যাঁরা প্রতিদিন ট্রেনে যাত্রীদের খাবার যোগায়, নিরাপত্তা দেন সেই গরিব রেল হকারদেরই শত্রু ঠাউড়েছে দেশের ডাবল ইঞ্জিন সরকার। কাটোয়া রেল স্টেশনে অপূর্ব সাহা (চাঁদ) সহ গত দু'মাসে পশ্চিমবঙ্গে ৬ জন রেল হকার প্রাণ হারিয়েছেন তাদের পেশা হারিয়ে। কেউ আত্মঘাতী হয়েছেন। কেউবা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। হাজার হাজার মানুষ পেশাচ্যুত হয়ে, বাস্তুচ্যূত হয়ে এখন উদভ্রান্তের মতো জীবন যাপন করছেন। আত্মসমর্পণ নয়, লড়াই করেই এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। দিল্লি সহ গোটা দেশে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঢেউ উঠেছে। আমাদেরও লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। বৃহস্পতিবার কাটোয়া রেলস্টেশন সংলগ্ন ছোট লাইন মোড়ে রেলওয়ে হকার্স ইউনিয়নের ডাকে এক বিক্ষোভ সভায় বলছিলেন সংগঠনের রাজ্য সভাপতি অলকেশ দাস।
তিনি বলেন, বুলডোজার আনা হচ্ছে ভয় দেখানোর জন্য। চেষ্টা হচ্ছে ভয় দেখিয়ে গরিব হকার, রেল হকারদের পেশাচ্যুত করে, বস্তিবাসীদের বাস্তুচ্যুত করে বড় বড় পুঁজিপতিদের জন্য লাভজনক ব্যবসার রাস্তা খোঁজা। গত দু'মাসে উৎপীড়িত মানুষ দলে দলে রাস্তায় নেমেছেন। তাঁরা নিজেদের পেশার জন্য নিজেদের ভিটেমাটি বাঁচানোর জন্য যে লড়াই করছেন সে লড়াই পুঁজির দাসত্ব করছে যে সরকার তার বিরুদ্ধে। আত্মহত্যা পথ নয়। লাল ঝান্ডা শেখায়, দেওয়ালে পিঠ ঠেকলে জোট বাঁধতে হয়, সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হয়। এ সাময়িক হার হচ্ছে পরবর্তী জয়ের পূর্ব শর্ত। মেহনতি মানুষের জয় অনিবার্য। জীবন জীবিকার জন্য মানুষের লড়াই চিরন্তন সত্য। মরার আগে আমরা কিছুতেই মরবো না। ইতিমধ্যেই আমরা দেশের সংবিধান প্রদত্ত অধিকারগুলিকে তুলে ধরে আইন অনুযায়ী আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। সেখানে লড়াই চলছে। রেল দপ্তরের সর্বোচ্চ স্তরে রেল হকারদের পেশা বজায় রাখার জন্য আমরা আমাদের বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছি। হিম্মত নিয়ে রাস্তার লড়াই চালিয়ে যেতে পারলে জয় আমাদের হবেই।
Railway Hawkers Protest
কাটোয়ায় রেল হকারদের বিক্ষোভ সভা
×
Comments :0