Com Mujaffar Ahmed

কমরেড মুজফ্‌ফর আহ্‌মদ— এক অসাধারণ কমিউনিস্ট

সম্পাদকীয় বিভাগ

গোবরা কবরস্থানে কাকাবাবুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন মহম্মদ সেলিম সহ সিপিআই(এম) নেতৃবৃন্দ।

শ্রীদীপ ভট্টাচার্য
কমরেড মুজফ্‌ফর আহ্‌মদ বলতে ভেসে ওঠে চশমা পরিহিত এক শান্ত অথচ দৃঢ়চেতা ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মুখ। খুব সহজেই যা আকর্ষণ করতে পারে। ভারত ভূখণ্ডে এমনকি অবিভক্ত ভারতেও যে কয়জন অসাধারণ গুণ সম্পন্ন মানুষ কমিউনিস্ট আন্দোলনের সূত্রপাত করেছিলেন তাদের অন্যতম মুজফ্‌ফর আহ্‌মদ। ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনের বিকাশ ধারার সাথে পৃথক করে মুজফ্‌ফর আহ্‌মদের জীবন আলোচনা করা সম্ভব নয়। একথা বলা বিন্দুমাত্র অত্যুক্তি নয়, মুজফ্‌ফর আহ্‌মদ ভারতের বুকে শ্রমিকশ্রেণির বিপ্লবী পার্টি তথা কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। এটা ঠিকই ১৯২০ সালের ১৭ অক্টোবর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের তাসখন্দ শহরে যখন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠা হয়, সেখানে মুজফ্‌ফর আহ্‌মদ উপস্থিত ছিলেন না। তাসখন্দে প্রতিষ্ঠার পর পরই কলকাতা সহ দেশের কয়েকটি অঞ্চলে কমিউনিস্ট পার্টির কাজ শুরু হয়। কলকাতা ও যুক্ত বঙ্গে এই ক্ষেত্রে মুজফ্‌ফর আহ্র‌মদই ছিলেন পুরোধা।

প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তিনি মার্কসবাদে আকৃষ্ট হলেন
পরাধীন ভারতে সমাজ সচেতন যুবক হিসাবে ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রামের দিকে তিনি আকৃষ্ট হলেন। বিভিন্ন ধরনের মতাদর্শ নিয়ে তিনি চর্চা করলেন। অভিজ্ঞতাও অর্জন করলেন। ১৯১৭-র নভেম্বর বিপ্লব বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র তথা মার্কসবাদী আদর্শের প্রতি এক প্রবল উৎসাহ দুনিয়া জুড়ে গড়ে তুলেছিল। যুবক মুজফ্‌ফর আহ্‌মদও মার্কসবাদী আদর্শের প্রতি আকৃষ্ট হলেন। সেই সময়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের তীব্র নজরদারির ফলে মার্কসীয় মতাদর্শ বই-পুস্তক খুব সহজে আমাদের দেশে পৌঁছানো সম্ভব ছিল না। গোপনীয়তার সাথে এই ধরনের পুস্তক সংগ্রহ করা যেত। সমস্ত প্রতিকূলতাকে সরিয়ে দিয়ে তিনি মার্কসীয় মতবাদ চর্চা করেছিলেন। কমিউনিস্ট পার্টি ব্যতিরেকে একদিকে ব্রিটিশ শাসনের নাগপাশ থেকে ভারতকে মুক্ত করা সম্ভব হবে না এবং ভারতের বুকে শোষণহীন সমাজও প্রতিষ্ঠা করা যাবে না — মার্কসীয় মতবাদের ভিত্তিতে এই উপলব্ধিতে তিনি উপনীত হলেন।

শ্রেণি আন্দোলন গড়ে তোলায় আত্মনিয়োগ 
কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠা করার সাথে সাথে শ্রেণি আন্দোলন বিশেষ করে শ্রমিক ও কৃষক আন্দোলন গড়ে তোলার কাজে তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করলেন। জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের  বড় যে দুর্বলতা ছিল তা হলো শ্রমিক-কৃষক সহ শ্রেণি আন্দোলনের ধারাকে জাতীয় মুক্তির সংগ্রামে যুক্ত করতে না পারা। প্রকৃত অর্থে কমিউনিস্টরাই প্রথম ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ধারায় শ্রমিক-কৃষকের লড়াইকে যুক্ত করতে সমর্থ হলো। একথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষের সংগ্রামগুলির তীব্র ধাক্কায় স্বাধীনতা আন্দোলনে তীব্র গতিবেগ সঞ্চারিত হলো। কমরেড মুজফ্‌ফর আহ্‌মদ এই কাজে আত্মনিয়োগ করলেন। তিনি প্রত্যক্ষভাবে শ্রমিকদের সংগ্রামগুলি গড়ে তোলার কাজে যেমন যুক্ত ছিলেন, আবার কৃষক সংগ্রাম ও সংগঠন গড়ে তোলার কাজেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

