মুক্তধারা
গল্প
সেদিনের মিছিলে
রাহুল চট্টোপাধ্যায়
২ আগস্ট ২০২৬ | ৪র্থ বর্ষ
পড়ন্ত বিকেল। রাজপথ জুড়ে জনতার ঢল। হাঁটছে মানুষ। শ্লোগান আর গানে নতুনের মিছিলে জীবনের প্রথম পথচলা। দাদার সঙ্গে এসেছে সে। গ্রামের ইস্কুলের ছাত্র। কোনদিন কলকাতায় আসার প্রয়োজন হয় নি। এই প্রথম এত বড়ো শহরে পা রাখা। শিয়ালদায় নেমে আবাক হয়ে যায় সে। কতো বড়ো স্টেশন, কতো লাইন। কি যে বলবে বুঝতে না পেরে দাদার হাতদুটো চেপে ধরে ধরে জীবন। দক্ষিনের এক সুদূর অঞ্চলে যেখানে ছোট একটা ইস্কুল। নীচু বেঞ্চিতে ভালো করে ঢুকে বসা যায় না। ছই দিয়ে আধখানা করা ঘরগুলো। ওরা মোট দশজন।ঘেঁষাঘেঁষি করে হয়ে যায়। খুব বৃষ্টি হলে যখন জল পড়ে ছাদ থেকে তখন এদিক ওদিক করে সরে যায় ওরা। নয়তো ইসকুল বন্ধ হয়ে যায় কদিন। তবু খুব ভালো লাগে জীবনের এই ইসকুল, এই গ্রাম সব। গ্রাম থেকেই সে কলকাতার কথা শুনেছিল, শুনেছিল খুব বড়ো শহর। তার ইচ্ছে বড়ো হয়ে কলকাতার কলেজে পড়বে।
আজ যখন শিয়ালদায় এসে নামলো, তখন দাঁড়িয়ে এসবই ভাবছিল সে। ভাবতে ভাবতে চারিদিক দেখতে দেখতে দাদার হাত ধরে মিশে যায় মিছিলে।
জীবন দেখছে শুধু লোক। সব তার দাদার মতো বয়েস। তারা কি সব বলছে। তার মনে হচ্ছে ওরা তাদের ইস্কুলের অসুবিধার কথাই বলছে। আরো আরো ইস্কুল, কলেজ, পরীক্ষা এসব নিয়ে বলছে। চুপ করে হাঁটতে হাঁটতে জীবনও বলতে থাকে দাদাদের মতো করে। এগিয়ে চলে । মনে হয় সমুদ্রের সঙ্গে চলছে সে। বেশ খুশি খুশি লাগে।
Comments :0