ফের উত্তেজনা বাড়ালেন আমেরিকার রাষ্ট্রপতি। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে হরমুজ প্রণালি দখলে নেবে আমেরিকার সেনা। বিশ্বে পেট্রোপণ্য সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে ‘অভিভাবকের দায়িত্ব নেবে’।
সোমবারই ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডস বিবৃতিতে আমেরিকার খবরদারির প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নৌ পরিবহণ স্বাভাবিক করতে হলে আমেরিকার সামরিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে যে হস্পক্ষেপ চলতে থাকলে পরিস্থিতি যে দিকে গড়াবে তাতে আন্তর্জাতিক তেল এবং গ্যাস বাণিজ্যে গুরুতর প্রভাব পড়বে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকা-ইজরায়েল ইরানের ওপর একতরফা হামলা চালায়। সে সময় আমেরিকা প্রচার করেছিল যে পরমাণু বোমা বানাচ্ছে ইরান। রাষ্ট্রসঙ্ঘের সংশ্লিষ্ট নজরদারি প্রতিষ্ঠান আইএইএ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয় যে পরমাণু বোমা বানানোর আশেপাশেও ইরান নেই।
আমেরিকা-ইরান সমঝোতা হলেও মধ্য প্রাচ্যে ফের সংঘাতের মাত্রা বাড়ছে। তার মধ্যেই আমেরিকার সংবাদমাধ্যম ‘ফক্স নিউজ’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হরমুজ প্রণালি দখলের হুমকি দিলেন ট্রাম্প।
ইরান-আমেরিকা সমঝোতায় বলা হয়নি যে আমেরিকার দখলে থাকবে হরমুজ প্রণালি।
ইরান একাধিক দফায় অভিযোগ করেছে যে আমেরিকা সমঝোতা মানছে না। আমেরিকার নৌবাহিনীর খবরদারি বন্ধ হয়নি। তার মধ্যে রবিবার সংঘাতের মাত্রা বাড়তে থাকে। তার জেরে, একটি ঘটনায়, ভারতীয় নাবিকরাও আক্রান্ত হয়েছেন। ইরান মধ্য প্রাচ্যের একাধিক দেশে আমেরিকার সেনা ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। আমেরিকা হামলা চালায় ইরানের বন্দর আব্বাস, কাশেম আইল্যান্ডে।
মধ্য প্রাচ্যে উত্তেজনর জেরে একদল বহুজাতিক তেল সংস্থা এবং বিমা সংস্থার মুনাফা চড়চড়িয়ে বাড়ছে। উত্তেজনার খবর পেলেই চড়ছে অপরিশোধিত তেলের দামের সূচক। তার জেরে গোটা বিশ্বে বাণিজ্য সঙ্কটের মুখে পড়ছে।
সোমবারও আমেরিকা ইরানের বিভিন্ন জায়গায় বোমা ফেলেছে। কেবল সামরিক পরিকাঠামো নয়, সাধারণ নাগরিক পরিকাঠামোর ওপরও ফেলা হয়েছে বোমা। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে বহু মানুষ আহত হয়েছেন আমেরিকার হামলায়।
জবাবী হামলায় জর্ডান, বাহরিন, কুয়েত, ওমানে আমেরিকার সেনা ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ফেলা হয়েছে।
Trump Hormuz Takeover
হরমুজ প্রণালি দখলে নেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের, উত্তেজনা তুঙ্গে
×
Comments :0