Jamalzadah Sangha Cooperative

ফান্ড নয়ছয়ের অভিযোগ, তালা বন্ধ জামালদহ সংঘ সমবায়ের কার্যালয়ে

জেলা

তালা ঝুলছে জামালদহ সংঘ সমবায়ের কার্যালয়ে। সদস্যরা বাইরে অপেক্ষায়।

পনের বছরে জেলার স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির মাথায় বসানো হয়েছিল তৃণমূলের নেতাদের ঘনিষ্ট আত্মীয়দের। আর তাদের হাত ধরেই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে গ্রাম ও শহরের মহিলাদের স্বনির্ভর করার বদলে গোষ্ঠীর মাথারা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। জমানো টাকা নয়ছয় করেছেন বলে একের পর এক অভিযোগ উঠছে! 
এবারে কাটমানি থেকে প্রগতি ফান্ড নয়ছয়ের অভিযোগ প্রকাশ্যে এল! বিতর্কে জামালদহ সঙ্ঘ সমবায়। অভিযোগ আর পালটা অভিযোগে দু’সপ্তাহ ধরে বন্ধ কার্যালয়! একসময় কোচবিহার জেলার অন্যতম মডেল স্বনির্ভর গোষ্ঠী সংগঠন হিসাবে পরিচিত ছিল জামালদহ সঙ্ঘ সমবায়। 
৫১১টি মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও প্রায় ৫ হাজার সদস্যাকে নিয়ে গড়ে ওঠা এই সংগঠন বর্তমানে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে বিতর্কের মুখে পড়েছে। অভিযোগকারী সদস্যাদের দাবি, সঙ্ঘ সমবায়ের কো-অর্ডিনেটর, সিএসপি এবং বোর্ড অব ডিরেক্টরসের একাংশ ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে কাটমানি আদায়, প্রগতি ফান্ডের অর্থ নয়ছয়, সংঘের গাড়ি বিক্রি এবং বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করেও সদস্যাদের প্রাপ্য পারিশ্রমিক না দেওয়ার অভিযোগ সহ একাধিক অনিয়মে জড়িত।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কিছু সদস্য ইতিমধ্যেই ব্লক প্রশাসন ও মেখলিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই অভিযোগকে ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় গত  দু’সপ্তাহ ধরে জামালদহে সংঘ সমবায়ের কার্যালয়ে  ঝুলছে তালা। ফলে সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়েছে সংগঠনের স্বাভাবিক পরিষেবা ও কার্যক্রম। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সব কাজ বন্ধের মুখে। গোষ্ঠীর সদস্যাদের আশঙ্কা প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে মুখ থুবড়ে পড়বেন প্রায় ৫ হাজার মহিলা সদস্যা।
তবে সমস্ত অভিযোগই সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন সংঘের কো-অর্ডিনেটর তৃপ্তি রায় বীরবর্মণ, কোষাধ্যক্ষ রত্না বর্মণ, সম্পাদিকা বীণা বর্মণ বসাক সহ অন্যান্য পদাধিকারীরা অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন। দু’সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সঙ্ঘ সমবায়ের অচলাবস্থা কাটাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা না যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে সদস্যাদের একাংশের মধ্যে।
অভিযোগ আর পালটা অভিযোগের মাঝেই প্রশাসনের ভূমিকা যথেষ্ট সন্দেহজনক। অভিযোগ পাওয়ার পরেও কেন ওই সঙ্ঘের অডিট করে সত্যতা যাচাই না করে "ধীরে চলো নীতি" নিয়ে চলছে প্রশাসন, উঠছে সেই প্রশ্নও।
স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সাধারন সদস্যা নমিতা বর্মণ, মিনতী রায়দের বক্তব্য, ঋণের টাকা, সুদ কিছুই তো ব্যাঙ্ক ছাড়বে না। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিক। কেউ দুর্নীতি করলে প্রশাসন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক। স্বাভাবিক ছন্দে ফিরুক স্বনির্ভর গোষ্ঠী। পদাধিকারীদের বক্তব্য প্রশাসন অডিট করুক। সত্য সামনে আসুক।

Comments :0

Login to leave a comment