে নদী। তাঁর ভয় ভিটেমাটিও না ভাঙনের কবলে পড়ে।
বাণেশ্বরের সিদ্ধেশ্বরী গ্রামের জেলেপাড়ার অনেক বাড়ি ও চাষের জমি চলে গেছে "বউটি" নদীর গ্রাসে। গত ৩/৪ বছরে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে ৪০/৪৫ টি পরিবার।এবারের ভাঙন যেন আরও প্রবল, বলছেন গ্রামের বাসিন্দা সুমতি বর্মন। তাঁর বাড়ির পাশে চলে এসেছে নদী। মানিক বর্মনের জমি গত দুই বছরে চলে গেছে নদী গর্ভে। আরেক গ্রামবাসী মনোরঞ্জন বর্মন হারিয়েছেন ৫ বিঘা চাষের জমি। বাঁধ না হলে সমূহ বিপদ। গ্রামবাসীদের বক্তব্য, আগে জেলাপরিষদ ব্যবস্থা নিতো।এবারে তো জেলাপরিষদ খোঁজ খবরই নেয় নি। "বউটি"নদীর ভাঙন ঠেকাতে চাই ৭০০ মিটার নদী বাঁধ।কিন্তু বরাদ্দ কোথায়? জেলা সেচ দপ্তরের একজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার জয়প্রকাশ পান্ডে বলছেন, “ভাঙনের বিষয়টি তাদের নজরে আছে।”

Comments :0

Login to leave a comment