Gujarat Radicalisation SOP

দাড়ি রাখলে দেশবিরোধী! গুজরাট পুলিশের নির্দেশিকায় উদ্বেগ, চিঠি ব্রিটাসের

জাতীয়

দাড়ি রাখলে বা নিকাব পড়লে তো বটেই, সেই সঙ্গে আরবি ভাষায় অভিবাদন জানালেও কোনও মুসলিমকে দেশবিরোধী হিসেবে সন্দেহ করা হবে। বিশ্বের কোনও দেশে মুসলিমরা আক্রান্ত হলে তার প্রতিবাদ জানানোও বিপদ। ধরা হতে পারে সন্ত্রাসবাদী বা উগ্র ভাবধারার অনুগামী হিসেবে।
গুজরাট পুলিশের নির্দেশিকা বলে এমনই বিধি বেরিয়ে পড়েছে নেট দুনিয়ায়। এই স্টান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর’ ঘিরে উদ্বেগ এবং ক্ষোভ জানাচ্ছে বিভিন্ন অংশ।
বুধবার গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেলকে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন সিপিআই(এম) সাংসদ জন ব্রিটাস। 
ব্রিটাস লিখেছেন, ’’এই খবর সত্য হলে তা গভীর চিন্তার। দেশের সুরক্ষায় রোধে সব রকম ভূমিকা নিশ্চয় সরকারকে নিতে হবে। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহও করা দরকার। পাশাপাশি দেশের সংবিধানকে বিবেচনায় রেখেই তা করতে হবে। সংবিধানে নাগরিকের যে অধিকার নিশ্চিত করা রয়েছে তাকে মান্যতা দিতে হবে।’’  
গতকাল, মঙ্গলবারই সাংবাদিক সম্মেলনে গুজরাট পুলিশের এমন নির্দেশিকায় প্রশ্ন তোলেন সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। নয়া ফ্যাসিবাদী প্রবণতার অন্যতম লক্ষণ হিসেবেও এমন প্রশাসনিক কার্যবিধিকে চিহ্নিত করেন তিনি। 
গুজরাট পুলিশের এই কার্যবিধি সংক্রান্ত নির্দেশিকা জেলায় জেলায় পাঠানো হয়েছে বলে খবর। মানবাধিকার কর্মীদের তরফে এই পদক্ষেপকে ধিক্কার জানানো হয়েছে। 
তাঁরা বলছেন, এই নির্দেশিকা অনুযায়ী শুধুমাত্র ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী হিসাবে গণ্য করা হতে পারে। যা দেশের সমতা ও সংবিধান প্রদত্ত ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারকে লঙ্ঘন করে। 
মানবাধিকার কর্মী সবনম হাসমি একটি সংবাদ মাধ্যমে বলেছেন, ‘‘ধর্মীয় সংখালঘুদের অপরাধী গণ্য করার মনোভাবকে প্রাতিষ্ঠানিক চেহারা দেওয়া হয়েছে এই নির্দেশিকায়। সেইসঙ্গে, তিনি অভিযোগ করেন যে এর মাধমে মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষের সাধারণ ধর্মপালন ও ধর্মীয় বিশ্বাসকে সন্দেহের ভিত্তি বানানো হচ্ছে।’’ 
তিনি বলেন, "এসওপি-র সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকগুলোর মধ্যে একটি হলো, মুসলিমদের দৈনন্দিন ধর্মীয় রীতিনীতি এবং সাংস্কৃতিক চিহ্নগুলোকে সন্দেহের চোখে দেখা। দাড়ি রাখা, নিকাব পরা, প্রচলিত আরবি অভিবাদন ব্যবহার করা বা রমজানে ইতিকাফ করার মতো প্রথাগুলোকে কার্যত দেশবিরোধী হিসাবে দেখা হচ্ছে।"
সংখ্যালঘু অধিকার বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠনের বক্তব্য, এই এসওপি প্রত্যাহারের দাবিতে গুজরাট সরকারের কাছে ইতোমধ্যেই আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। কোনও সন্তোষজনক সাড়া না পাওয়া গেলে গুজরাট হাইকোর্টে আবেদন জানানো হবে।

Comments :0

Login to leave a comment