গত কয়েকদিন ধরে পাহাড়ে অবিরাম বর্ষণেরর কারণে পাহাড়ি নদীগুলিতে জলস্তর বাড়ছিলো। আচমকাই পাহাড়ের গা বেয়ে জল নেমে বালাসন নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় একরকম হড়পা বান আসে। ফলে নদীতে হু হু করে জল বাড়তে শুরু করে।
বালাসন নদীর স্রোতে ভেসে যাওয়া আরোহী সহ গাড়ি উদ্ধার হয়েছে দুধিয়ার স্থানীয় যুবকের তৎপরতায়। জানা গেছে মঙ্গলবার রাতে বেশ কয়েকজন যুবক যুবতী দুধিয়ার বালাসন নদীতে একটি গাড়ি নিয়ে নেমে পড়ে। নদীর তীরের এদিক ওদিক গাড়িতে চেপে ঘোরাঘুরি করছিলো যুবক যুবতীরা। সেই সময় আচমকাই পাহাড়ি নদী বালাসনের জলস্তর অত্যাধিক হারে বেড়ে যাওয়া। জল বাড়তে থাকলেও রাতের অন্ধকারে দুধিয়ার বালাসন নদীতে গাড়ি নিয়ে নেমে পড়েন চারজন যুবক যুবতী। ফলে ঘুটঘুটে অন্ধকারে গাড়ি সহ মাঝনদীতে আটকে পড়ে যুবক যুবতীরা। এই অবস্থায় গাড়ির মধ্যেই আটকে পড়াযুবক যুবতীরা আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার শুরু করে দেয়। গাড়িতে করে নদী পাড় করতে না পেরে যুবকযুবতীরা কোনরকমে গাড়ির ওপরে উঠে দাঁড়ায়। ঘটনা স্থানীয় যুবকের নজরে আসতেই ঝাঁপিয়ে পড়ে নদীর স্রোতের উল্টো দিকে দাঁড়িয়ে দড়ি দিয়ে বেঁধে একে একে চার যুবক যুবতীদের উদ্ধার করে। গাড়িটিকেও উদ্ধার করা হয়। পরে প্রত্যেকেই নিরাপদ জায়গায় নিয়ে আসা হয়।
স্থানীয়রা জানান, গাড়িটি পাথরের মধ্যে আটকে পড়েছিলো। স্থানীয় যুবক প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে দুই জন যুবক ও দুই জন যুবতীকে উদ্ধার করে। প্রসঙ্গত পাহাড় ও সমতলে দফায় দফায় বৃষ্টিপাত হয়েই চলেছে। পাহাড়ের বৃষ্টির কারনে স্বাভাবিকভাবেই সমতলের নদীগুলো ফুলেফেঁপে উঠেছে। নদীর তীরবর্তী এলাকা বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। অবিরাম বর্ষনে পাহাড়ধসপ্রবন হয়ে উঠেছে। ধসের কবলে পড়েছে ১০নম্বর জাতীয় সড়ক। প্রতিনিয়ত ছোট বড় ধস নামছেই। এই অবস্থায় রাতের অন্ধকারে যুবক যুবতীদের বালাসন নদীতে গাড়ি সমেত নেমে পড়ার কান্ডজ্ঞানহীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
Comments :0