কমিউনিস্টদের সম্পর্কে ব্রিটিশদের চরম আতঙ্ক
কমিউনিস্টদের সম্পর্কে ব্রিটিশদের মধ্যে প্রবল আতঙ্ক ছিল। সেইজন্য সদ্য গড়ে ওঠা কমিউনিস্ট পার্টির বিরুদ্ধে বারবার তারা আক্রমণ নামিয়ে এনেছে। ১৯২০ থেকে ১৯৩০-এর মধ্যেই পেশোয়ার, কানপুর, মিরাট— তিনটা যড়যন্ত্র মামলা তারা নামিয়ে এনেছিল। এই ষড়যন্ত্র মামলাগুলির বিরুদ্ধে আদালতের ভিতরে ও বাইরে কমিউনিস্টদের বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম সমগ্র দেশে কমিউনিস্টদের সম্পর্কে স্বচ্ছ ও স্পষ্ট ধারণা গড়ে তুলতে সাহায্য করল। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা প্রয়োজন, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)’র ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রকৃত অর্থে কোনও ভূমিকা ছিল না। ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে আরএসএস কখনও ব্রিটিশদের শত্রু হিসাবে বিবেচনা করেনি। ১৯৩৯-এ আরএসএস সর সঙ্ঘচালক তার লেখায় উল্লেখ করলেন, কমিউনিস্ট ও সংখ্যালঘুরা (খ্রিস্টান ও মুসলিমরা) ভারতের প্রধান শত্রু। ঔপনিবেশিক সরকারের প্রবল আক্রমণ ও হামলার মধ্যে দাঁড়িয়েও ব্রিটিশবি‍‌রোধী সংগ্রামে কমিউনিস্টরা আপসহীন ভূমিকা পালন করলেন। কমিউনিস্টদের এই বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামে কমরেড মুজফ্‌ফর আহ্‌মদ ছিলেন পুরোভাগে।

পার্টি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক ভূমিকা

শ্রমিকশ্রেণির বিপ্লবী পার্টি গড়ে তুলতে হলে শ্রেণি ও গণআন্দোলন থেকে সঠিকভাবে কর্মী চিহ্নিত করে পার্টিসদস্য হিসাবে গড়ে তোলা প্রয়োজন। এই কাজটির প্রতি তিনি বিশেষভাবে নজর দিতেন। কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যদের মার্কসীয় মতবাদ সম্পর্কে অবহিত হতেই হবে। সেই লক্ষ্যে বাংলা ভাষায় মার্কসীয় পুস্তক প্রকাশনার বিষয়ে তিনি বিশেষভাবে নজর দিয়েছিলেন। ‘ন্যাশনাল বুক এজেন্সি’ গড়ে তোলায় তিনি নেতৃত্বের ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন।
শাখা থেকে শুরু করে পার্টি সংগঠন ও তার কাঠামোর উপযোগিতা সম্পর্কে পার্টি সদস্যদের মধ্যে সঠিক ধারণা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সংগঠন সম্পর্কিত পুস্তকগুলি প্রকাশের ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করলেন।
পার্টি শৃঙ্খলার ব্যাপারে তিনি ছিলেন অত্যন্ত কঠোর। পার্টি শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতা ব্যতিরেকে প্রকৃত কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে উঠতে পারে না। শুধুমাত্র একথা তিনি বিশ্বাসই করতেন না। প্রয়োজনমত এই ব্যাপারে তিনি উদাহরণ তৈরি করেছেন। অত্যন্ত প্রিয় কমরেডেরও অধঃপতন ঘটলে প্রকৃত ও অতি উন্নত মানের কমিউনিস্ট হিসাবে তিনি কঠোর হতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি। আদর্শ কমিউনিস্টের প্রকৃত প্রতিমূর্তি ছিলেন তিনি।
পার্টি গড়ে তুলতে যোগ্য ও উন্নত মানের পার্টি সদস্য প্রয়োজন। সেইজন্য একদিকে যোগ্যতা বিচার করে পার্টিতে সদস্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তিনি ছিলেন অত্যন্ত যত্নবান। নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির সাথে সাথে তিনি সেই সদস্যকে শ্রমিক-কৃষক সহ মূলত শ্রেণি আন্দোলনের সাথে যুক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। কমরেড জ্যোতি বসুর উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। ইংল্যাকন্ড থেকে ব্যারিস্টার হয়ে জ্যোতি বসু দেশে ফিরলেন। ইংল্যােন্ডে থাকাকালীনই তিনি কমিউনিজমের মতবাদের প্রতি আকৃষ্ট হন। দেশে ফেরার সময়ে ব্রিটিশ কমিউনিস্ট পার্টির নেতা, অসাধারণ কমিউনিস্ট নেতা রজনীপাম দত্ত জ্যোতি বসুকে কলকাতায় মুজফ্‌ফর আহ্‌মদের সাথে সাক্ষাৎ করতে বলেন। মুজফ্‌ফর আহ্‌মদ জ্যোতি বসুকে কাঁচরাপাড়ায় রেল শ্রমিকদের মধ্যে কাজ করার পরামর্শ দেন। জ্যোতি বসু একজন শৃঙ্খলাপরায়ণ কমিউনিস্ট হিসাবে সেই কাজে আত্মনিয়োগ করেন।

