Vindictive on Dharmendra Pradhan's resignation

প্রতিহিংসাপরায়ণ

সম্পাদকীয় বিভাগ

আন্দোলনের চাপে শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করাতে বাধ্য হলেও মোদীর নেতৃত্বে আরএসএস-বিজেপি’র সরকার মন থেকে এটা মেনে নিতে পারেনি। নিট পরীক্ষা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস সহ শিক্ষা ব্যবস্থা সংক্রান্ত যেসব গুরুতর দাবি সামনে রেখে দেশের ছাত্র সমাজ তথা নতুন প্রজন্ম যন্তর মন্তরে ৩৬দিন ধরে অবস্থান বিক্ষোভ এবং সংসদ অভিযান করেছিল তার সঙ্গে সরকার সহমত পোষণ করেনি। সরকার মনে করে এটা এমন কোনও ইস্যুই নয় যে তার জন্য মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। তথাপি পরিস্থিতির চাপে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করলেও শাসক দল তাঁকে সম্মানিত ও গৌরবান্বিত করেছে। তাঁকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছে এবং সংবর্ধিত করেছে। এমনকি নিজের রাজ্য ওডিশাতেও তাঁকে ঘটা করে স্বাগত জানিয়ে কার্যত বীরের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
বিজেপি তাদের নৈতিক অবস্থান ও ক্ষমতার অহঙ্কার থেকে পদত্যাগ মেনে নেয়নি। তাই বিষয়টিকে হালকাভাবেও নিচ্ছে না। যে ছাত্র-যুব সমাজের আন্দোলনের জেরে চরম দাম্ভিক সরকারকেও মাথানত করতে হলো সেই সব ছাত্র-যুবদের যে ছেড়ে কথা বলা হবে না তার ইঙ্গিত মিলছে। যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ বন্ধ করানোর তাগিদে সিজেপি’র কাছে এই প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ্য হয়েছিল যে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সমস্ত এফআইআর প্রত্যাহার করা হবে এবং ভবিষ্যতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে না। কিন্তু বাস্তবে সরকার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে ভিন্ন পথ অবলম্বন করতে চাইছে। ছাত্র নেত্রী ঐশী ঘোষকে গ্রেপ্তারের জন্য আগাম না জানিয়ে সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় দপ্তরে দিল্লি পুলিশের আচমকা হাজির হওয়া থেকে এটা পরিষ্কার। যন্তর মন্তরে ছাত্র বিক্ষোভের অন্যতম সংগঠক ও নেত্রী ছিলেন ঐশী। বিক্ষোভকারীকে হেনস্তা করতে অমিত শাহ’র পুলিশ একটি স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের অফিসে ঢুকে পড়তে দ্বিধা করেনি। বহু দলীয় গণতন্ত্রে স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের সম্মান ও মর্যাদাকে লঙ্ঘন করা হয়েছে।
আবার এই ঘটনার সাফাই দিতে গিয়ে বিজেপি’র প্রাক্তন সভাপতি এবং বর্তমান শীর্ষ মন্ত্রী জে‍‌পি নাড্ডা বলেছেন এটা নাকি নিতান্তই স্বাভাবিক আইন শৃঙ্খলার ঘটনা। পরিষ্কার বলে দি‍‌য়েছেন আন্দোলন করলে যে কোনও পড়ুয়াকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। অর্থাৎ মোদী সরকার পড়ুয়াদের আন্দোলন বরদাস্ত করবে না। পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। প্রতিবাদ, আন্দোলন, বিক্ষোভের গণতান্ত্রিক-সাংবিধানিক অধিকার নাড্ডারা কেড়ে নেবে। নাড্ডা এটাও বলেছেন জরুরি অবস্থার সময় তাঁকেও নাকি পুলিশ একাধিকবার গ্রেপ্তার করেছিল। অর্থাৎ মোদীর মন্ত্রী বর্তমান সময়কে জরুরি অবস্থার সময়ের মতো মনে করছেন। মোদী-শাহ-নাড্ডারা দেশে অঘোষিত জরুরি অবস্থা চালু করেছেন।
প্রসঙ্গত শুধু ঐশী ঘোষ নয় অন্যান্য আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার, হেনস্তা করা, ভয় দেখানোর, হুমকি দেবার নানা কৌশল নেওয়া হয়েছে। ফেস রেকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। পুলিশ ২৮০০ পুরানো অভিযুক্ত যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে বলে জানিয়েছে। বস্তুত, মোদী জমানায় আন্দোলনে অংশ নিয়ে পুলিশের খাতায় নাম ওঠেনি এমন আন্দোলনকারী নেই বললেই চলে। এদের সবাইকেই পুলিশ পুরানো অপরাধী বলে নতুন করে গ্রেপ্তার বা হেনস্তা করার চেষ্টা করছে। ঐশীকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ এসেছিল পাঁচ বছর আগের একটা ছাত্র বিক্ষোভের ঘটনাকে কেন্দ্র করে।
দিল্লির যন্তর মন্তর এবং উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, গুজরাট সহ বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভকারীদের ছেড়ে দেওয়া হলেও সকলের এফআইআর প্রত্যাহার হয়নি। ফলে পরবর্তীকালে যে কোনও সময় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। তেমনি বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে পুরানো মামলা বা এফআইআর খুঁজে বার করা হচ্ছে। সুযোগ বুঝে তাদের গ্রেপ্তার বা হয়রানি করা হবে।
মোদী জমানায় দিল্লি পুলিশ ছাত্র-যুবদের কোনও মতেই মিছিল, জমায়েত, বিক্ষোভ অবস্থানের অনুমতি দেয় না। ছাত্র-যুবরা আন্দোলন করলেই বেআইনি বলে দাগিয়ে দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়। ফলে সব আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধেই অতীতে কোনও না কোনও সময় এফআইআর হয়েছে। এখন সেই সব এফআইআর খুঁজে বের করে অমিত শাহ’র পুলিশ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে চাইছে। ধর্মেন্দ্রর পদত্যাগের বদলা সরকার এভাবেই নিতে চাইছে। কিন্তু সিজেপি নেতারা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভঙ্গ হলে আরও আন্দোলন দেখবে গোটা দেশ।

Comments :0

Login to leave a comment