Suvendu Adhikari Janata Darbar

মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে কামদুনি-কাণ্ডে নির্যাতিতার পরিবার

রাজ্য

কামদুনি দলবদ্ধ ধর্ষণ ও খুনকাণ্ডের ১৩ বছর পর ফের সামনে এল বিচার পাওয়ার দাবি। বুধবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতা দরবার কর্মসূচিতে উপস্থিত হন কামদুনির নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যরা। তাদের সঙ্গে ছিলেন ২০১৩ সালের কামদুনি আন্দোলনের অন্যতম মুখ টুম্পা কয়াল ও মৌসুমি কয়াল।
রাজ্য সরকারের এক আধিকারিক জানান, জনতা দরবার-এ জমা পড়া সমস্ত অভিযোগ ও আবেদন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দফতরের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই প্রতি সপ্তাহে সাধারণ মানুষের অভিযোগ সরাসরি শোনার উদ্দেশ্যে জনতা দরবার কর্মসূচি চালু করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। গত ১৮ মে প্রথম এই কর্মসূচির সূচনা হয়।
সম্প্রতি রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য কামদুনি-কাণ্ডের ফাইল পুনরায় খোলার প্রসঙ্গ তোলার পরই নির্যাতিতার পরিবারের এই সাক্ষাৎ রাজনৈতিক মহলেও তাৎপর্য তৈরি করেছে।
২০১৩ সালে উত্তর ২৪ পরগনার কামদুনিতে বাড়ি ফেরার পথে এক কলেজছাত্রীকে অপহরণ করে একটি কৃষিক্ষেতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে খুন করা হয়। পরদিন সকালে উদ্ধার হয় তার দেহ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা রাজ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে এবং মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ে তৎকালীন সরকার। যখন এই ঘটনা ঘটে তখন শুভেন্দু ছিলেন তৃণমূলের নেতা। মমতা ব্যানার্জির সাজানো ঘটনা, ছোট ঘটনার তত্ত্ব গুলোকে সেই সময় শুভেন্দু সমর্থন করেছে।
২০১৬ সালে জেলা আদালত মামলার তিন অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। পরে কলকাতা হাইকোর্ট দুই অভিযুক্তের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত করে এবং একজনকে বেকসুর খালাস দেয়। পাশাপাশি বাকি তিন দোষীর সাজাতেও পরিবর্তন আনা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন, পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকার সুপ্রিম কোর্টে ন্যায়বিচারের দাবিতে নির্যাতিতার পরিবারের আইনি লড়াইয়ে যথাযথ সহযোগিতা করেনি। তার আগের দলের সেই ভূমিকার কোন সমালোচনা তৃনমূলে থাকাকালিন সমালোচনা করেননি শুভেন্দু। তার দাবি, বর্তমান সরকার পরিবারের পাশে দাঁড়াবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেবে।
নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ, মামলায় এখনও পূর্ণাঙ্গ বিচার হয়নি। তাদের দাবি, তদন্তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক যথাযথভাবে আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়নি এবং পুলিশি তদন্তেও ত্রুটি ছিল। সেই কারণেই তারা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।
উল্লেখ্য, ঘটনার পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি কামদুনি সফরে গেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। সেই সময় তিনি আন্দোলনকারীদের মধ্যে মাওবাদীদের উপস্থিতির অভিযোগ তোলেন, যা ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

Comments :0

Login to leave a comment