মতাদর্শের বিচ্যুতির বিরুদ্ধে আপসহীন যোদ্ধা
কমরেড মুজফ্‌ফর আহ্‌মদ সমগ্র জীবনে মার্কসবাদের বিশুদ্ধতা রক্ষার সংগ্রামে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন। পার্টি গড়ে ওঠার প্রথম পর্ব থেকেই যে কোনও বিচ্যুতিকে চিহ্নিত করেছেন এবং আপসহীন সংগ্রাম করেছেন। ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনের দক্ষিণপন্থা ও বাম সঙ্কীর্ণতাবাদী বিচ্যুতির বিরুদ্ধে সংগ্রামে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে তেনালি কনভেনশনে (১৯৬৪ সালের জুলাই মাসে) তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেন। ১৯৬৪ সালে ৩১ অক্টোবর থেকে ৭ নভেম্বর কলকাতায় সপ্তম কংগ্রেসের মধ্য দিয়ে সিপিআই(এম) গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে কমরেড মুজফ্‌ফর আহ্‌মদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। উল্লেখ করা প্রয়োজন, ভারতের বুকে শ্রমিকশ্রেণির নেতৃত্বে বিপ্লবী সংগ্রামের ধারাকে রক্ষা ও পুষ্ট করা তথা মতবাদের বিচ্যুতিকে পরাস্ত করার সংগ্রামের মধ্যেই সিপিআই(এম) গঠিত হয়েছিল।
আবার, এই দেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনে যখন চরম বাম বিচ্যুতির আবির্ভাব ঘটেছে, তার বিরুদ্ধে সংগ্রামে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। ওনার স্নেহের পার্টিকর্মীর মধ্যেও যখন বিচ্যুতি লক্ষ্য করা গেছে, সেখানেও তিনি বিন্দুমাত্র দুর্বলতা প্রকাশ করেননি। পার্টি ও পার্টির স্বার্থকে তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। ‘বন্ধুর চেয়ে পার্টি বড়’ তিনি বারবার একথা স্মরণ করিয়ে দিতেন। কমিউনিস্ট কর্মীদের সততা, আদর্শনিষ্ঠা, সময়ানুবর্তিতা, নীতিনিষ্ঠতাকে অবলম্বন করেই অগ্রসর হতে হবে। এক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র দুর্বলতা পার্টির চরম ক্ষতি করতে পারে — এব্যাপারে তিনি ছিলেন সজাগ ও সতর্ক।

ব্যক্তি সর্বস্বতার চরম বিরোধী 
ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) নিয়মিতভাবে প্রতি বছর ৫ আগস্ট কমরেড মুজফ্‌ফর আহ্‌মদের জন্মদিন পালন করে থাকে। সাধারণভাবে কমিউনিস্ট পার্টিতে এই রেওয়াজ প্রায় নেই। আসলে এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলন এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। এই জন্মদিন পালনের আসল লক্ষ্য ছিল— কমিউনিস্ট পার্টি তথা মার্কসীয় মতাদর্শের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আক্রমণ যা শাসকশ্রেণির পক্ষ থেকে পরিচালিত হচ্ছিল, তার বিরুদ্ধে সমগ্র পার্টিকে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামে শামিল করা। সাথে সাথে সমস্ত ধরনের মতাদর্শগত বিচ্যুতির বিরুদ্ধে সংগ্রামে পার্টিকে ঐক্যবদ্ধ করাই জন্মদিন পালনের লক্ষ্য ছিল।
যদিও তিনি এই জন্মদিন পালনে প্রথমে রাজি ছিলেন না। পরে সমগ্র পার্টি নেতৃত্ব তাকে বোঝাতে সমর্থ হন যে, পার্টির বিশেষ প্রয়োজনে এই জন্মদিন পালনকে ব্যবহার করা হবে।

সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সংগ্রামে মুজফ্‌ফর আহ্‌মদ

ভারতীয় উপ-মহাদেশে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি পরাধীন দেশেই শুরু হয়েছে। হিন্দু মহাসভা থেকে আরএসএস ও মুসলিম লিগ ভারতে ধর্মকে অবলম্বন করে রাজনীতি শুরু করেছে। সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ভারতীয় সমাজে এক দুষ্ট ক্ষতের মতো ভূমিকা গ্রহণ করেছে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় জনগণের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম এর ফলে দুর্বল হয়েছে। মুজফ্‌ফর আহ্‌মদ সহ ভারতের কমিউনিস্টরা প্রথম থেকেই এই সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সংগ্রামে প্রথম সারিতে ছিলেন। কমিউনিস্টদের উদ্যোগেই দাঙ্গার শক্তির বিরুদ্ধে গ্রাম শহরে কৃষক-শ্রমিকের সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল। দাঙ্গার আগুন থেকে জনগণ ও মেহনতি মানুষকে রক্ষা করার ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনে কমিউনিস্টরা উদাহরণ তৈরি করেছিল। তৎকালীন ইতিহাস প্রমাণ করছে সাম্প্রদায়িকতা তথা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিরুদ্ধে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা কমিউনিস্টরা পালন করেছে। এই সংগ্রামে মুজফ্‌ফর আহ্‌মদের ভূমিকা চিরস্মরণীয়।

প্রচারের আলোয় না থেকে নীরবে, নিষ্ঠার সাথে কাজ করা
কমিউনিস্ট কর্মীদের প্রচারের আলোয় থাকার প্রবণতাকে তিনি ঘৃণা করতেন। কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের মধ্যে এই ত্রুটিপূর্ণ প্রবণতা তিনি বুর্জোয়া ভাবধারার প্রকাশ বলে মনে করতেন। আত্মপ্রচারে বিমুখ থেকে শ্রেণি ও জনগণের মধ্যে নিরন্তর কাজ করাই কমিউনিস্টদের গুণ। প্রতিটি কমিউনিস্টকে এই বিশেষ গুণ অর্জন করতেই হবে। উন্নত আদর্শবোধ, শৃঙ্খলাবোধ ও সাংস্কৃতিক চেতনা ব্যতিরেকে একজন প্রকৃত কমিউনিস্ট গড়ে ওঠে না— মনে প্রাণে তিনি এই কথা বিশ্বাস করতেন। শৃঙ্খলাভঙ্গকে তিনি উদারবাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে নয়, কঠোর দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করার কথা বলেছেন। কমিউনিস্ট মূল্যবোধ থেকে বিচ্যুত হলে কমিউনিস্ট হওয়া যায় না— কাকাবাবু বারে বারে একথা মনে করিয়ে দিতেন। কমিউনিস্ট নীতিবোধ ও কমিউনিস্ট গুণাবলী অর্জন করার প্রয়াসে প্রতিটি কমিউনিস্টকে আজীবন যুক্ত থাকতে হবে।

কাকাবাবু— আমাদের পথপ্রদর্শক
শাসকশ্রেণির সর্বাত্মক আক্রমণের সামনে পার্টির কাজ গোপনতার সাথে পরিচালনার প্রয়োজনে ‘কাকাবাবু’ নাম কমরেড মুজফফ্‌র আহ্‌মদ গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তীকালে সমগ্র পার্টিতে তিনি কাকাবাবু নামেই পরিচিত। আজও তিনি ওই নামে পরিচিত। কাকাবাবুর সমগ্র জীবন এক আদর্শ কমিউনিস্টের জীবন। সাম্রাজ্যবাদ, পুঁজিবাদ, জমিদারতন্ত্র, মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িকতা সহ দক্ষিণপন্থার সমস্ত বহিঃপ্রকাশের বিরুদ্ধে কমরেড মুজফ্‌ফর আহ্‌মদ ছিলেন আপসহীন সংগ্রামী। কাকাবাবুর জীবন ও সংগ্রামকে পাথেয় করেই বর্তমান সময়ে আরএসএস-বিজেপি’র কর্পোরেট-হিন্দুত্বর শাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক ও তীব্রতর, ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম গড়ে তোলাই হোক আমাদের লক্ষ্য।

Comments :0

Login to leave a comment