বিশেষ সংবাদদাতা
এক সঙ্গে ২০ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা রুখে দিল বাংলাদেশ। ঢাকা দাবি করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী শনিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চৌকা সীমান্ত দিয়ে ২০ জনকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে সীমান্তে টহলরত বিজিবি সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়। সেই দলে ছিলেন ১১ জন মহিলা, ১৪ জন শিশু এবং ৫ জন পুরুষ। তাদের প্রবেশে বাধা দেয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তে কড়াকড়ি অবস্থানের কারণে তারা দীর্ঘ সময় ভারতের শূন্যরেখায় অবস্থান করেন। পরে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পতাকা বৈঠকের পর তাদের ভারতীয় সীমান্তের সুখদেবপুর এলাকায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়। বিজিবি বলছে, নাগরিকত্ব যাচাই ছাড়া কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, চলতি জুন মাসজুড়ে পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গাসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় একাধিক পুশ-ইন চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। কয়েকটি ঘটনায় মহিলা শিশুসহ বেশ কিছু মানুষ সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকা পড়েন। বিজিবি তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেয়নি এবং বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠক করেছে।
সীমান্তে সতর্ক অবস্থান নিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বহু পুশ-ইন প্রচেষ্টা রুখে দিয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে কয়েক ডজন পুশ-ইন প্রচেষ্টা রুখে দিয়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে নতুন রাজ্য সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পুশ-ইন প্রচেষ্টা বেড়েছে এবং বিজিবি অন্তত ৩০টির বেশি প্রচেষ্টা ব্যর্থ করেছে।
সীমান্ত বিশ্লেষকদের বক্তব্য বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে বেশ কয়েকটি ঘটনায় বিএসএফকে আটকে পড়া ব্যক্তিদের ফিরিয়ে নিতে হয়েছে। ফলে একতরফাভাবে কাউকে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেওয়ার সুযোগ আগের তুলনায় কমেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, যাদের বাংলাদেশি বলে দাবি করে ফেরত পাঠানো হচ্ছে, তাদের সবাই বাংলাদেশের নাগরিক নন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অতীতে পুশ-ইন হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ভারতীয় ও বার্মার নাগরিকও ছিলেন। ফলে নাগরিকত্ব যাচাই ছাড়া কাউকে গ্রহণ না করার নীতি নিয়েছে বাংলাদেশ।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পুশ-ইন ইস্যু দীর্ঘস্থায়ী হলে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ সরকার একাধিকবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ জানিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে পুনর্বাসনের আহ্বান জানিয়েছে।
Comments :0